হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা আপনাদের জেনে রাখা উচিত

হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর দিনটি ” গ্লোবাল হ্যান্ড ওয়াশিং ডে” হিসাবে পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী সবাইকে ইনফেকশনের হাত থেকে সুরক্ষিত করাই এই দিনটির একমাত্র লক্ষ্যে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীরের অনেক রোগই ব্যাকটেরিয়া থেকে জন্মায় যার একমাত্র কারণ হাত না ধোয়া। খাওয়ার আগে ও পরে বা খাবার পরিবেশন করার সময় হাত ধোয়ার অভ্যাস আমাদের রোগ মুক্ত জীবন দেয়। তাই সুস্থ থাকতে প্রথমেই যেটা প্রয়োজন সাবান বা এন্টিসেপটিক দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। তাই আজ এই আর্টিকেলে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করব।

হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

সূত্র :- cdc.gov

  1. হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা আমাদের স্বাস্থ্যের উপর বিরাট প্রভাব ফেলে। বিশেষত শিশুদের রোগ নির্মূল করতে হাত পরিষ্কার রাখা জরুরী।

  1. ব্যাকটেরিয়া দূর করতে

ব্যাকটেরিয়া সব জায়গায় ছড়িয়ে। আমাদের শরীরে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে কিছু ভালো আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া খারাপ। এই খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলি আমাদের দেহে ক্ষয় করে দিতে পারে। যার জন্য আমরা অসুস্থ হতে পারি।

বাড়ি হোক বা কর্মক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে থাকে বাথরুমে। ব্যাকটেরিয়াগুলি মোবাইল, জামাকাপড়, সাজসরঞ্জামে স্থানান্তরিত হয়। মানুষ চোখ, নাক, মুখে হাত দেয় অন্যমনস্ক ভাবে। আর এইভাবেই হাতে থাকা জীবাণু চোখ, মুখের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং রোগব্যাধি সৃষ্টি করে। এর থেকে মুক্তি নিয়মিত সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন।

ডায়রিয়া এবং অন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

সূত্র :- medicalnewstoday . com

  1. ডায়রিয়া এবং অন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

ডায়রিয়া এবং অন্ত্রের সমস্যা ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত খাওয়ার আগে এবং পরে হাত ধোয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ ডায়রিয়া। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার দ্বারা এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায় পাশাপাশি কৃমি সংক্রান্ত জটিলতা রোধ করা সম্ভব।

  1. চোখের ইনফেকশন কমাতে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

চোখের ইনফেকশন সাধারণত আমাদের হাতে থাকা ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্টি হয়। চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা মহান কাজ। কিন্তু এটা অসম্ভব। কারণ আমরা অন্যমনস্ক ভাবে চোখে হাত দিয়ে ফেলি। অন্যথায় এর আরও একটি বিকল্প রয়েছে। চোখের ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। এটি কনজেন্টিটিভাইটিস, বা গোলাপী চোখের সংকোচন সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে।

সুপারিশ নিবন্ধন :- 

কর্মক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া থেকে দূরে থাকতে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

সূত্র :- health.harvard . edu

  1. কর্মক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া থেকে দূরে থাকতে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা

অফিসের ব্যবহৃত সাজসরঞ্জামগুলি মধ্যে জীবাণু থাকে যা হাতের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। তাই হাত ধোয়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত অফিস গ্যাজেটগুলি নিয়মিত অ্যালকোহল ভিত্তিক পণ্য দিয়ে পরিষ্কার করলে জীবাণু দিয়ে দূরে থাকা যায়।

  1. মেডিকেল ঝুঁকি কমায়ঃ

হাসপাতাল অথবা অন্যান্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে হাত ধোয়া ফলে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা লাভ করা হয়। ১৯ দশকে ভিয়েনা হাসপাতালে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসক তার সমস্ত কর্মীদের চিকিৎসা করার আগে হাত ধোয়ার নির্দেশ দিতেন। যার ফলে রোগী মৃত্যুর হার হ্রাস পায়। কারন মৃত্যু রোগীদের ব্যাকটেরিয়া কর্মীদের হাত থেকে রোগীদের শরীরে প্রবেশ করত। যার ফলে মৃত্যুর হার বেশি ছিল। হাত ধোয়ার নির্দেশ থেকে মেডিকেল ঝুঁকি হ্রাস হয়।

হাত কখন ধোয়া উচিত

সূত্র :- istockphoto . com

হাত কখন ধোয়া উচিত?

  • খাওয়ার আগে এবং পরে।
  • খাবার তৈরি করার আগে এবং পরে।
  • পরিবেশন করার আগে।
  • অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা করার আগে এবং পরে।
  • টয়লেট ব্যবহার করার পরে।
  • হাত নোংরা হলে।
  • দীর্ঘক্ষণ ধরে মোবাইল ফোন, গাড়ি, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করার পরে।
  • পোষা জীবজন্তু ধরার পর বা জীবজন্তু খাবার ধরার পর।
  • আবর্জনা ধরার পর।
  • হাঁচি দেওয়ার পর।

তাহলে বুঝতেই পারছেন। হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে সুস্থ থাকতে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলন আজ থেকেই।

সারকথাঃ

হাত ধোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। এই অভ্যাস অসুস্থ থেকে সুস্থ হওয়ার কৌশল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here