জেনে রাখুন থাইরয়েড কেন হয় এবং তার প্রতিকার

থাইরয়েড

থাইরয়েড গ্ল্যাড আমাদের শরীরের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন গ্রন্থি। এটি আমাদের গলার মাঝখানে রয়েছে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে T 3 এবং T 4 হরমোন নির্গত হয়, যা শরীরের মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রন করে। পোস্টেরিয়র পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন এই দুটি হরমোনকে ( T 3 , T 4) নিয়ন্ত্রন করে।

থাইরয়েড

Source

চিকিৎসা করালে থাইরয়েড সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। অনেক সময় আমরা সঠিক সময়ে এই রোগের লক্ষণ বুঝতে পারি না। তাই আজকের নিবন্ধ থেকে জেনে নিন থাইরয়েড কেন হয়? এই রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকারের উপায়।

থাইরয়েড কি

থাইরয়েড কি (What is thyroid) 

থাইরয়েড এক ধরনের গ্রন্থি যা গলার ঠিক সামনে থাকে। এই গ্রন্থি আপনার দেহের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ আমরা যে খাবারটি খাই, এটি এটিকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে কাজ করে।

আরও পড়ুন । ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণঃএই লক্ষণগুলি দেখলেই বুঝবেন ডেঙ্গু জ্বর

থাইরয়েড কেন হয়

Source

থাইরয়েড কেন হয় (Why is the thyroid) 

সাধারণত থাইরয়েড গ্রন্থির কম বা বেশি হরমোন নিঃসরণ হয়ে থাকে। হরমোন নিঃসরণ বেশি হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম এবং কম হলে বলে হাইপোথাইরয়েডিজম।

থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন বেশি নিঃসরণ হলে T 3 এবং T 4 কম নিঃসরণ হয় সেটা হাইপোথাইরয়েডিজম। অনুরূপভাবে থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন কম নিঃসরণ হলে T 3 এবং T 4 নিঃসরণ বেশি হয়, তখন সেটা হাইপারথাইরয়েডিজম।

আরও পড়ুন । সহজেই ব্লাড সুগার কমানোর উপায় জেনে রাখুন

থাইরয়েডর লক্ষণ

Source

থাইরয়েডর লক্ষণ (Symptoms of thyroid) 

  • হাইপোথাইরয়েডিজম লক্ষণ (Symptoms of hypothyroidism) 

এতে হরমোন কম নিঃসরণ হয় বলে আমাদের কর্মক্ষমতা শক্তি কমে যায়। বেসাল মেটাবলিক রেট কমে যায়। ফলে শরীরের তাপমাত্রা, পালস রেট, রেসপিরেশন রেট, হার্ট রেট, ডাইজেশন রেট কমে যায়, যার দরুন কাজের উৎসাহ কমে যায়।

রোগীর ওজন বেড়ে যায় এমনকি চামড়াও মোটা হয়ে যায় এবং চর্ম রোগের আক্রান্ত হয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। রক্তে থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন বেড়ে যায়।

  • হাইপারথাইরয়েডিজম লক্ষণ (Symptoms of hyperthyroidism) 

হাইপারথাইরয়েডিজম হল হাইপোথাইরয়েডিজম ঠিক বিপরীত মেরু। আমরা আগেই জেনেছি এতে T 3 এবং T 4 বেড়ে যায় এবং থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন কমে যায়। যার ফলে বেসাল মেটাবলিক রেট বেড়ে যায়। সেই জন্য শরীরের তাপমাত্রা, পালস রেট, রেসপিরেশন রেট, ডাইজেশন রেট, হার্ট রেট বেড়ে যায়।

 ভীষণ গরম লাগে এবং অতিরিক্ত ঘাম হয়। বার বার স্নান করেও শান্তি মেলে না। এই সময় রোগীর প্রচুর খিদে বেড়ে যায় কিন্তু রোগা হয়ে যায়। রাতে ঘুম হয় না, খিটখিটে স্বভাবের হয়ে যায়, সহজেই রেগে যায় এবং মানসিক অবসাদে ভুগে থাকে।

আরও পড়ুন । অলিভ অয়েলঃ ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার

থাইরয়েডে যে খাবারগুলি খাওয়া বারণ

Source

থাইরয়েডে যে খাবারগুলি বারণ (Foods to avoid)

থাইরয়েড আক্রান্ত রোগীদের নিষিদ্ধ খাবার-

আরও পড়ুন । ঘরে বসে চকলেট ফেসিয়াল করার নিয়ম জেনে নিন

থাইরয়েডে যে খাবারগুলি খাবেন

Source

থাইরয়েডে যে খাবারগুলি খাবেন (Foods to eat) 

থাইরয়েড আক্রান্ত রোগীদের যে খাবারগুলি বেশি করে খেতে হবে সেগুলি হল –

আরও পড়ুন । অ্যালার্জি প্রতিরোধঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে অ্যালার্জির চিকিৎসা

থাইরয়েড প্রতিকার করার উপায়

Source

থাইরয়েড প্রতিকার করার উপায় (Ways to cure thyroid) 

থাইরয়েড রোগ থেকে রেহাই পেতে চান, তাহলে রোজ সকালে খালি পেটে লাউয়ের রস খেতে হবে। এবং এটা খাওয়ার পরে এক গ্লাস জলে এক-দু ফোঁটা তুলসীপাতার রস এবং সামান্য পরিমাণ অ্যালোভেরা পাতার রস মিশিয়ে পান করুন। এরপরে আপনি আধ বা এক ঘণ্টা কিছু খাবেন না। নিয়মিত এই পদ্ধতিটি অনুশীলন করলে থাইরয়েড রোগ দ্রুত নিরাময় করা সম্ভব।

  • নিয়মিত আধ থেকে এক ঘণ্টা অবশ্যই ব্যায়াম করবেন ব্যায়াম করলে শরীর ভালো থাকে এবং থাইরয়েড নিয়ন্ত্রনে থাকে।
  • ডাবের জল থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণের জন্য সহায়ক। নিয়মিত ডাবের জল থাইরয়েডের রোগীদের জন্য উপকার।
  • থাইরয়েড রোগীদের খাবারে ভিটামিন এ পরিমাণ বৃদ্ধি করা উচিত। ভিটামিন এ ধীরে ধীরে থাইরয়েড হ্রাস করে। ভিটামিন এ গাজর এবং সবুজ শাক সবজি মধ্যে উচ্চ পরিমাণে পাওয়া যায়।
  • আপনি থাইরয়েড কমাতে চান, তাহলে কালো মরিচ খাওয়া শুরু করুন। কালো মরিচ খাওয়ার মাধ্যমে, থাইরয়েড নিরাময় করা সম্ভব। আপনি যে কোন উপায়ে কালো মরিচ ব্যবহার করতে পারেন।

থাইরয়েডের কেন হয় নিবন্ধে থাইরয়েডের কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকার জেনে গেলেন। এবার একটু সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং সুস্থ থাকুন।

আরও পড়ুন । দৌড়ানোর উপকারিতা: সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত দৌড়ান

Key Point: সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে থাইরয়েড কম করা সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

Q. থাইরয়েড কত ধরণের রয়েছে?

A. থাইরয়েড দুই ধরণের রয়েছে। এক হাইপোথাইরয়েডিজম এবং অন্যটি হাইপারথাইরয়েডিজম।

Q. কোন থাইরয়েডে মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে?

A. হাইপোথাইরয়েডিজম থাইরয়েড মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে।

Q. কোন থাইরয়েডে রোগা হয়ে যায়?

A. হাইপারথাইরয়েডিজম থাইরয়েড রোগা হয়ে যায়।

Q. হাইপোথাইরয়েডিজম লক্ষণগুলি কি কি? 

A. শরীরের তাপমাত্রা, পালস রেট, রেসপিরেশন রেট, হার্ট রেট, ডাইজেশন রেট কমে যায় এবং রোগীর ওজন বেড়ে যায় এমনকি চামড়াও মোটা হয়ে যায় এবং চর্ম রোগের আক্রান্ত হয়ার প্রবণতা থাকে।

Q. হাইপারথাইরয়েডিজম লক্ষণগুলি কি কি? 

A. শরীরের তাপমাত্রা, পালস রেট, রেসপিরেশন রেট, ডাইজেশন রেট, হার্ট রেট বেড়ে যায়। রোগীর প্রচুর খিদে বেড়ে যায় কিন্তু রোগা হয়ে যায় এবং রাতে ঘুম হয় না, খিটখিটে স্বভাবের হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here