গাজরের পুষ্টিগুণঃ নিয়মত গাজর খেলেই হবে রোগ নির্মূল

গাজরের পুষ্টিগুণ

গাজরের নাম আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন আর অব্যশই খেয়েছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এই গাজরের হাজারও গুন লুকিয়ে রয়েছে। তাই নিয়মিত যদি গাজর খাওয়া যায়, তাহলে রোগমুক্ত শরীর পাওয়া অসাধ্য নয়। গাজর বিভিন্ন ভাবে প্রয়োগ করা যায় । তাছাড়াও গাজর কাঁচা খাওয়াও খুব উপকার। যে কোন সময় গাজর খাওয়া যায়। গাজরের জুস এবং সালাডেও ব্যবহার করা যায়। গাজরে ক্যারোটিন নামক এক উপাদান উপস্থিত যা ভিটামিন ‘ এ ‘ তৈরি করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ‘ক্যালসিয়াম’ ও ‘ভিটামিন ‘ সি’ রয়েছে, যা শিশুদের জন্য পারফেক্ট খাদ্য।

গাজর পুষ্টিগুণ ভরপুর সবজি। নিয়মিত এই সবজিটি খাওয়া শরীরের রক্ত বৃদ্ধি হয় । গাজরের রসে ভিটামিন ‘ এ’, ‘ বি’, ‘ সি’, ‘ ডি’, ‘ ই’ এবং ‘ কে’ যা রোগ প্রতিরোধে সক্ষম ।

গাজরের পুষ্টিগুণ

গাজরের পুষ্টিগুণ

জন্ডিস সঙ্গে মোকাবিলাঃ

গাজর প্রাকৃতিক ঔষধ হিসাবে অভিহিত করা হয়। ডাক্তারদের মতে, জন্ডিস রোগীদের নিয়মিত সালাডে গাজর খাওয়া উচিত। কারন গাজরে ক্যারোটিন নামক উপাদান রয়েছে যা ভিটামিন ‘ এ’ তৈরি করে যা জন্ডিসের সঙ্গে মোকাবিলা করে। জন্ডিস হলে গাজরের পায়েস, কাঁচা গাজর এবং গাজরের রস খাওয়া লাভজনক ।

চোখের জ্যোতি বাড়াতেঃ

আজকার মানুষের চোখের সমস্যা বেশি দেখা যায় । বিশেষত শিশুদের, ছোটো বয়স থেকে চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ায় চশমা গ্রহণ করতে হয়। তাই বাচ্চাদের ছোটো থেকে নিয়মিত ১০০ গ্রাম করে গাজর খাওয়ালে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। কারন গাজর চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করার একটি উত্তম শিকড়।

ব্লাড ক্যান্সারে উপকারিঃ

ব্লাড ক্যান্সারে উপকারিঃ

গাজর ব্লাড ক্যান্সার এবং কোলন ক্যান্সার জন্য উপকারি । গাজরে উপস্থিত বিটা – ক্যারোটিন নামক উপাদান যা ক্যান্সার নিয়ন্ত্রনে সক্ষম। নিয়মিত গাজর খেলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে।

হার্টের রোগের জন্যঃ

হার্টের রোগীদের জন্যও গাজর উপকারি। যাদের হার্ট দুর্বল তারা নিয়মিত গাজরের রস খেলে উপকার পায়। হার্টের অসুখ রোধ করতে কাঁচা গাজর সর্বোত্তম ।

নোটসঃ

যারা নিয়মিত ঔষধ সেবন করেন, তারা গাজরের জুস খাওয়ার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন ।

ব্রণ দাগ কমাতে গাজরের পুষ্টিগুণঃ

ব্রণ দাগ কমাতে গাজরের পুষ্টিগুণঃ

গাজরের রস, টমেটোর রস এবং কমলালেবুর রস দীর্ঘদিন ধরে ব্রণ দাগ কমাতে সক্ষম ।

বুকের ব্যথা উপশমঃ

গাজর সেদ্ধ করে ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার পর রস বের করে নিন। এই রসে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে বুকে ব্যথা কমে । বুকের ব্যথা উপশমে গাজরের পুষ্টিগুণ অনেক।

হাড় মজবুত করেঃ

নিয়মিত গাজর খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের ক্যালসিয়াম পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত গাজর খেলে গাজরে সমৃদ্ধ ক্যালসিয়াম শরীরে প্রবেশ করে শরীরের হাড় মজবুত করে । তাই যাদের হাড় সম্পর্কিত সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত গাজর খাওয়ার অভ্যাস করুন ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

গাজরে ভিটামিন “সি” সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যা আমাদের শরীরে ইমুনিটি সিস্টেম শক্তিশালী করে তোলে এবং শরীর থেকে রোগ ব্যাধি দূরে রাখে। যদি আপনার প্রতিরোধক সিস্টেম দুর্বল হয়ে থাকে এবং আপনি যদি ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে নিয়মিত গাজরের রস পান করুন ।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গাজরের উপকারিতাঃ

গাজরের রস রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের রক্ত শর্করার মাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গাজর খুব উপকারি।

চামড়া ভালো রাখেঃ

শরীরের ভিটামিন “এ” অভাবে ত্বক ড্রাই হয়ে যায়। আর এর থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত গাজর খেতে পারেন। কারণ গাজর উপস্থিত ভিটামিন “এ” শরীরে ভিটামিনের অভাব পূরণ করে।

সারকথাঃ

নানা রঙের গাজর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা হয়। দক্ষিণ ভারতে গোলাপি ও লাল রঙের গাজর এবং উত্তর ভারতে লাল ও কমলা গাজর ব্যবহার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here