বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

বাদামের উপকারিতাঃ

পুষ্টিগুনে দেখতে গেলে বাদামের কোন বিকল্প নেই। এতে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং প্রোটিন উপস্থিত। যা স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্য খুবই উপকারি। বাদাম খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। নিয়মিত বাদাম যে রোগ নির্মূল করে তা কারোর অজানা নয়। কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বাদাম খাওয়ার উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতাও বিদ্যমান। তাই আজ আলোচনা করব বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে। নীচে এই সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

বাদামের প্রকারভেদঃ

বাদাম অনেক রকমের হয়ে থাকলেও সাধারণত বাদাম চার ভাগে বিভক্ত করা হয়। নীচে বাদামের প্রকারভেদগুলি দেওয়া হল –

কাঠ বাদামকে আমন্ড বাদাম বলা হয়। এই বাদাম পৃথিবীতে ভালো জনপ্রিয়। গোলাকার দেখতে এই বাদামটি রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে পাশাপাশি হজমের শক্তি বাড়িয়ে তোলে।

আপনি যদি কাঠ বাদাম কিনতে চান তাহলে আমাদের নীচে দেওয়া লিংকে Click করুন- 

চীনা বাদাম একটু পুষ্টিকর বাদাম। এই বাদামটি অন্যান্য বাদামের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। কারণ এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি। প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে চীনা বাদাম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারি। এছাড়া ত্বক এবং চুলের জন্যও উপকার। এতে ৪.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৭.১ গ্রাম প্রোটিন, ১৩.৬ গ্রাম ফ্যাট এবং ১৫৮ ক্যালরি রয়েছে।

আপনি যদি চীনা বাদাম কিনতে চান তাহলে আমাদের নীচে দেওয়া লিংকে Click করুন- 

  • কাজু বাদামঃ 

কাজু বাদাম আমরা বিভিন্ন ধরণের রান্নায় ব্যবহার করে থাকি। এছাড়াও এই বাদামটি স্বাদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এবং বিভিন্ন ধরণের রোগের জন্য এই বাদাম উপকারি। হার্টের রোগীদের জন্য এই বাদাম খাওয়া ভালো। নিয়মিত এক মুঠো কাজু বাদাম খেলে শরীর যেমন ফিট রাখা যায় ঠিক তেমনি হয়তো এটি আপনাকে ক্যান্সারের হাত থেকে দূরে রাখতে পারে।

আপনি যদি কাজু বাদাম কিনতে চান তাহলে আমাদের নীচে দেওয়া লিংকে Click করুন- 

পেস্তা একটি সুস্বাদু বাদাম। এটি আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর। পেস্তা বাদামে ৫.৮ গ্রাম প্রোটিন, ১৫৬ ক্যালরি, ২.৯ গ্রাম ফাইবার, ১২.৪ গ্রাম ফ্যট সমৃদ্ধ। যা আমদের শরীরের বিভিন্ন অভাব পূরণ করে। এটি শুদ্ধ রক্তকে শুদ্ধ করে। নিয়মিত পেস্তা বাদাম খেলে রোগমুক্ত জীবন পাওয়া সম্ভব।

আপনি যদি পেস্তা বাদাম কিনতে চান তাহলে আমাদের নীচে দেওয়া লিংকে Click করুন- 

 

বাদামের উপকারিতাঃ

বাদামের উপকারিতাঃ

1. ক্লান্তি দূর করেঃ

বাদাম শক্তির ভালো উৎস। বাদাম খাওয়ার ফলে দেহে এনার্জি দেয়। নিয়মিত এই বাদাম খেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।

2. মস্তিষ্কে শক্তিশালী করেঃ

কাজু বাদামে এক প্রকার তেল থাকে যা ভিটামিন বি সমৃদ্ধ। এর জন্য এটি একটি শক্তিশালী খাদ্য হিসাবে পরিচিত। এছাড়াও বাদামে রয়েছে ভিটামিন বি, যা মেমরি শক্তি বৃদ্ধি করে।

3. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ

বাদামে পটাসিয়ামের পরিমাণ উচ্চ মাত্রায় থাকে এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। সোডিয়ামের মাত্রা বেশি হলে দেহে রক্ত বৃদ্ধি পায় তখন রক্তচাপ বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে নিয়মিত বাদাম খাওয়া উপকারি।

কলেস্টেরল কমায়ঃ

4. কলেস্টেরল কমায়ঃ

নিয়মিত বাদাম খাওয়ার দ্বারা কলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাদামে উচ্চ প্রোটিন সামগ্রী হওয়ার কারণে দ্রুত হজমের শক্তি বাড়ায়। তাই কলেস্টেরলের সমস্যা থেকে ভুগছেন এমন মানুষজনকে নিয়মিত বাদাম খেতে হবে।

সুপারিশ নিবন্ধন :- 

5. স্বাস্থ্যকর হৃদয়ঃ

বাদামে এক প্রকার অ্যাসিড পাওয়া যায় যা হার্টের পক্ষে খুব ভালো। এছাড়াও দস্তা, ম্যাগনেসিয়াম, তামা এবং লোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং হৃদরোগের সহায়তা করে।

6. মেজাজ ভাল রাখেঃ

আপনি যদি দিনে একবার অন্তত বাদাম খান তাহলে আপনাকে ক্যালরির জন্য অতিরিক্ত খাবার খেতে হবে না। বাদাম খাদ্য মেজাজ হিসাবে পরিচিত। তাই মনের বিষণ্নতা দূর করে মন রিফ্রেশ করে তোলে।

ক্যান্সার থেকে বাঁচায়ঃ

7. ক্যান্সার থেকে বাঁচায়ঃ

কাজু প্রুনোথোসিনিডিন ফ্লাভোনিওাইডের একটি প্রকার যা ক্যান্সার কোষগুলিকে ক্রমবর্ধমান থেকে আটকায়। কাজু বাদাম নিয়মিত ক্যান্সারের কিছু রূপ থেকে রক্ষা রাখে।

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা নিবন্ধে বাদামের উপকারিতা তো জেনে নিলাম। এবার আসা যাক মাত্রাতিরিক্ত বাদাম খেলে কি কি ক্ষতি হতে পারে। বাদাম বেশি খাওয়া আবার স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। অত্যাধিক পরিমাণে বাদাম খেলে আবার উল্টোটা হতে পারে। তাই নিম্নে বাদামের অপকারিতা রইল –

বাদামের অপকারিতাঃ

বাদামের অপকারিতাঃ

1. ওজন বাড়াতে পারেঃ

বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা নিবন্ধে বাদামের উপকারিতায় আমরা আগেই জেনেছি, এতে উচ্চ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। তাই মাত্রাতিরিক্ত বাদাম খেলে আপনি কিন্তু মোটা হয়ে যেতে পারেন। কাঠ বাদাম ওজন কমায় পাশাপাশি বেশি খেলে ওজন বাড়াতেও পারে। এছাড়াও অন্যান্য বাদাম রয়েছে যা সঠিক মাত্রায় না খেলে ওজন বৃদ্ধি করতে পারে। তাই নিয়মিত খাবারের তালিকায় বাদাম যোগ করলে চার ভাগের এক ভাগ রাখুন।

2. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাঃ

আপনার কাজু বাদাম পছন্দ আর আপনি রোজ প্রয়োজনের থেকে ( ২০০ গ্রাম বা তার বেশি ) খেয়ে ফেলেন। তাহলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারেন। কারণ এটি বাদামে একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

3. অ্যালার্জির সমস্যাঃ

বাদামে প্রচুর পরিমাণে উপকারিতা বিদ্যমান রয়েছে তবু বাদাম খাওয়ার সময় সঠিক পদ্ধতিতে না ব্যবহার করলে কিছু সাইড এফেক্ট দেখা যায়। তার মধ্যে একটি অ্যালার্জির সমস্যা। কারণ বাদামে অ্যালার্জি হওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই বাদাম খাওয়ার আগে সচেতন হন কোন বাদামে আপনার অ্যালার্জি রয়েছে।

সারকথাঃ
স্টাডিজে দেখা যায়, চীনা বাদামে খাওয়ায় কিছু মানুষের এমন অ্যালার্জি হয় যা খুব গুরুতর।

4. ঔষধের কাজকর্মে বাধাঃ

বাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম ঔষধের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে। যার ফলে রোগ নির্মূল হতে দেরি হয়।
আশা করি, বাদামের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলি জেনে গেলেন। এবার সঠিক পরিমাণে বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সারকথাঃ
কোনও কিছু অত্যাধিক খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে উত্তম নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here