শীতকালীন ফুলঃ শীতকালীন রঙিন ও বাহারি ফুলের বৈশিষ্ট

ডালিয়া ফুলঃ

শীত মানেই প্রাণের ছোঁয়া। হিমের কনকনে ঠাণ্ডা আর চারিদিক কুয়াশাচ্ছন্ ঢাকা প্রকৃতি, সঙ্গে পুলিপিঠে। যেন এক অপূর্ব পরিবেশের মেল বন্ধন। তার সঙ্গে বাড়তি পাওনা বাহারি রঙের শীতকালীন ফুল । এমন কোন মানুষ নেই যে ফুল ভালবাসে না।
ফুল হল পবিত্রতা ও ভালবাসার প্রতীক। শীতকালীন ফুল লাগানোর উপযুক্ত সময় হল নভেম্বর মাস। শীতকালে বিভিন্ন ধরণের নাম না জানা, রঙিন ফুল ফোটে। অনেকেই টবে বা বাগানে রঙিন ফুল লাগাতে পছন্দ করেন। ফুল প্রেমিকদের জন্য রইল কিছু রঙিন শীতকালীন ফুল এর বৈশিষ্ট।

ডালিয়া ফুলঃ

সূত্র :-  longfield-gardens . com

ডালিয়া ফুলঃ

শীতকালীন ফুল এর মধ্যে ডালিয়া খুব বিখ্যাত। বর্ণ বৈচিত্র, বড় আকারের ও নিবাসের জন্য এটি জনপ্রিয়। ডালিয়া গাছের উচ্চতা ১০০ থেকে ১৫০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। ডালিয়া বিভিন্ন রঙের হতে পারে। এই ফুলের নামকরণ হয়েছিল সুইডেনের আন্দ্রেডালের নামানুসারে।
লাল রঙের ডালিয়া চল খুব বেশি। সিঙ্গেল, ডবল শো ফ্যান্সি, রেড মনার্ক, ক্যাকটাস, স্টার প্রভৃতি উন্নত মানের ডালিয়া।এই ফুলগুলি সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে।

সূর্যমুখীঃ

এটি শীতকালীন ফুল। এটি দেখতে সূর্যের মতো। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকার জন্য এর নাম সূর্যমুখী। এর বীজ হাঁস, মুরগী খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়। পৃথিবী বিভিন্ন দেশে এর ব্যাপক চাষ হয়। এই তেল অন্যান্য রান্নার তেলের তুলনায় ভালো। সূর্যমুখী তেল হৃদরোগের পক্ষে উপকারি। এই গাছ ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

চন্দ্রমল্লিকাঃ

সূত্র :- indiamart . com

চন্দ্রমল্লিকাঃ

সাধারণত অক্টোবর – নভেম্বর মাসে এই গাছের ফুল ফোটে। এই ফুল প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরে ধরনের হয়ে থাকে। এই গাছের ফুল প্রায় ২০-২৫ দিন তাজা থাকে।
এই গাছ ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। চন্দ্রমল্লিকার আদি নিবাস চীনে। চীনে এটি ঔষুধিগাছ হিসেবে পরিচিত। ফুলগুলি সাধারণত গোলাকার, পুরু ধরনের হয়ে থাকে। পাঁপড়িগুলি লম্বা, উঁচু ও সরু হয়ে থাকে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ চেক করুন :-
শীতকালীন ফ্যাশন
বাচ্চাদের জন্য শীতকালীন পোশাক

কসমসঃ

কসমস বাহারি রঙের শীতের ফুল। এগুলি অধিকাংশ বিদেশি ফুল। কসমস গাছের ফুলগুলি বাগানে সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। এই ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হল ” কসমস বিপিন্নাতুস”।
এই ফুলগুলি বৈশিষ্ট হল একই গাছে বিভিন্ন রঙের ফুল ফোটে ( যেমন- সাদা, গোলাপি, বেগুনি, লাল, কমলা, হলুদ ইত্যাদি। ফুলগুলি হালকা সুগন্ধি বিশিষ্ট। ফুলগুলি ৩-৪ সেন্টিমিটার চওড়া হয়ে থাকে। পাতাগুলি খাঁজকাটা হয়।

জিনিয়াঃ

ধুসর সবুজ রঙের ক্ষুদ্রাকৃতি এই ফুল বেশ নজরকড়া। এই ফুলের গাছ ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। লাল, গোলাপি, বেগুনি, সাদা রঙের বৈচিত্রময়। এর আদি নিবাস মেক্সিকো।

• গাঁদাঃ

এই ফুলটি খুব জনপ্রিয়। বেশিরভাগ বাড়ির টবে বা বাগানে এই ফুল দেখা যায়। শীত হোক বা গরম সব সময় এই ফুল ফোটে। কিন্তু শীতকালে এর চাষটা বেশি। লাল, হলুদ, কমলা রঙের হয়ে থাকে। গাঁদা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে যেমন- চায়না গাঁদা, রক্ত গাঁদা, দেশি গাঁদা, বড় ইনকা গাঁদা প্রভৃতি।

গোলাপঃ

সূত্র :- hgtv . com

• গোলাপঃ

গোলাপ সারাবছর এ চাষ হয়ে থাকে। ফুল প্রেমীদের পছন্দের ফুলের তালিকায় গোলাপ শীর্ষ স্থান দখল করে। লাল গোলাপ ভালবাসার প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত। এছাড়াও ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে।
অধিকাংশ ফুল প্রেমীরা বাড়ির টবে, বাগানে এই সুগন্ধি যুক্ত ফুল লাগান। বিদেশি গোলাপের মধ্যে – এলিজাবেথ, ব্ল্যাক প্রিন্স, রানি এলিজাবেথ, ইরান, রোজ গুজার্ড, কুইন এলিজাবেথ, জুলিয়াস রোজ জনপ্রিয়।

ক্যামেলিয়া

এটি একটি বিদেশি ফুল। সাধারণত ফুলটি সাদা ও লাল রঙের হয়ে থাকে। অনেকটা দেখতে গোলাপের মতো। এক স্তর বা বহু স্তর পাপড়ি যুক্ত হয়ে থাকে। চা গাছের মতো এর পরিচর্যা করতে হয়। এই ফুলটি সাধারণত বছরে একবারই ফোটে। একবছর সময় লাগে ফুল ফুটতে।

প্যান্সিঃ

শীতের সব চাইতে সুন্দর ফুল হল প্যান্সি। এটি দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো। এর গঠনটা অনেকটা আলাদা ধরনের, ফুলের নিচের দিকে তিনটি পাপড়ি থাকে আর উপরের দিকে দুটি। সাধারণত টবে এটি ভালো ফোটে।

সারকথাঃ
এই ধরনের ফুলগুলি আপনার বাড়ির বাগানে হোক বা টবে, প্রাকৃতিক শোভাময় বাড়িয়ে তুলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here