রইল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য টিপস

স্বাস্থ্য টিপস

স্বাস্থ্য টিপস

ডায়াবেটিস এমন এক ধরণের সমস্যা যা একবার হলে সারাজীবন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গেলে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের ভিন্ন ধরণ জিনিস এড়িয়ে চলতে হয়।  রক্তে সুগারের লেভেল বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ডায়াবেটিস চিকিৎসার পাশাপাশি কয়েকটি জিনিস নিয়মিত মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। আমাদের আজকের এই নিবন্ধ তাদের জন্য যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। কারণ এখানে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য টিপস দেওয়া হল। যা প্রত্যেকের ডায়াবেটিস রোগীদের জেনে রাখা উচিত। তবে তার আগে ডায়াবেটিস রোগীদের লক্ষণ কি কি জেনে নিই।

আরও পড়ুনঃ এলার্জি জাতীয় খাবার: এই খাবারগুলি খেলে এলার্জি হতে পারে

ডায়াবেটিস কি?

ডায়াবেটিস এমন একটি সমস্যা যার মধ্যে শরীরে ইনসুলিন নামক হরমোন বেশি পরিমাণে উৎপাদন শুরু হয় বা শরীরে উৎপাদিত হরমোন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ফলস্বরূপ, শরীরের রক্তে চিনির স্তর বৃদ্ধি পায়। বলা হয়ে থাকে যে এই রোগটিকে মূল থেকে নির্মূল করার কোনও উপায় নেই তবে, আমরা যদি রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করি। তবে একটি সাধারণ জীবনযাপন করে বাঁচতে পারে।

ডায়াবেটিস প্রকারভেদঃ

ডায়াবেটিস দুই প্রকারের হয়।

  • Type 1 Diabetes – শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হতে পারে না।
  • Type 2 Diabete – ইনসুলিন শরীরে তৈরি হয় তবে এটি কার্যকর হয় না। এই রোগে রক্তে উচ্চ সুগার বা কম সুগার সমস্যা রয়েছে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণঃ

আজকাল, ডায়াবেটিস একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি চিহ্নিত করা হয় তবে এটি খুব সহজেই চিকিৎসা করা যেতে পারে।

  • ক্লান্ত- ডায়াবেটিসের প্রথম দিনগুলিতে আপনি সারা দিন ক্লান্ত বোধ করবেন। এমনকি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম পাওয়ার পরেও সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেও আপনার ঘুম পাবে। শরীরে সারাদিন ক্লান্তি ভাব লাগে। অর্থাৎ আপনার শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়ছে।
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়াঃ আপনার ডায়াবেটিস হলে ঘন ঘন প্রস্রাব হবে। যখন শরীরের সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় তখন প্রস্রাবের পথ থেকে বেরিয়ে যায়। এই কারনেই ডায়াবেটিস রোগীদের অন্যতম লক্ষণ ঘন ঘন প্রস্রাব।
  • দৃষ্টি কমে আসা- প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবেটিস চোখের ক্ষতি করে। ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে চোখের দৃষ্টি কমতে শুরু করে এবং রোগের শুরুতে ঝাপসা দেখা দেয়।
  • অতিরিক্ত তৃষ্ণা- ডায়াবেটিস রোগী বারবার তৃষ্ণার্ত বোধ করে। কারণ শরীরের জল এবং চিনি প্রস্রাবের পথ থেকে বেরিয়ে যায়, যার কারণে বোধ করে। লোকেরা প্রায়শই এই বিষয়টি হালকাভাবে নেয় এবং বুঝতে পারে না এর আসল কারণ।
  • ওজন হ্রাস- হঠাৎ ডায়াবেটিসের শুরুতে ওজন দ্রুত হ্রাস হতে থাকে।
  • ক্ষুধাও বৃদ্ধি পায়- ডায়াবেটিস রোগীরা ওজন হ্রাস করে তবে ক্ষুধাও বাড়ায়। অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষের ক্ষুধা বেড়ে যায় বহুগুণ। বারবার খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।
  • অসুস্থ বোধ- ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে যে কোনও ধরণের সংক্রমণ দ্রুত নিরাময় হয় না। ভাইরাল, কাশি বা কোনও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হলে স্বস্তি পাওয়া যায় না। মাইনর ইনফেকশন যা সহজেই নিজেরাই নিরাময় করে সেগুলি বড় আকারের ক্ষত হয়ে যায়।

ডায়াবেটিসদের জন্য স্বাস্থ্য টিপস :-

  • নিয়মিত সকালে হাঁটুনঃ

নিয়মিত সকালে হাঁটুনঃ

সূত্র :- usercontent1.hubstatic . com

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্য টিপস যেটা প্রথমে বলা প্রয়োজন তা হল সকালে হাঁটার অভ্যাস। ডাক্তাররাও ডায়াবেটিস রোগীদের হাঁটার পরামর্শ দেন। কারণ এটি এমন একটি শরীরচর্চা যা ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এছাড়াও নিয়মিত হাঁটলে শরীর সুস্থ থাকে। আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের সকালে হাঁটা উচিত।

আরও পড়ুনঃ ৭ টি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যা আপনার ডায়েটে থাকা উচিত

  • খাদ্য তালিকায় ফাইবারযুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজনঃ

খাদ্য তালিকায় ফাইবারযুক্ত খাবার রাখা প্রয়োজনঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে বেশি পরিমাণে ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন- গমের রুটি, ওটস ইত্যাদি। এগুলি ধীরে ধীরে রক্তের প্রবাহে যুক্ত হয়। এইভাবে ইনসুলিন উৎপাদিত গ্লুকোজকে আরও ভালভাবে প্রতিরোধ করতে পারে।

  • বেশি করে শাকসবজি খেতে হবেঃ

বেশি করে শাকসবজি খেতে হবেঃ

সূত্র :- img.webmd . com

ডায়াবেটিস রোগীদের ভাতের পরিমাণ কমাতে হবে এবং শাকসবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে। শাকসবজির মধ্যে করলা, মেথি, পালং শাক, বেগুন, শালগম, লাউ, মূলা, ফুলকপি, বার্লি, ব্রোকলি, ছোলা, পুদিনা, শিম, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেথিঃ নিয়মিত মেথি করবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন

  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সকালে খালি পেটে তুলসী পাতাঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সকালে খালি পেটে তুলসী পাতাঃ

তুলসী পাতায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এছাড়াও কিছু উপাদান রয়েছে যা ইনসুলিন ক্ষরণ বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা যদি সকালে খালি পেটে তিন- চারটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে পারে। তাহলে রক্তে শর্করা পরিমাণ কম থাকে।

  • ডায়াবেটিস রোগীদের চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি পান করা লাভজনকঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের চায়ের পরিবর্তে গ্রিন টি পান করা লাভজনকঃ

গ্রিন টিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল। এটি একটি সক্রিয় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তাই প্রতিদিন চায়ের পরিবর্তে দুইবেলা গ্রিন টি পান করা লাভজনক হবে।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের তালিকা

  • দারচিনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারিঃ

দারচিনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারিঃ

দারচিনি ভারতীয় খাবারের ব্যবহৃত একটি প্রধান মশলা। দারুচিনি ব্যবহারের সাথে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তে চিনির মাত্রা হ্রাস করতে সহায়ক। দারচিনি পিষে গুঁড়ো বের করে নিন এবং এটি গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে এই গুঁড়ো পান করলে বিপদজনক হতে পারে। তাই পরিমাণের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে।

  • ডায়াবেটিস চিকিৎসা মেথির বীজঃ 

ডায়াবেটিস রোগীদের মেথি গ্রহণ করা উচিতঃ

মেথি ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি চমৎকার উপাদান। মেথির বীজে ফাইবার এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা হজমশক্তি এবং কার্বোহাইড্রেট এবং সুগারের মাত্রা শোষণ করে এবং এই বীজ ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস রোগীরা মেথির জল অথবা মেথির শাক খেতে পারেন। তবে মেথির জল নিয়মিত না খাওয়াই ভালো কারণ সুগারের মাত্রা নীচে নেমে যেতে পারে। তাই কতটা পরিমাণে খাওয়া উচিত তা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া শ্রেষ্ঠ হবে।

আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগের প্রতিকার: কিডনি রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার

  • মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুনঃ

মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুনঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। আলু, মধু, চিনি, শরবত, পাকোড়া, গুড়, বার্গার, আইসক্রিম ইত্যাদি থেকে দূরে থাকতে হবে।

  • শরীর সবসময় হাইড্রেট রাখতে হবেঃ

শরীর সবসময় হাইড্রেট রাখতে হবেঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের নিজেদের শরীর সবসময়ের জন্য হাইড্রেট রাখতে হবে। আর আমাদের শরীর তখনি হাইড্রেট থাকবে যখন আমাদের দেহে জলের পরিমাণ পূর্ণ থাকবে। তাই শরীরকে জলের অভাব করতে দেওয়া চলবে না। এই জন্য ডায়াবেটিস রোগীদের প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে।

সারকথাঃ

শরীর হাইড্রেট থাকলে ব্লাড সুগার লেভেল কম হয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আরও পড়ুনঃ আপেল সাইডার ভিনগার যে এত গুণ জানলে অবাক হবেন

ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত নিয়মিত ডায়েট মেনে চলা এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকা। এই নিয়মিত এইভাবে মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

প্রঃ ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল করা কি সম্ভব নয়?

উঃ ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। তবে চিকিৎসা এবং খাওয়া- দাওয়া সঠিকভাবে করলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

প্রঃ ডায়াবেটিস রোগীরা কলা খেতে পারবে?

উঃ ডায়াবেটিস রোগীরা কলা খেতে পারেন তবে অতিরিক্ত নয়। এই সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রঃ ডায়াবেটিস রোগীদের মেথি দিনে কবার খেতে হবে?

উঃ ডায়াবেটিস রোগীদের মেথি কবার এবং কতটা খেতে হবে তা নির্ভর করে সুগারের মাত্রার উপর। তাই আগে সুগারের লেভেল চেক করিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে খেতে হবে।

প্রঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আইসক্রিম কি একদম বারণ?

উঃ ডায়াবেটিস রোগীদের মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেষ্ঠ।

প্রঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলসী পাতা কখন খেতে হবে?

উঃ সকালবেলা খালি পেটে ৩-৪ টে তুলসী পাতা খেলে উপকার হবে।

1 COMMENT

  1. খুব অসাধারন ওয়েব সাইড.স্বাস্থ্য বিষয় সকল কিছু এখানে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here