শেয়ার বাজার কাকে বলে এবং তার সম্পর্কিত ধারণা

শেয়ার বাজার কাকে বলে

শেয়ার বাজার হল এমন একটি মাধ্যম যেখানে আপনি শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারেন। শেয়ার বাজারকে অনেকে পুঁজি বাজারও বলে থাকে। শেয়ার বাজারে দালালদের মাধ্যমে শেয়ার কেনা বেচা হয়ে থাকে। কিন্তু শেয়ার বাজার বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। আপনি যদি স্টক মার্কেটে ক্রয় বা বিক্রয় করতে চান বা ভাবছেন কীভাবে করবেন, তাহলে এই নিবন্ধনটি আপনার জন্য রইল। জেনে নিন, শেয়ার বাজার কাকে বলে বা শেয়ার বাজার কী-

শেয়ার বাজার কাকে বলে

1. শেয়ার বাজার কাকে বলে ?

শেয়ার মার্কেট হল স্টক মার্কেট। যেখানে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলি স্টক এক্সচেঞ্জে মাধ্যমে তাদের শেয়ার ক্রয় – বিক্রয় করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ – আপনি কোন কোম্পানিতে শেয়ার ক্রয় করলেন, তাহলে আপনি সেই কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার। এখানে আপনি যখন তখন আপনার শেয়ার বিক্রি করতেও পারবেন।
শেয়ার কেনার দরুন আপনি সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। কোম্পানি যদি অগ্রগতি হয়, তাহলে শেয়ারের মূল্যও বাড়বে। পাশাপাশি মার্কেট শেয়ার বিক্রি করে লাভও পেতে পারেন। বিভিন্ন কারণজনিত একটি শেয়ারের মূল্য প্রভাবিত করে। কখনো এর দাম পড়ে যেতে পারে আবার কখনো দাম উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে মূল্য পতন হ্রাস হয়।

কেন সব কোম্পানি জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে

2. কেন সব কোম্পানি জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে ?

একটি কোম্পানি বিস্তার ও উন্নয়নের জন্য মূলধন ও অর্থ প্রয়োজন। তাই মূলধন বৃদ্ধির জন্য জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে থাকে। কোম্পানীর শেয়ারগুলি ইস্যু করার প্রক্রিয়াকে ইনিশিয়াল পাবলিক অফার (আইপিও) বলা হয়।

সুপারিশ নিবন্ধন :- 

3. বুল ও বিয়ার শেয়ার বাজার কাকে বলে ?

আপনি অব্যশই বুল ও বিয়ার মার্কেট সম্পর্কে শুনেছেন। এই দুটি শেয়ার মার্কেটের অন্তর্ভুক্ত। বুল মার্কেট হল যেখানে শেয়ারের দাম ক্রমবর্ধমান রাখে। পাশাপাশি বিয়ার মার্কেট যেখানে শেয়ারের দাম পতনশীল রাখে।

4. কোথায় শেয়ার বাজার কেনা – বেচার কাজ হয় ?

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ( এন.এস.ই ) ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বি.এস.ই ) এই দুটি ভারতের সবচেয়ে বড় স্টক এক্সচেঞ্জ। এই দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্রোকার বা দালাল মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করে। শেয়ার বাজারে ব্যবসা বা বিনিয়োগ করার জন্য আপনাকে ব্রোকার সঙ্গে একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এবং ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করানোর পর আপনি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন।

শেয়ার বাজার শ্রেণীবিভাগঃ

5. শেয়ার বাজার শ্রেণীবিভাগঃ-

শেয়ার বাজার কাকে বলে নিবন্ধে এখানে দু’ রকমের শেয়ার বাজার দেওয়া হল-

• প্রাইমারী মার্কেটঃ-

একটি কোম্পানি তার তহবিল বাড়াতে প্রাইমারী বাজারে প্রবেশ করে। এই বাজারে মাধ্যমে কোন কোম্পানি জনসাধারণের কাছে তাদের শেয়ার ইস্যু করতে পারে এবং অর্থ বৃদ্ধি করতে পারে। প্রাইমারী বাজারের মাধ্যমে কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত হয়। যদি কোন সংস্থা প্রথমবারের মতো শেয়ার বিক্রি করে, তাকে ইনিশিয়াল পাবলিক অফার (আইপিও) বলা হয়। পরে কোম্পানিটি সর্বজনীন হয়ে ওঠে।

• সেকেন্ডারি বাজারঃ-

সেকেন্ডারি বাজারের মাধ্যমে প্রাইমারী বাজারে কেনা শেয়ারগুলি, সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রি করা যেতে পারে। সেকেন্ডারি বাজার ওটিসি এবং বিনিময় – বাণিজ্যের মাধ্যমে পরিচালনা করে। ওটিসি বাজার হল আনুষ্ঠানিক বাজার, যেখানে দুই পক্ষের ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট চুক্তি অনুযায়ী লেনদেন সম্মত হয়।

সেকেন্ডারি বাজার লেনদেন এমন এক লেনদেন যেখানে একটি বিনিয়োগকারী বর্তমান মূল্যে অন্যেদের কাছ থেকে শেয়ার কিনতে পারবেন। সাধারণত, এই লেনদেন একটি দালাল মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগকারীদের সমস্ত শেয়ার বিক্রি এবং আর্থিক বাজার থেকে প্রস্থান করার সুযোগ দেয়। যেমন- টাটা স্টিলের শেয়ারগুলি ২৩০ টাকায় বাজারে ট্রেডিং করছে। একজন বিনিয়োগকারী এই শেয়ারগুলি বর্তমান বাজার মূল্যে কিনতে পারবেন এবং শেয়ারহোল্ডার হয়ে উঠবেন।

সারকথাঃ

কোম্পানির তহবিল বাড়ানোর এবং বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান ব্যবসার অংশীদারি কিনতে এবং সম্পদ বাড়ানোর উৎসই হল শেয়ার বাজার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here