ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং ব্যবহার করার টিপস

ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা

আমরা সৌন্দর্যচর্চার জন্য বিভিন্ন ধরণের ফেসিয়াল করে থাকি। আর সেটা যদি হয় ফ্রুট। তাহলে তো কোন কথায় নেই। কারণ ফ্রুটে সব রকমের প্রোটিন বিদ্যমান। ফ্রুট হল প্রাকৃতিক স্পা। ফ্রুটের গুণের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা হয়তো অনেকের অজানা। ফ্রুটের বাইরে এবং ভিতরে দুটি অংশই খুব কার্যকারী। আমরা সাধারণত ফ্রুট খেতে বেশি পছন্দ করি। কিন্তু আপনি কি কখনো ফ্রুট ফেসিয়াল মুখে প্রয়োগ করে দেখেছেন? ফ্রুট ফেসিয়াল অন্যান্য ফেসিয়ালের মতো ত্বকের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।

আপনি বাড়িতেও কিছু উপকরণ দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন ফ্রুট ফেসিয়াল। তাহলে চলুন জেনে নিন ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা এবং ব্যবহার করার টিপস।

ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা

ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা

  1. ত্বক ময়েশ্চারাইজঃ

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বক থেকে মুক্তি পেতে ফ্রুট ফেসিয়াল করুন। ফ্রুটে সমৃদ্ধ এনজাইম ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে এবং আপনাকে একটি শিশুর মতো নরম ত্বক দেয়।

  1. ত্বকের রং ফেরায়ঃ

ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা মধ্যে একটি হল ত্বক পলিসিং। ফ্রুট একটি ভালো স্ক্রাব (যেমন- পেঁপে) যা ত্বকের রং ফিরিয়ে আনে এবং ত্বক মসৃণ করে।

ত্বক তরতাজা করেঃ

  1. ত্বক তরতাজা করেঃ

ত্বকে ফ্রুট ফেসিয়াল করলে ত্বক নরম এবং মসৃণ হয়ে ওঠে। ফ্রুটে ভিটামিন সমৃদ্ধ যা ত্বকের বিবর্ণ ভাব সরিয়ে ত্বক তরতাজা করে তোলে।

  1. ডার্ক সার্কেল রিমুভ করেঃ

অনেক সময় রাতে দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকার জন্য বা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে চোখের চারিদিকে বা ত্বকে ডার্ক সার্কেল দেখা যায়। ত্বক দেখতে দেখায় নিস্তেজ ও বিবর্ণ। এর থেকে মুক্তি পেতে ভিটামিন “কে” ও “বি” যুক্ত ফ্রুটের ফেসিয়াল করুন।

  1. ব্রণ কমায়ঃ

ব্রণ সত্যিই খুব বিরক্তিকর সমস্যা। অধিকাংশ ব্যক্তি এই বাজে সমস্যায় ভুগে থাকেন। ব্রণ অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হয়। ফ্রুট ফেসিয়াল ত্বকের অয়েল ভাব দূর করে ত্বকের ব্রণ কমাতে সহায়তা করে।

ফ্রুট ফেসিয়াল এর উপকারিতা তো জেনে গেলেন এবার আসা যাক ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফ্রুট ফেসিয়াল কথায়। নীচে ঘরে বসে ফ্রুট ফেসিয়াল করার টিপস রইল আপনাদের জন্য –

ফ্রুট ফেসিয়াল ব্যবহারের টিপসঃ

ফ্রুট ফেসিয়াল ব্যবহারের টিপসঃ

ফ্রুট ফেসিয়াল করার জন্য পার্লারে লাইন দিয়ে সময় নষ্ট করার কোনও দরকারই নেই। কারণ ফ্রুট ফেসিয়াল আপনি বাড়ি বসেই করতে পারবেন। তাই নীচে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফ্রুট ফেসিয়ালের কিছু টিপস রইল আপনাদের জন্য।

শুষ্ক ত্বকের জন্য ফ্রুট ফেসিয়ালঃ

উপকরণঃ-

  • এক টেবিল চামচ ওটমিল
  • এক টেবিল চামচ টমেটো
  • এক টেবিল চামচ টক দই

ব্যবহারের করার প্রণালীঃ-

  • প্রথমে টমেটো রস বের করে নিন।
  • একটি পাত্রে ওটমিল এবং টক দই নিয়ে টমেটোর রস মিশিয়ে নিন।(আপনি চাইলে মধু মিশিয়ে নিতে পারেন)
  • এবার মিশ্রণটি পুরো মুখে এবং গলায় লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন।

এই ফেসিয়ালটি মৃত কোষ সরিয়ে শুষ্ক ত্বক থেকে রেহাই দেবে।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফ্রুট ফেসিয়ালঃ

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফ্রুট ফেসিয়ালঃ

উপকরণঃ

  • হাফ কাপ দুধ
  • অর্ধেক শসা
  • এক টেবিল চামচ ব্রাউন সুগার
  • এক টেবিল চামচ মধু

ব্যবহারের প্রণালীঃ

  • অর্ধেক শসা ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন।
  • এবার একটি পাত্রে দুধ, ব্রাউন সুগার, মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  • মিশ্রণটিতে শসার রস মিশিয়ে নিন।
  • এবার প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ঠাণ্ডা জলে পরিষ্কার করে নিন।

নরমাল ত্বকের জন্য ফ্রুট ফেসিয়ালঃ

নরমাল ত্বকের জন্য ফ্রুট ফেসিয়ালঃ

উপকরণঃ-

  • একটা কিউই
  • একটা অ্যাভোকাডো
  • দুই টেবিল চামচ মধু

ব্যবহারের প্রণালিঃ

  • কিউই এবং অ্যাভোকাডো ফল দুটি ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন।
  • এবার মিশ্রিত ফ্রুটে মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন।
  • মুখে এবং ঘাড়ে এই প্যাকটি লাগিয়ে রাখুন।
  • ২০-২৫ মিনিট বাদে শুকিয়ে এলে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। এবং ময়শ্চারাইজার ক্রিম লাগিয়ে নিন।

কিউই এবং অ্যাভোকাডো রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

সাইড এফেক্ট নেইঃ

পার্লারে ফ্রুট ফেসিয়ালে কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করায় সাইড এফেক্ট হতে পারে। কিন্তু পার্লারের পরিবর্তে যদি প্রাকৃতিক ফল দিয়ে ফেসিয়াল করেন তার কোন সাইড এফেক্ট নেই। উপরন্তু আপনার ত্বক সুন্দর হয়ে উঠবে।

ফলের অ্যাসিড, যা “আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিডস” নামে পরিচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here