ঘরোয়া পদ্ধতিতে পদ্ধতিতে আলসার চিকিৎসা

আলসারের চিকিৎসা

আলসারের চিকিৎসা

আলসার সাধারণত গ্যাস্ট্রিক আলসার অথবা পেপটিক আলসার নামে পরিচিত। এটি সম্ভবত মানুষের পেটের উপরের অংশে অথবা ছোট অন্ত্রের উপরের অংশে ফোঁড়া বা ঘা হয়। অ্যাসিড পেটেরে প্রাচীরে ক্ষতি করে তখন আলসার গঠিত হয়। পুষ্টির ঘাটতি, ,মানসিক চাপ এবং জীবনযাত্রাকে আলসারের প্রধান কারণ হিসাবে মানা হয়। তবে এর পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ভাইরাস। তবে নতুন গবেষণায় আবিষ্কার হয়েছে যে বেশিরভাগ আলসার এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি কারণে ঘটে। যদি সময়মতো আলসার চিকিৎসা না করানো হয় তাহলে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

আলসারের চিকিৎসা জন্য কয়েকটি ঘরোয়া উপায় রয়েছে। আজকের নিবন্ধে আমরা সেই বিষয়ে আপনাদেরকে জানাব। চলুন তাহলে জেনে নিই এই রোগ থেকে বাঁচার কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিকার।

আরও পড়ুনঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেটে ব্যথা কমানোর উপায়

পেটের আলসারের লক্ষণঃ

পেটের আলসারের লক্ষণঃ

সূত্র :- 1.bp.blogspot . com

নীচের এই লক্ষণগুলি সম্ভবত আলসারের লখন হতে পারে।

  • পাকস্থলীতে ব্যথা যা অ্যান্টাসিড, খাওয়া এবং পান করা সময় অনুভব করা যায়।
  • ওজন কমানো।
  • ব্যথার কারণে খেতে না পারা।
  • বমি অথবা বমি বমি ভাব।
  • পেট ফুলে যাওয়া।
  • অ্যানিমিয়া

আরও পড়ুনঃ দাঁতের যত্নঃ কীভাবে নেবেন দাঁতের যত্ন জেনে নিন

আলসারের থেকে বাঁচার কিছু ঘরোয়া প্রতিকারঃ

এই ঘরোয়া পদ্ধতিতে আলসারের চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি আলসার থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে পারেন। নীচে আলসারের ঘরোয়া টোটকা রইল –

  1. আলসারের চিকিৎসায় মধুঃ

আলসারের চিকিৎসায় মধুঃ

মধু একধরণের এনজাইম ধারন করে যা গ্লুকোজ অক্সিডেস নামে পরিচিত। এই এনজাইম হাইড্রোজেন পারক্সাইড তৈরি করে যা পেপটিক আলসার সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়াই করতে সহায়তা করতে পারে।

টোটকাঃ

এক গ্লাস গরম জলে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। ভালো ভাবে মিশিয়ে এক চিমটে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে এই মিশ্রণটি পান করুন দিনে দুইবার।

সারকথাঃ

মধুর নিয়মিত সেবন আলসার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ জেনে নিন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়

  1. আলসারের চিকিৎসায় আদাঃ

আলসারের চিকিৎসায় আদাঃ
সূত্রঃInstagram

অনেকেই মনে করেন আদা খেলে গ্যাসের সমস্যা থেকে রক্ষা করে। একটি আদা আলসারের জন্য যে লক্ষণগুলি বেড়ে ওঠে সেগুলি চিকিৎসা করতে সহায়তা করে। যার মাধ্যমে আলসারের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

টোটকাঃ

এক কাপ জলে এক চা চামচ আদা কুচি মিশিয়ে নিন। এবার এই আদা মেশানো জলটি ৫ মিনিট মতো ফুটিয়ে নিন। ৫ মিনিট পর নামিয়ে ছেঁকে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। নিয়মিত তিনবার পান করলে আলসারের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

  1. আলসারের চিকিৎসায় রসুনঃ

আলসারের চিকিৎসায় রসুনঃ

রসুনের মধ্যে একটি অ্যালিসিন নামক যৌগ উপাদান রয়েছে। এই যৌগটিতে শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি সঙ্গে লড়াই করতে সহায়তা করে। এটি পেপটিক আলসারের জন্য লাভজনক। প্রতিদিন রসুন খাওয়ার মাধ্যমে আলসার থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

সারকথাঃ

রসুনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আলসার প্রতিরোধ করতে এবং তাদের দ্রুত নিরাময় করতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে ঘাড়ে ব্যাথার চিকিৎসা

  1. আলসার চিকিৎসায় হলুদঃ

আলসার চিকিৎসায় হলুদঃ

হলুদ কারকিউমিন নামক একটি যৌগ রয়েছে যা শক্তিশালী অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি ক্রিয়াকালাপ প্রদর্শন করে যা পেটের আলসারের চিকিৎসা পাশাপাশি এই রোগের প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

টোটকাঃ

এক গ্লাস উষ্ণ গরম জলে এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন এবং তার সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। নিয়মিত একমাস ২-৩ বার পান করলে উপকৃত পাবেন।

সারকথাঃ

হলুদ পেটের আস্তরণের সুরক্ষা দিতে পারে এবং আলসার নিরাময়ে সহায়তা করে।

  1. আলসার চিকিৎসায় অ্যালোভেরা জুসঃ

আলসার চিকিৎসায় অ্যালোভেরা জুসঃ

একটি গবেষণায় দেখা যায় অ্যালোভেরা জেলে অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে যা আলসার দ্রুত নিরাময় করতে সহায়তা করে। নিয়মিত এক থেকে দুই কাপ তাজা অ্যালোভেরা জুস খেলে পেটের আলসার সমস্যা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

সারকথাঃ

অ্যালোভেরা পাকস্থলীর আলসার বিরুদ্ধে একটি সহজ ঘরোয়া প্রতিকার।

আরও পড়ুনঃ টনসিলের চিকিৎসা: টনসিলের লক্ষণ এবং ঘরোয়া চিকিৎসা

  1. আলসার চিকিৎসায় যষ্টিমধুঃ

আলসার চিকিৎসায় যষ্টিমধুঃ

যষ্টিমধুর শিকড় আপনার অন্ত্রের প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ফেলে এবং আলসার গঠনে বাধা দেয়। এটিতে অ্যান্টি- এইচ বিদ্যমান যা আলসারের চিকিৎসায় সহায়তা করে।

টোটকাঃ

এক কাপ জলে এক থেকে দুই চামচ যষ্টিমধু চা মিশিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ৫ মিনিট পরে সামান্য মধু মিশিয়ে যষ্টিমধুর চা পান করুন। নিয়মিত ২-৩ বার যষ্টিমধুর চা পান করলে উপকার পাবেন।

সারকথাঃ

যষ্টিমধু আলসার রোগের উন্নতি করতে সহায়তা করে।

  1. আলসার চিকিৎসায় বাঁধাকপি রসঃ

আলসার চিকিৎসায় বাঁধাকপি রসঃ

বাঁধাকপিতে গ্লুটামাইন নামক অ্যামিনো অ্যাসিডের সমৃদ্ধ উৎস। এই যৌগটি আপনার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল আস্তরণের পুষ্টি ও মেরামত করতে সহায়তা করে যা আলসার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এটিতে অ্যান্টি- পেপটিক আলসার ফ্যাক্টর রয়েছে যা আলসার নিরাময়ে সক্ষম।

টোটকাঃ

একটি বাঁধাকপির হাফ অংশ নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। এবার জুসারে দিয়ে জুস বের করে নিন। আলসার নিরাময়ের জন্য বাঁধাকপি জুস নিয়মিত একবার খেতে হবে।

আরও পড়ুনঃ আর্থ্রাইটিস কি, রোগের লক্ষণ এবং ব্যথা কমানোর চিকিৎসা

সারকথাঃ

বাঁধাকপি রসে এমন একটি যৌগিক উপাদান রয়েছে যা আলসার প্রতিরোধ করতে এবং নিরাময় করতে সহায়তা করতে পারে।

আশা করি আলসারের লক্ষণ এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে আলসারের চিকিৎসার কীভাবে করবেন টা জেনে গেলেন। ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি আপনি এই ঘরোয়া টোটকায় আলসার থেকে দ্রুত রেহাই পেতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

প্রঃ আলসারের চিকিৎসায় এই ঘরোয়া উপাদান কি কার্যকর?

উঃ হ্যাঁ, এই ঘরোয়া উপাদানগুলি আলসার প্রতিরোধে সক্ষম।

প্রঃ আলসারের চিকিৎসায় আদার চা কি উপকার?

উঃ হ্যাঁ, আলসার চিকিৎসায় আদার চা উপকারি।

প্রঃ বাঁধাকপি রস খেলে আলসার সারে?

উঃ বাঁধাকপিতে অ্যান্টি- পেপেটিক আলসারের গুণ রয়েছে যা আলসার নিরাময়ে সক্ষম।

প্রঃ অ্যালোভেরা জুস আলসার নিরাময়ের জন্য কতবার খেতে হবে?

উঃ অ্যালোভেরা জুস দিনে ১-২ কাপ অথবা তিন কাপ খেতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here