ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফোস্কা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

ফোস্কা থেকে মুক্তি

আমরা নিজেদের সখ আহ্লাদের জন্য নানা ধরনের জুতো পরে থাকি। তারমধ্যে কিছু চটি জুতো থাকে আবার কিছু হিল জুতো। নতুন জুতো পড়ার ফলে পায়ে ব্যাথা হয় আর সেখান থেকে জন্ম নেয় ফোস্কা। তাই শুধু মুখের যত্ন নিলেই হবে না বরং পাশাপাশি আমাদের পায়ের যত্নও নিতে হবে। ফোস্কা বেশিরভাগ সময় পায়ে হয়ে থাকে সাধারণত ঘর্ষণ ও চাপের ফলে তৈরি হয়

ফোস্কা কী? (What is Blister)source

ফোস্কা কী? (What is Blister)

ফোস্কা হল তরল ভরা একটি প্যাকেট যেটি আঘাত বা সংক্রমণের ফলে ত্বকের উপরের স্তরে তৈরি হয়। বেশিরভাগ ফোস্কা তৈরি হয় ত্বকের বাইরের স্তরে যেমন হাত ও পায়ে কারন ত্বকের বাইরের স্তরটি খুব ঘন। দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটার ফলে ফোস্কা হতে পারে। ফোস্কার আকার বিভিন্ন হতে পারে এবং বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। তবে কাঁচা অবস্থায় ফোস্কায় হাত দিয়ে কখনো গলানোর চেষ্টা করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

আরো পড়ুন। চুল এবং ত্বকের যত্নে মেথি ব্যবহারের উপকারিতা

ফোস্কা হবার কারণ (Cause of Blister)

source

ফোস্কা হবার কারণ (Cause of Blister)

ঘর্ষণের ফলে

source

1. ঘর্ষণের ফলে

ঘর্ষণ ও চাপের প্রভাবে পায়ে বেশিরভাগ ফোস্কা পরে। নতুন জুতো পড়লে এটি সাধারণত হয়ে থাকে। পায়ের ত্বকে ক্রমাগত জুতো বা মোজার ঘর্ষণের ফলে পায়ে জ্বালা অনুভব হয়। পরে সেই অংশে ব্যথা হয় ও জল ভরা প্যাকেট নিয়ে লাল হয়ে ফুলে ওঠে।

জ্বলন্ত

source

2. জ্বলন্ত

ত্বক পুরে গেলে সেখান থেকেও ফোস্কা তৈরি হতে পারে। এই ধরনের ফোস্কা সাধারণত রান্নাঘরে হয়ে থাকে। এর ফলে মুখ, হাত, গলা এইসব জায়গায় ফোস্কা পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। গরম তেল হাতে ছিটে আসলে সেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে ফোস্কা পরে যায়।

ঠাণ্ডার ফলেsource

3. ঠাণ্ডার ফলে

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ত্বকের কোষগুলি হ্রাস করতে পারে। এটি যখন ঘটে তখন দেহের তাপ ধরে রাখতে ফোস্কার উৎপত্তি হয়। তাই পোড়া ফোস্কাগুলির মত ঠাণ্ডার ফোস্কাগুলিও একইরকম দেখতে তাই দুটোকে পৃথক করা কঠিন।

আরো পড়ুন। কালোজিরার তেলের উপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

রোগজনিত কারণেsource

4. রোগজনিত কারণে

কিছু অসুখ আছে যেগুলির জন্য শরীরে ফোস্কা দেখা দেয়। যেমন জল বসন্ত, এর ফলে শরীরের সব জায়গা থেকেই ফোস্কা বেরতে থাকে। এই ফোস্কাগুলি খুব ব্যাথা হয় এবং পরে ফোস্কাগুলির দাগ থেকে যায়।

সাধারণ কিছু কারণে

source

5. সাধারণ কিছু কারণে

সাধারণ কিছু কারণ আছে যার ফলেও ফোস্কা দেখা দিতে পারে। যেমন কোন পোকার কামড়ে, ত্বকে অ্যালার্জি থাকলে, পূজো দেওয়ার সময় ধুপকাঠির ছাই পড়লে, গলে যাওয়া মোমবাতি হাতে বা পায়ে পড়লে, রাসায়নিক পরীক্ষাগারে কোন অ্যাসিড হাতে পড়লে ইত্যাদি।

ফোস্কা রোধ করার উপায়(How to prevent Blister)

ভালো জুতো পছন্দ করা

source

1. ভালো জুতো পছন্দ করা

ফোস্কা থেকে বাঁচার প্রথম উপায় হল আরামদায়ক, ভালো ফিটিং যুক্ত, হিল ছাড়া জুতো পরিধান করুন। হিল যুক্ত জুতো কম সময়ের জন্য পরিধান করার চেষ্টা করুন। খুব বেশি রাস্তা হাঁটার সময় স্যান্ডাল জুতো পড়ুন।

সুতির মোজা পড়ুন। এতে পা ঘামবে না। জুতো পড়ার আগে জুতোর মধ্যে পাউডার দিয়ে দেবেন ফলে জুতোর সাথে পায়ের ঘর্ষণ কম হবে। জুতোর ফলে পায়ে যদি বেশি ঘর্ষণ হতে থাকে তবে সেই জায়গায় প্যাডের একটি স্তর রাখুন।

আরো পড়ুন। এই ৬ টি গরমের ফল আপনার ডায়েটে যোগ করুন

পায়ের ত্বক আর্দ্র রাখুন

source

2. পায়ের ত্বক আর্দ্র রাখুন

পায়ের ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে জুতোর সাথে পায়ের বেশি ঘর্ষণ হবে ফলে ফোস্কা পড়ার সম্ভাবনা থাকে তাই পায়ে সবসময় ফুট ক্রিম বা বডি লোশন লাগিয়ে রাখবেন। এতে একদিকে আপনার পা সুন্দর থাকবে অপরদিকে পায়ে ফোস্কা পড়ার চাপ কম থাকবে।

রান্নাঘর থেকে সাবধান

source

3. রান্নাঘর থেকে সাবধান

রান্না করার সময় ফোস্কা পড়ার চাপ বেশি থাকে। তাই গরম তেলে কিছু ভাজার আগে তেলে অল্প লবণ দিয়ে দেবেন তাতে তেল ছিটে আসা আনেক কমে যায়। মাছ ভাজার সময় করাই ঢেকে ভাজবেন তাহলে মাছের তেল ছিটে আসতে পারেনা।

ফোস্কা থেকে মুক্তি পেতে কিছু ঘরোয়া টোটকা (How to get rid of Blister at home)

ফোস্কা থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া উপায় অনেক আছে তবে প্রথমে যেগুলি আমাদের মা দিদারা করে এসেছেন সেগুলি করা ভালো।

প্রাথমিক চিকিৎসাsource

1. প্রাথমিক চিকিৎসা

অসুখজনিত কারণ ছাড়া কোন কারণে যদি ফোস্কা পরে তবে সেই জায়গায় প্রথমে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধোবেন এবং টুথপেস্ট আর নারকল তেল দেবেন। পরে যদি ব্যথা বেশি অনুভব করেন তাহলে বরফ দিয়ে আলতো করে বোলাতে পারেন।

আরো পড়ুন। কিসমিসের উপকারিতা: শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত কিসমিস

2. গ্রিন টিঃ

গ্রিন টিঃ

source

গ্রিন টি তে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পায়ের ব্যথা হ্রাস করে এবং পায়ের ফোস্কা থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে। এক কাপ গরম জলে ৪-৫ মিনিট গ্রিন টির ব্যাগ ডুবিয়ে রাখুন। ৫ মিনিট পর টি ব্যাগটি বের করে নিন এবং ঠাণ্ডা করে নিন। এবার এই ঠাণ্ডা টি ব্যাগটি পায়ের ফোস্কার উপর রেখে দিন। দিনে ৩-৪ বার একই ভাবে ব্যবহার করলে উপকৃত হবে

3. অ্যালোভেরাঃ

অ্যালোভেরাঃ

পায়ের ফোস্কা থেকে মুক্তি পাওয়ার আরেকটি উপায় হল অ্যালোভেরা। আমরা সবাই জানি অ্যালোভেরায় অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। তবে আপনি জানেন কি এই দুটি উপাদান ত্বক প্রদাহকে কমাতে সহায়তা করে পাশাপাশি ফোস্কা কমাতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরা জেল পায়ের ফোষ্কার উপর লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট বাদে হালকা উষ্ণ গরম জলে ফোস্কা আক্রান্ত অংশে পরিষ্কার করে নিন।

আরো পড়ুন। ডালিমের উপকারিতা :স্বাস্থ্যের জন্য ডালিমের উপকারিতা

4. ক্যাস্টর অয়েলঃ

ক্যাস্টর অয়েলঃ

পায়ের ফোস্কা ঠিক করার জন্য ক্যাস্টার অয়েল একটি কার্যকারী উপাদান। টি ফোস্কা আক্রান্ত অংশ ময়শ্চারাইজ করে যার ফলে জ্বালা হ্রাস হয় এবং ফোস্কা দ্রুত সেরে যায়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি তুলোর বলে ক্যাস্টার অয়েল নিয়ে ফোস্কার উপর লাগিয়ে রাখুন। ২-৩ দিন এইভাবে ব্যবহার করলে খুব দ্রুত ফোস্কা শুকিয়ে যাবে এবং নিরাময় হবে।

5. আপেল সাইডার ভিনিগারঃ

আপেল সাইডার ভিনিগারঃsource

আপেল সাইডার ভিনিগারে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা পায়ের ফোস্কা দূর করতে সক্ষম এবং ইনফেকশন কমাতে সহায়তা করে। একটি পাত্রে আপেল সাইডার ভিনিগার নিয়ে তার সঙ্গে জল মিশিয়ে নিন। এবার একটি তুলোয় করে ফোস্কার উপর লাগিয়ে

আরো পড়ুন। ঘরে বসেই সহজেই করে নিন পেডিকিওর ও মেনিকিওর

6. টি ট্রি অয়েলঃ

টি ট্রি অয়েলঃ

source

টি ট্রি অয়েল অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি- এজেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই এটি পায়ের ফোস্কা দূর করতে উপকারী। একটি কাপে জল এবং নারকেল তেল এবং কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। একটি তুলোর বলে নিয়ে ফোস্কা আক্রান্ত অংশে লাগিয়ে নিন। যাতে ফোস্কা দ্রুত সেরে ওঠে।

Key Point: পায়ের ফোস্কা অবহেলা করলে ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই ত্বকের সাথে সাথে পায়ের যত্ন নেওয়া দরকার।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

Q. অ্যালোভেরা জেল পায়ের ফোস্কা কি সত্যিই দূর করে?

A. যেহেতু অ্যালোভেরায় অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে তাই এটি ফোস্কা দূর করতে কার্যকর।

Q. নারকেল তেল দিলে ফোস্কা কমায়?

A. নারকেল তেলের সাথে টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করলে দ্রুত কাজ দেবে। উপরের টি ট্রি অয়েলের টোটকা অনুশীলন করুন।

Q. টুথপেস্ট কি ফোস্কা নিরাময় করে?

A. টুথপেস্ট ত্বকের যে কোন জ্বালা, পোকার কামড়, ফোস্কার জন্য ব্যভার করা যেতে পারে কারণ এটি হল একটি জীবাণুনাশক, অ্যান্টিসেপ্টিক, ছত্রাকনাশক। এটি চুলকানি বন্ধ করতে সাহায্য করবে।

Q. ফোস্কা নিরাময় কোন মলম ভালো?

A. ফোস্কাতে পেট্রোলিয়াম জাতীয় মলম লাগান। খুব ভালো কাজ করবে। আর ঠাণ্ডা অনুভব পাওয়ার জন্য অ্যালোভেরা জেল লাগাতে পারেন।

Previous articleবিভিন্ন ধরনের ন্যানো কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য
Next articleবন্ডের প্রকারভেদঃ বন্ড কি এবং তার প্রকারভেদ
হাই, আমি তিশা সেন। একজন ব্লগ লেখিকা এবং স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। আমার প্যাশন মানুষের শরীর- স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা। মানুষের শরীরের রোগ সংক্রান্ত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখার টিপস নিয়ে লেখালেখির কাজ করতে ভালোবাসি। আমার লক্ষ্য রোগের এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। বিভিন্ন ধরণের রোগের চিকিৎসার উপায় জেনে নিজেকে সুস্থ রাখুন এবং নিজের সৌন্দর্যকে বজায় রাখার টিপস জানতে আমাদের এই পেজ অনুসরণ করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here