
টেলিভিশনের জগতে তারকাদের ট্রোলিংয়ের শিকার হওয়া নতুন কিছু নয়, তবে কিছু ট্রোলিং যখন মাত্রা ছারিয়ে যায় তখনই শুরু হয় বিতর্ক। সম্প্রতি চরিত্র নিয়ে এক চূড়ান্ত কুরুচিকর কটাক্ষের মুখে পড়লেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা ভট্টাচার্য। তবে মুখ বুজে সহ্য না করে, কুৎসিত মন্তব্যকারী নেটিজেনকে কড়া ভাষায় উচিত জবাব দিলেন রুবেল-ঘরণী।
বিগত প্রায় ১৬ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে ৯টিরও বেশি মেগা সিরিয়ালে নায়িকা চরিত্রে কাজ করেছেন শ্বেতা। যার বেশিরভাগই বিপুল সফলতা পেয়েছে। সম্প্রতি স্বামী রুবেলের হাত ধরে রান্নার জনপ্রিয় শো ‘শাশুড়ি বউমার রান্নাঘর’-এর সেটে হাজির হয়েছিলেন শ্বেতা। সেই আনন্দের মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই ধেয়ে আসে কিছু মানুষের চরম নোংরা মন্তব্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মহিলা নেটিজেন শ্বেতাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘কাজ নেই নাকি সারাদিন জি বাংলার সকল অনুষ্ঠানে যাওয়া ছাড়া, জি বাংলার হেড এর রাতের সঙ্গী’। একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর যোগ্যতা ও চরিত্র নিয়ে এমন প্রকাশ্য নোংরা মন্তব্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিনেত্রীর ভক্তরা।
তবে এই নোংরা কমেন্টের যোগ্য জবাব দিতে শ্বেতা লেখেন, ‘বাহ্হহহহ দারুণ কথা বলেন তো আপনি… হ্যাঁ আমি আর রুবেল দুজনেই রাতের সঙ্গী।’ এরপরেও শ্বেতা ওঁর আর রুবেলের নাম জড়িয়ে উত্তর দিলেও ওই নেট-নাগরিক নিজের নোংরামি থামাননি। উল্টে আরও একধাপ এগিয়ে থ্রিসামের প্রসঙ্গ টানেন। চরিত্র নিয়ে নোংরা ভাষায় কথা বলতেই শ্বেতা সেই ট্রোলারকে সপাট জবাবে লেখেন— ‘ওয়াও আপনি এটাও জানেন… দারুণ ব্যাপার তো’। শ্বেতার এই তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ও ঠাণ্ডা মাথার জবাব দেখে ট্রোলারের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।
অর্ঘ্য সেন নামের আরেক ট্রোলার যখন শ্বেতাকে ‘মাসি’ বলে কটাক্ষ করেন। জানান, জি-এর তরফে মল সাফ করার ডাক পরেও শ্বেতা পিছপা হবেন না। শ্বেতা সেখানেও হাসির ইমোজি দিয়ে লেখেন— ‘ঠিক… আর মাসি চলেও যাবে… আর যখন সেই ছবি মাসি পোস্ট করবে, সেই পোস্টে কমেন্ট করতে পিসি ঠিক চলে আসবে।’
শ্বেতা আজ ১৬ বছর ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতার জোরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে আছেন। তাই কোনো চ্যানেলের অনুষ্ঠানে ডাক পাওয়াটা তার যোগ্যতার প্রমাণ, তা কোনও ‘নেপোটিজম’ বা কুৎসিত উপায়ের ফল নয়। না জেনেই যারা কুৎসা রটাতে ভালোবাসেন, শ্বেতার এই ‘যোগ্য জবাব’ তাদের গালে একটি বড়সড় চড়।
