দাঁতের যত্নঃ কীভাবে নেবেন দাঁতের যত্ন জেনে নিন

দাঁতের যত্ন

দাঁতের যত্ন

সৌন্দর্যের গোপন রহস্য হাসি । আর এই হাসির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়ছে দাঁতের। তাই সুন্দর হাসির জন্য আমাদের প্রয়োজন দাঁতের সঠিক যত্ন। তবে আজকালকার দিনে অধিকাংশ মানুষ দাঁতের সমস্যায় ভুগছে। এর একমাত্র কারণ দাঁতের অবহেলা করা। আমরা শৈশব থেকেই দাঁতের অযত্ন শুরু করি যা বৃদ্ধ বয়সে ভুগতে হয়। নিয়মিত ব্রাশ তো করি। তবে সঠিকভাবে নয়। তাই আজকের আর্টিকেলে আপনাদের সঙ্গে দাঁতের যত্ন নেওয়ার টিপস শেয়ার করে নেব।

কীভাবে নেবেন দাঁতের যত্ন?

কীভাবে নেবেন দাঁতের যত্ন

মুখ এবং দাঁতের যত্ন

মানুষের অঙ্গগুলি সবচেয়ে বেশি অস্থির বা পরিবর্তনশীল অঙ্গ মুখমণ্ডলকে বলা হয়ে থাকে। জীবিত থাকার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন হয় যা প্রথম মুখের দ্বারা গ্রহণ করা হয়। পচন প্রক্রিয়া এর প্রথম ধাপও মুখের ভিতর দাঁত দ্বারা সম্পন্ন হয়। মুখর আকার এবং বিশেষভাবে ঠোঁটগুলির গঠনমূলক চিন্তাভাবনাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে। এর জন্য আমাদের মুখ এবং দাঁতের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। শৈশব থেকেই আমাদের দাঁতের যত্ন নেওয়া উচিত। সকালে এবং রাতে নিয়মিত দুবার ব্রাশ করা উচিত। এবং খাওয়ার পরে কুলকুচি করার অভ্যাস বাচ্চাদেরও শেখানো উচিত।

বাচ্চাদের দাঁতের যত্নঃ

বাচ্চাদের দাঁতের যত্নঃ

জন্মগ্রহণের আগেই মায়ের গর্ভের মধ্যেই বাচ্চাদের দাঁতগুলির প্রথম সেট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গর্ভকালীন অবস্থায় মায়ের খাদ্যের উপর নির্ভর করে বাচ্চাদের দাঁতের গঠন শুরু হয়। তাই গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ করে খাওয়ার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত। গর্ভকালীন সময় যদি মা ভারসাম্যপূর্ণ এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে তবেই গর্ভবতী শিশুদের সঠিক উন্নতি হয়।

শিশুদের খাদ্যের উপর বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। যতক্ষণ না পর্যন্ত বাচ্চাদের দাঁত বেরিয়ে আসে, ততদিন পর্যন্ত বিশেষ নজর দিতে হবে। দুই- আড়াই বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের দুধের দাঁত বের হয়ে যায়। বাচ্চাদের দাঁতের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত কারণ দাঁতের সমস্যা হলে ডাক্তার সময় অনুযায়ী চিকিৎসা করাতে পারবে। বাচ্চাদের দাঁতে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তাই সঠিকভাবে ব্রাশ এবং টুথপেষ্ট ব্যবহার করা উচিত। ব্রাশের খারাপ হওয়ার আগেই ব্রাশের পরিবর্তন করতে হবে।

দাঁত পরিষ্কারঃ

দাঁত পরিষ্কারঃ

নিয়মিত ভালোভাবে ব্রাশ করা উচিত। ব্রাশ করার সময় দাঁতের কোনায় কোনায় ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ দাঁতের কোনায় কোনায় জীবাণু জমা হয়ে থাকে। খুব তাড়াতাড়ি ব্রাশ করলে দাঁতের জীবাণু দূর হয় না। তাই ধীরে ধীরে সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশ করা দরকার।

ফ্লসিংঃ

ফ্লসিংঃ

দাঁতের যত্ন নেওয়ার জন্য ফ্লসিং করা খুব ভালো উপায়। যেইস্মস্ত স্থানে ব্রাশ দিয়েও সঠিকভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না, সেখানে ফ্লসিং ভালোভাবে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।

দাঁতের যত্নের জন্য অতিরিক্ত টিপসঃ

দাঁতের যত্নের জন্য অতিরিক্ত টিপসঃ

• তামাক জাতীয় জিনিস আপনার দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এগুলি দাঁতে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করাতে পারে এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। তাই দাঁতের যত্ন নিতে চাইলে এই সমস্ত জিনিস ত্যাগ করতে হবে।

• দাঁত মজবুত করতে চাইলে ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খান। ভিটামিন সি দাঁতের মাড়ি মজবুত করে এবং দাঁত সাদা করে।

• খবার পরে দাঁত পরিষ্কার করার সবচেয়ে ভালো উপায় মাউথওয়াশ। Listerine and chlorine dioxide সমৃদ্ধ মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।

• তিনমাস অন্তর ব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত।

• ভালো টুথপেষ্ট ব্যবহার করা উচিত।

• নিয়মিত উষ্ণ গরম জলে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা উচিত। এতে দাঁতের মাড়ি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দাঁতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।

তাহলে দাঁতের অবেহেলা না করে আজ থেকে দাঁতের যত্ন নেওয়া শুরু করুন।

সারকথাঃ
প্রতেকের নিয়মিত দু’বার দাঁত ব্রাশ করা উচিত।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

প্রঃ দাঁত ব্রাশ করার সঠিক পদ্ধতি কি?

উঃ দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করা উচিত । উপর থেকে নীচ এবং দাঁতের কোনায় কোনায় ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত?

প্রঃ দাঁতের জন্য কোন মাউথওয়াশ ব্যবহার করা উচিত?

উঃ Listerine and chlorine dioxide সমৃদ্ধ মাউথওয়াশ ব্যবহার সবচেয়ে ভালো।

প্রঃ বাচ্চাদের চকলেট খেলে কি ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভবনা থাকে?

উঃ অতিরিক্ত পরিমাণ চকলেট খেলে বাচ্চাদের দাঁতে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here