জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা অসাধারণ টিপস

ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা

আপনি যদি মহিলা হন তাহলে রূপচর্চার কথা ভুলে যেতে পারেন না। কারণ নারী ব্যক্তিত্ব মানেই সৌন্দর্য। আজকাল দিনের নারীরা নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সর্বত্র রেডি। শুধু নারীর কথা বললে ভুল হবে এ যুগে পুরুষরাও কোনও অংশে কম না। বলা বাহুল্য তারাও নিজেদের সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পিছিয়ে নেই।

সুন্দর ত্বক ও চুল সবারই আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সুন্দর ত্বক ও চুল পাবেন কি করে? নিশ্চয়ই ভাবছেন না পার্লার বা সৌন্দর্যচর্চার প্রোডাক্ট রয়েছে তো। এইসব কেমিক্যাল প্রোডাক্টের কথা বাদ দিয়ে একটু প্রাকৃতিক উপাদানের উপর ভরসা রাখুন। কারণ কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্টে শুধু একগুচ্ছ টাকাই খরচ হবে না বরং ত্বকের হবে মারাত্মক ক্ষতি। প্রাচীনকাল থেকেই প্রাকৃতিক উপাদানের কদর সর্বত্রই। এর কোনও সাইড এফেক্টও নেই। কিন্তু কীভাবে করবেন প্রাকৃতিক উপাদানে রূপচর্চা ভাবছেন তো। আসুন তাহলে জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা কিছু অসাধারণ টিপস।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা

ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা

1. অ্যাভোকাডো ও ওটমিলের ফেস প্যাকঃ

রূপচর্চায় অ্যাভোকাডো একটি সর্বোত্তম উপাদান। অ্যাভোকাডো উপাদানটি ভিটামিন “সি” এবং ভিটামিন “বি”, ফাইবার, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা ত্বক গ্লোয়িং করে তোলে। এই উপাদানগুলি ড্রাই ত্বক ময়শ্চারাইজার করে রাখে।

টোটকাঃ-

হাফ কাপ অ্যাভোকাডো, ২ টেবিল চামচ মধু এবং হাফ কাপ ওটমিল নিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে নিন ( আপনি চাইলে আপেল সাইডার ভিনিগারও মেশাতে পারেন )। এবার প্যাকটি পুরো মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলবেন।

হলুদের ফেস প্যাকঃ

2. হলুদের ফেস প্যাকঃ

ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা হলুদের জুরি নেই। হলুদে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের ক্ষতিকারক রেডিকেলস অপসারণে সক্ষম। এটি ত্বক পরিষ্কারই রাখে না বরং ত্বক ফর্সা করে তোলে।

টোটকাঃ-

২ টেবিল চামচ হলুদ এবং ৪ টেবিল চামচ আটার দানা নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন ( আপনি চাইলে একটু মধু মিশিয়ে নিতে পারেন )। এবার এই মিশ্রণটি পুরো মুখে এবং গলায় লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্যাকটি শুকিয়ে এলে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলবেন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসতে বাধ্য।

গ্লোয়িং ত্বকের জন্য অ্যালোভেরাঃ

3. গ্লোয়িং ত্বকের জন্য অ্যালোভেরাঃ-

ত্বকের সব সমস্যার মুশকিল আসান হল অ্যালোভেরা। এটি ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে এবং প্রাকৃতিক গ্লো দেয়।

টোটকাঃ

১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা রস, ১ টেবিল চামচ দুধ, ১ টেবিল চামচ মধু এবং এক চিমটে হলুদ একসঙ্গে নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মিশ্রণটি মুখে এবং গলায় লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর হালকা উষ্ণ গরম জলে পরিষ্কার করে নিন।

পি.এইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে বেকিং সোডাঃ

4. পি.এইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে বেকিং সোডাঃ

অনন্তকাল ধরে বেকিং সোডা রূপচর্চার কাজে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। ত্বকের মৃত কোষের সমস্যা দূর করে ত্বকের পি.এইচ লেভেল বজায় রাখে পাশাপাশি ত্বক মসৃণ করে তোলে।

টোটকাঃ-

একটি পাত্রে ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা, হাফ চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। এটি মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে ১০ মিনিট বাদে ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যবহার করুন।

তারুণ্য ধরে রাখতে পেঁপের ফেস প্যাকঃ

5. তারুণ্য ধরে রাখতে পেঁপের ফেস প্যাকঃ

ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা ক্ষেত্রে পেঁপে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। পাকা পেঁপে পেপাইন নামক এক প্রকার উপাদান ধারণ করে যা ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে। এছাড়াও পাকা পেঁপে ত্বকের ময়লা দূর করে ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।

টোটকাঃ-

সমপরিমাণ মধু এবং মুলতানি মাটি সঙ্গে পরিমাণ মতো পাকা পেঁপে ( পেস্ট করা ) মিশিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে নিন। এবার এই পেঁপের প্যাকটি পুরো মুখে এবং গলায় লাগিয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্যাকটি শুকিয়ে এলে ঠাণ্ডা জলে পরিষ্কার করে নিন। ভালো রেজাল্ট পেতে সপ্তাহে অন্তত ১ দিন ব্যবহার করেই দেখুন।

6. ত্বক নরম রাখতে মধুঃ

যখন সৌন্দর্যচর্চার কথা আসে তখন মধুর কথা আমরা ভুলে যেতে পারি না। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা চামড়া নরম এবং সুস্থ করে তোলে। সঙ্গে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।

টোটকাঃ-

প্রথমে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এবার ১ টেবিল চামচ মধু নিয়ে মুখে লাগিয়ে হালকা ভাবে মাসাজ করুন। ৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে নিন।

ত্বক রিফ্রেশ করতে এবং প্রাকৃতিক গ্লো পেতেঃ

7. ত্বক রিফ্রেশ করতে এবং প্রাকৃতিক গ্লো পেতেঃ

কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা ত্বককে রিফ্রেশ করে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক গ্লো ভাব আনতে সহায়তা করে।

টোটকাঃ-

কমলালেবুর খোসা ভালো করে পেস্ট করে তাতে কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল মিশিয়ে পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে নিন।
এবার নিশ্চয়ই ঘরোয়া পদ্ধতিতে রূপচর্চা কীভাবে করবেন জেনে গেলেন। তাহলে দেরি না করে আজই ট্রাই করে দেখুন।

সারকথাঃ
প্রাকৃতিক উপাদান সাইড এফেক্ট নেই তাই এটি ভেষজ ঔষধে ব্যবহার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here