অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ এবং প্রতিরোধ

অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ

অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ

সূত্র :- ways2gogreenblog . com

রক্তে হিমোগ্লোবিন অথবা লাল রক্তের কোষের কম হওয়ার জন্য অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ দেখা যায়। অনেক বার শরীরে লাল রক্তের কোষ বা হিমোগ্লোবিন তৈরি হতে পা অ্যানিমিয়া একধরনের রোগ বলা হয়ে থাকে। এই রোগ মহিলাদের বেশি দেখা যায় তার কারণ একমাত্র নারীদের পিরিয়ড। রে না অথবা অনেক সময় বেশি রক্ত বেরিয়ে যাওয়ার কারণে শরীরের এর অভাব দেখা যায়।

সাধারণত পুরুষদের মধ্যে ১০০ মিলি গ্রাম রক্তে ১৩.৫ গ্রাম থেকে কম হিমোগ্লোবিন এবং মহিলাদের মধ্যে ১০০ মিলি গ্রাম রক্তে ১২ গ্রাম কম হিমোগ্লোবিন হয়, এটি অ্যানিমিয়ার অবস্থা। অনেক সময় অ্যানিমিয়া রোগীদের বাইরে দিয়ে কোন লক্ষণ বোঝা যায় না আবার অনেক সময় সামান্য লক্ষণ চোখে পড়ে তবে রোগী এড়িয়ে যায়। যার ফলে রোগীর বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেকোনো রোগের লক্ষণ জেনে তার চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

আজকের এই নিবন্ধে অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে আপনাদের জানাব।

আরও পড়ুনঃ ৮ টি লিভার ভালো রাখার খাবার তালিকা

অ্যানিমিয়া রোগ কেন হয়?

অ্যানিমিয়া রোগ কেন হয়

সূত্র :- userfiles.steadyhealth . com

অ্যানিমিয়ার সবচেয়ে বড় কারণ শরীরে মধ্যে আয়রনের অভাব। স্বাভাবিকভাবে একজন ব্যক্তির শরীরের মধ্যে ৩ থেকে ৫ গ্রাম আয়রন থাকে। শরীরের এই আয়রনের মাত্রা যখন কমে যায় তখন অ্যানিমিয়া রোগ হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়ার ফলে আনিমিয়ার রোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়াও শরীরে ক্যালসিয়াম বেশি হয়ে গেলে অ্যানিমিয়া হতে পারে তাই ক্যালসিয়ামযুক্ত অতিরিক্ত খাবার খাওয়া শরীরের জন্য অপকার।

আরও পড়ুনঃ টিউমার চিকিৎসা: ব্রেইন টিউমার কি, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ:

কয়েকটি অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ রয়েছে যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন আপনি অ্যানিমিয়া রোগে আক্রান্ত। নীচে এই রোগের লক্ষণগুলি দেওয়া হল –

  • কাজের সময় ক্লান্ত হয়ে পড়াঃ

কাজের সময় ক্লান্ত হয়ে পড়াঃ

সূত্র :- scarymommy . com

রক্তে হিমোগ্লোবিন কম হয়ে যাওয়ার কারণে এই রোগের রোগীরা খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কাজ করার সময়। একটু কাজ করলেই দুর্বল অনুভব করে ক্লান্ত হয়ে যায়।

সারকথাঃ

ক্লান্তির একটি সাধারণ লক্ষণ হল শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকা।

দিনভর ক্লান্তি অনুভব করাঃ

অ্যানিমিয়া রোগের আক্রান্ত রোগীরা দিনভর দুর্বল অনুভব করে। পরিশ্রম ছাড়াই খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দুর্বল অনুভব করে।

আরও পড়ুনঃ কিডনি রোগের প্রতিকার: কিডনি রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার

  • অ্যানিমিয়ার জন্য চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়াঃ

অ্যানিমিয়ার জন্য চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়াঃ

সূত্র :- i0.wp . com

অ্যানিমিয়া রোগীদের লাল রক্তের কোষ তৈরি হয় না যার ফলে চামড়া হলুদ হয়ে যায়।

  • কখনো কখনো শ্বাস কষ্ট হতে পারেঃ

কখনো কখনো শ্বাস কষ্ট হতে পারেঃ

সূত্র :- healthline . com

কখনো কখনো অ্যানিমিয়া রোগীদের শ্বাস কষ্ট দেখা দেয়। ছোট শ্বাস নেওয়া শরীরে আয়রন ঘাটতির একটি কারণ। কারণ কম হিমোগ্লোবিনের মাত্রা শরীরের পেশী এবং টিস্যুতে অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম নয়। যার জন্য অ্যানিমিয়া রোগীদের কখনো কখনো শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা হয়।

আরও পড়ুনঃ ক্যান্সারের লক্ষণ: কয়েকটি লক্ষণ যা ক্যান্সার রোগের কারণ

  • মাথা ব্যথা সৃষ্টিঃ

মাথা ব্যথা সৃষ্টিঃ

সূত্র :- organicfacts . net

আয়রন ঘাটতির থাকার কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। সব মাথা ব্যথা অ্যানিমিয়ার লক্ষণ নয় তবে এই রোগে মাথা ব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরায়। আয়রন ঘাটতির কারণে লাল রক্তের কোষে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম হয় যার ফলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। যার গফ্লে চাপ সৃষ্টি হয় এবং মাথা ব্যথা করে।

এই লক্ষণগুলি সাধারণত অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ। তাই এই লক্ষণগুলি লক্ষ্য করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুনঃ ট্রেডমিলে অথবা মেশিনে দৌড়ানোর উপকারিতা

অ্যানিমিয়া রোগের প্রতিরোধ করা যায় কীভাবে?

অ্যানিমিয়া রোগের প্রতিরোধ করা যায় কীভাবে

সূত্র :- cdn1.medicalnewstoday . com

অ্যানিমিয়া হলে ডাক্তারের চিকিৎসার অবশ্যই প্রয়োজন। তবে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করতে আমাদের নিজেদের কিছু সচেতনতা মেনে চলতে হবে।

অ্যানিমিয়া রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে আপনার জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। অ্যানিমিয়া রোগ প্রধানত শরীরের রক্তের অভাবেই যেহেতু হয়ে থাকে তাই শরীরে রক্তের মাত্রা সঠিক রাখতে হবে। তাই আপনার রক্তের মাত্রা বাড়ানোর জন্য আপনার খাবারের তালিকা পরিবর্তন করতে হবে। গাজর, পালং শাক, টমেটো এবং সবুজ সবজি যুক্ত করতে হবে। সবজির পাশাপাশি আয়রন ভরপুর খাবার খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ বিকালে দৌড়ানোর উপকারিতাঃ বিকালে দৌড়ানো সত্যিই কি উপকার?

তাহলে অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ এবং এই রোগের প্রতিরোধ জেনে গেলেন। অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণগুলি বুঝতে পারলে অবহেলা না করে অবশ্যই দ্রুত ঔষধ খান এবং সুস্থও থাকুন।

সারকথাঃ

অ্যানিমিয়ার দূর করতে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here