6 টি সর্বাধিক এলার্জি জাতীয় খাবার থেকে সতর্ক থাকুন

এলার্জি জাতীয় খাবার

এলার্জি কমবেশি সবারই প্রায় হয়ে থাকে। এলার্জি বিভিন্ন কারনের জন্য হতে পারে যেমন বাইরের ধুলোবালি, ফুলের পরাগ, কোন গন্ধ অথবা আবার কারো এলার্জি জাতীয় খাবার খেলে এই সমস্যা দেখা যায়। এলার্জি তো বিভিন্ন কারণের জন্য হয়ে তবে এলার্জির সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের অনেক সমস্যা দেখা যায়। যেমন গায়ে চাকা চাকা দাগ, জ্বালা, চুলকানি এমনকি কারো কারো শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা যায়।

যাদের এই সমস্যা থাকে তাদের এলার্জির চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। কিছু প্রাকৃতিক উপাদানেও এলার্জি কমানোর উপায় রয়েছে। তবে কিছু কিছু খাবার রয়েছে যেগুলি খেলে এলার্জি বেশি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। যাদের এই সমস্যা রয়েছে তাদের এলার্জি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কিন্তু কোন খাবারগুলি খেলে এলার্জি হয় অনেক সময় আমরা বুঝে উঠতে পারি না।

তাই আজকের নিবন্ধে আমরা কোন কোন খাবার খেলে এলার্জি হয় তা আপনাদের জানাব যাতে আপনারা এগুলি থেকে দূরে থাকতে পারেন। আসুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক এলার্জি জাতীয় খাবার কোনগুলি।

Read more: ৭ টি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যা আপনার ডায়েটে থাকা উচিত

এলার্জি কেন হয় (Why are allergies)

এলার্জি কেন হয় (Why are allergies)

সাধারণত আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা সিস্টেম বাইরের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ থেকে আমাদের রক্ষা করে। কিন্তু কিছু মানুষের খাবার জাতীয় কারণে প্রতিরক্ষা সিস্টেমে সমস্যা দেখা যায়। যার ফলে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষতিকারক পদার্থ আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে এলার্জি সৃষ্টি হয়।

এলার্জি জাতীয় খাবার (Allergic foods) 

এলার্জি জাতীয় খাবার

সম্ভবত নীচের এই খাবারগুলি এলার্জির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই যাদের এলার্জির সমস্যা আছে তাদের এইসমস্ত খাবারগুলি উপর সচেতনতা বাড়াতে হবে।

Read more: ওজন বাড়ানোর খাবার তালিকা জেনে রাখুন

  1. ডিমের সাদা অংশঃ

ডিমের সাদা অংশঃ

আমরা অনেকেই শুনে থাকি ডিম খেলে এলার্জি সমস্যা হয়ে থাকে। হ্যাঁ এটা একদম ঠিক কারণ ডিমকে এলার্জি জাতীয় খাবার তালিকার মধ্যে ধরা হয়। তবে গোটা ডিমকে নয় ডিমের সাদা অংশটিকে। সম্ভবত ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন থাকার কারনেই এলার্জি হয়ে থাকে। ৬০ শতাংশ শিশুদের ডিমের সাদা অংশের জন্য এলার্জি হয়ে থাকে।

Key point

ডিমের সাদা অংশের জন্য এলার্জি একটি কমন খাবার।

Read more: ৮ টি লিভার ভালো রাখার খাবার তালিকা

  1. গরুর দুধঃ

গরুর দুধঃ

গরুর দুধ খেলে স্কিন এলার্জি হতে পারে। গরুর দুধে এলার্জির প্রভাব বেশি পরে তিন বছর বয়সের শিশুদের। গবেষণা দেখা যায় ৯০ শতাংশ তিন বছর কম বয়সী শিশুদের এলার্জি একমাত্র কারণ গরুর দুধ। তাই তিন বছরের কম শিশুদের গরুর দুধ না খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে গরুর দুধে এলার্জি সম্ভবনা শিশুদের তুলনায় অনেক কম থাকে।

Key point

তিন বছরের উপর থেকে শিশুদের এই সমস্যার উন্নতি ঘটতে থাকে।

Read more: দৌড়ানোর পর খাবারঃ দৌড়ানোর পর খাদ্য তালিকা কি কি রাখা উচিত?

  1. বাদামঃ

বাদামঃ

অনেকের বাদামে এলার্জি রয়েছে। বাদাম একটি খুব পরিচিত এলার্জি জাতীয় খাবার। তবে সব বাদামে সবারই যে এলার্জি হবে তা নয়। কিছু বাদাম রয়েছে যেমন ট্রি নাটসে অনেকের এলার্জি হয়। ট্রি বাদামের মধ্যে কাজু, আমন্ড, আখরোট, পেস্তা এবং ব্রাজিল নাটে প্রায়ই সম্ভবত অনেকেরই এলার্জির সমস্যা হয়ে থাকে। পাশাপাশি চিনা বাদাম খেলে মারাত্মক এলার্জি হতে পারে। বিশেষ করে দেখা যায় প্রায়ই চিনা বাদাম খাওয়ানো পর বাচ্চাদের স্কিনে এলার্জি হয়।

Key point

পরীক্ষা করে দেখা যায় ৪ থেকে ৮ শতাংশ বাচাদের এবং ১ থেকে ২ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্কদের এলার্জি কারণ চিনা বাদাম।

  1. গমের আটাঃ

গমের আটাঃ

এলার্জি জাতীয় আরও একটি খাবার হল গমের আটা। গমের মধ্যে প্রোটিন পাওয়া যায় যা থেকে এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে। যদিও এটি বাচ্চাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। গমের থেকে এলার্জি কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। তাই গম থেকে যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে তাদের গমের আটা এড়িয়ে চলতে হবে।

Key point

গমে শত শত প্রোটিন থাকার কারণে ক্ষতিকারক স্কিন এলার্জি হতে পারে।

Read more: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পুষ্টিকর খাবারের তালিকা

  1. সামুদ্রিক মাছঃ

সামুদ্রিক মাছঃ

আমরা হয়তো সবাই এটা জানি সামুদ্রিক মাছে এলার্জির সমস্যা হতে পারে। কিছু ব্যক্তির মধ্যে এই মাছ খাওয়ায় স্কিনে মারাত্মক পরিমাণে এলার্জি হয়। যাদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে তাদের সামুদ্রিক মাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো। স্যালমন, ম্যাকরল, টুনা সামুদ্রিক মাছের এলার্জি হলে স্কিন অত্যাধিক পরিমাণে ফুলে যায়। এছাড়াও কাঁকড়া, চিংড়ি মাছে এলার্জি হয়। তবে মাছ খেলেই যে এলার্জি হবেই তেমন নয়। যাদের মাছে এলার্জি রয়েছে তাদের সমস্যা হতে পারে।

Key point

অনেক মানুষের এক বা একাধিক মাছে এলার্জি রয়েছে।

  1. সয়াঃ

সয়াঃ

তিন বছরের বা তার কম বয়সী থেকে শিশুদের সাধারণ সয়া জাতীয় খাবার থেকে এলার্জি হয়। সয়া বিন, সয়া মিল্ক ইত্যাদি খাবার থেকে শিশুদের দূরে রাখা উচিত।

Key point

১০ বছর বয়সের পর থেকে শিশুদের সয়া থেকে এলার্জি কমে যায়।

Read more: আদর্শ খাবারের তালিকা ও তার শ্রেণীবিভাগ

উপরের এই এলার্জি জাতীয় খাবার তালিকার মধ্যে কোন একটিতে আপনার যদি এলার্জি থাকে তাহলে সেটা এড়িয়ে চলুন।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

Q. শিশুদের কোন খাবারে এলার্জি হতে পারে? 

A. বাচ্চাদের গরুর দুধ, বাদাম, গমের তৈরি খাবার অথবা সয়া বিন ইত্যাদি থেকে এলার্জি হতে পারে।

Q. কোন কোন মাছ খেলে এলার্জি হওয়ার সম্ভবনা থাকে? 

A. স্যালমন, ম্যাকরল, টুনা, সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি মাছে এলার্জি হতে পারে।

Leave A Reply

Please enter your comment!
Please enter your name here