ঘরোয়া পদ্ধতিতে সর্দি কাশির চিকিৎসা

সর্দি কাশির চিকিৎসা

সর্দি কাশির চিকিৎসা

সূত্র :- timesofindia.indiatimes . com

সর্দি কাশি প্রায়ই ঘন ঘন লেগেই রয়েছে শিশু থেকে বড়দের। বিশেষ করে বর্ষাকালে সর্দি কাশিতে মানুষ ভুগে থাকে। বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজলে ইনফেকশনের কারণে সর্দি কাশি হয়। এছাড়াও মরসুমের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়। সর্দি কাশির জন্য শুধু আমরা দিনে ভুগি না বরং রাতে আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আমরা সর্দি কাশির চিকিৎসা জন্য ঔষধ তো খেয়ে থাকি তবে কিছু দিনের মধ্যে ঔষধ খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে আবার এই ভাইরাস ফিরে আসতে পারে।

এই জন্য প্রাচীন কাল থেকে সর্দি কাশি নিরাময়ের জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের উপর ভরসা রাখে মানুষ। কারণ ঘরোয়া পদ্ধতি সর্দি কাশি নিরাময়ের জন্য কার্যকর। আজকের নিবন্ধে সর্দি কাশির কমানোর জন্য ঘরোয়া টোটকার উপদেশ দেব। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া পদ্ধতিতে সর্দি কাশির চিকিৎসা উপায়।

আরও পড়ুনঃ আর্থ্রাইটিস কি, রোগের লক্ষণ এবং ব্যথা কমানোর চিকিৎসা

এখানে সর্দি কাশির চিকিৎসার জন্য ঘরোয়া কিছু টোটকা রইল-

  1. সর্দি কাশির চিকিৎসায় মধুঃ

সর্দি কাশির চিকিৎসায় মধুঃ

সূত্র :- img.webmd . com

মধুতে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস থেকে আমাদের দূরে রাখে। এই ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের কারণে আমাদের সর্দি ও কাশির সমস্যা হয়ে থাকে। এর জন্যও মধু সর্দি কাশির চিকিৎসা উপকৃত। সর্দি ও কাশি হলে বা এই ভাইরাসের হাত থেকে দূরে থাকতে চাইলে দিনে দুই থেকে তিনবার এক চামচ আদার রসে দুই চামচ মধু মিশিয়ে খান।। কিছুদিনের মধ্যে সর্দি কাশি কমে যাবে।

  1. সর্দি কাশির চিকিৎসায় তুলসী পাতাঃ

সর্দি কাশির চিকিৎসায় তুলসী পাতাঃ

সূত্রঃ- Instagram

ভারতীয় সংস্কৃতিতে তুলসী পাতা ভেষজ রুপে ধরা হয়ে থাকে। এতে উপস্থিত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ কাশির চিকিৎসার জন্য অতুলনীয়। কাশির হলে নিয়মিত কয়েকটি তুলসী পাতা ভালোভাবে ঠাণ্ডা জলে পরিষ্কার করে চিবিয়ে খান। এতে কাশি নিরাময় হবে। এছাড়া আপনি যদি নিয়মিত ভোরবেলা তুলসী পাতার রস খান তাহলে সর্দি কাশির হাত থেকে চিরকালের মতো দূরে থাকতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ জেনে নিন ঘরোয়া পদ্ধতিতে ক্যাভিটি দূর করার উপায়

  1. সর্দি কাশির চিকিৎসায় হলুদঃ

প্রাচীনকাল থেকেই হলুদের দুধ স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মানুষ খেয়ে আসছে। এটি ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগা এবং কাশি সারানোর জন্য একটি দুর্দান্ত ঘরোয়া টোটকা। হলুদে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়া গুণ রয়েছে যা কাশির চিকিৎসার জন্য খুব ভালো উপাদান। এছাড়াও এই ভেষজ ঔষধ হলুদের গুঁড়ো বিভিন্ন রোগের ঔষধে প্রয়োগ করা হয়।

এক গ্লাস দুধ গরম করে তার মধ্যে এক চামচ হলুদের মিশিয়ে খেলে সর্দি কাশি খুব দ্রুত দূর হয়। যদি আপনার খেতে সমস্যা হয় তাহলে স্বাদ বাড়ানোর জন্য অল্প পরিমাণে চিনি বা মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি দিনে বা রাতে নিয়মিত একবার খান যতক্ষণ দিন না কাশি নির্মূল হয়ে যায়। তবে সর্দি কাশির ক্ষেত্রে রাতে খেলে রোগীদের গলায় আরাম দেয়।

সারকথাঃ

সর্দি কাশি নিরাময়ে হলুদ দুধ একটি সহজ এবং কার্যকর উপায়।

আরও পড়ুনঃ ড্রাগন ফলের সাইড এফেক্ট আপনার জেনে রাখা উচিত

  1. সর্দি কাশির চিকিৎসায় লবণ জলের কুলকুচিঃ

সর্দি কাশির চিকিৎসায় লবণ জলের কুলকুচিঃ

গলা ব্যথা, কাশির জন্য লবণ জলে কুলকুচি খুব পরিচিত একটি ঘরোয়া টোটকা। যা আমরা প্রায়ই করে থাকি। উষ্ণ গরম জলে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করার সময় আমাদের গলায় আরাম বোধ হয় এবং খুব তাড়াতাড়ি কাশি, ঠাণ্ডা লাগা সেরে ওঠে। নিয়মিত ২-৩ বার উষ্ণ গরম জলে লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করলে উপকৃত হবেন।

সারকথাঃ

লবণ জলে কুলকুচি অ্যান্টি মাইক্রোবিয়ালের মতো কাজ করে যা ফলে আমাদের গলা ব্যথা দূর হয়।

আরও পড়ুনঃ হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত হার্টে ভালো রাখার ব্যায়াম

  1. সর্দি কাশির চিকিৎসায় লেবুঃ

সর্দি কাশির চিকিৎসায় লেবুঃ
সূত্রঃ- Instagram

লেবুতে ভিটামিন সি রয়েছ যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া এতে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল গুণ রয়েছে যা সর্দি এবং কাশির জন্য ভালো উপাদান। সর্দি কাশির হাত থেকে দূরে থাকতে নিয়মিত সকাল এবং বিকালে এক কাপ উষ্ণ গরম জলে এক চামচ লেবুর রস এবং দুই চামচ মিশিয়ে মধু মিশিয়ে পান করুন।

  1. সর্দি কাশির চিকিৎসায় গরম জলের ভাপ নিনঃ

সর্দি কাশির চিকিৎসায় গরম জলের ভাপ নিনঃ

স্টিম আমাদের সর্দির জন্য উপকার। নিয়মিত ২-৩ বার গরম জলের ভাপ নিলে সর্দি কাশি অনেকটা কম হয়। একটি পাত্রে উষ্ণ গরম জল নিয়ে মাথায় তোয়ালে ঢেকে গরম জলের ভাপ নিন। এতে উপকৃত হবেন। তবে খেয়াল রাখলে কোনভাবে খুব গরম ভাপ ত্বকে যান না লাগে।

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যের জন্য আনারসের উপকারিতা

  1. সর্দি কাশির চিকিৎসায় কালো মরিচঃ

সর্দি কাশির চিকিৎসায় কালো মরিচঃ

আমাদের হয়তো অনেকের এটা অজানা কালো মরিচ সর্দি কাশি চিকিৎসা একটি ভালো ঔষধ। এক কাপ গরম জলে এক কাপ কালো মরিচ এবং দুই কাপ মধু মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। কালো মরিচ এবং মধু ভালোভাবে জলে মিশে গেলে পান করুন দিনে ২ বার কাশি দূর করতে।

সারকথাঃ

কালো মরিচ এবং মধু মিশ্রিত জলে খেতে স্বাদ না হলেও এটি সর্দি কাশির চিকিৎসার জন্য কার্যকর।

আরও পড়ুনঃ অ্যানিমিয়া রোগের লক্ষণ এবং প্রতিরোধ

আপনার যদি ঘন ঘন সর্দি কাশির সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে আজকের এই নিবন্ধের টোটকাগুলি বাড়িতে ট্রাই করে দেখতে পারেন আশা করি উপকৃত হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here