সত্যেন্দ্রনাথ বসু শৈশব, কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবন

satyendranath dutta

সূত্রঃ- i . ytimg . com

পুরো নামঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসু

জন্ম তারিখঃ  ১ লা জানুয়ারি,  ১৮৯৪ সাল

বয়সঃ  ৮০

জন্মস্থানঃ  কলকাতা

পেশাঃ  পদার্থবিজ্ঞানী

জাতীয়তাঃ  ভারতীয়

পিতার নামঃ  সুরেন্দ্র নাথ বোস

শিক্ষাঃ  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

মৃত্যু দিবসঃ  ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সাল

SATENDRANATH

সূত্রঃ- cloudfront . net

সত্যেন্দ্রনাথ বসু একজন অসামান্য  বাঙালি পদার্থবিজ্ঞানী ছিলেন। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর গবেষণা “বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিকস” এবং “বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট” তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। মহান ভারতীয় বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ  বোস  ভারতীয় বিজ্ঞানী আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান অর্থাৎ কোয়ান্টাম ফিজিক্সকে একটি নতুন দিকনির্দেশ দিয়েছেন। তার রচনাগুলি মহান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন দ্বারা প্রশংসিত। এবং তারা একসঙ্গে বহু  তত্ত্বের প্রস্তাব করেছিলেন। তার গবেষণা  কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান বিষয়টিকে নতুন দিক দেখিয়েছেন এবং বহু বিজ্ঞানী তার আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার জয় করেছিলেন।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জীবনীঃ 

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর শৈশব  জীবন (Satyendra Nath Boses Early Life):

SATYENDRA NATH

সূত্রঃ- i2 . wp . com

১৮৯৪ সালে ১ লা জানুয়ারি  কলকাতার ঈশ্বর মিত্র লেনে সত্যেন্দ্রনাথ বোস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা সুরেন্দ্র নাথ বোস পূর্ব ভারত রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সত্যেন্দ্র তাঁর সাত ভাই-বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা তাঁর বাড়ির কাছে একটি সাধারণ স্কুলে ছিল। তারপরে তিনি নিউ ইন্ডিয়ান স্কুল এবং তারপরে হিন্দু স্কুলে ভর্তি হন।

স্কুল শেষ করার পরে তিনি কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। তাঁর সম্পর্কে একটি মজার বিষয় হ’ল তিনি তার সমস্ত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করতে থাকেন এবং তিনি প্রথম স্থান অর্জন করতে থাকেন। তাঁর প্রতিভা দেখে লোকেরা প্রায়শই বলে যে যে তিনি এগিয়ে গিয়ে একজন মহান গণিতবিদ বা বিজ্ঞানী হয়ে উঠবেন।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ক্যারিয়ার জীবন (Satyendra Nath Boses Career  Life):

sn bose b

সূত্রঃ- 2 . bp . blogspot . com

সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯১৫ সালে এম.এস.সি. (গণিত) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন।  কলেজের অধ্যক্ষ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাঁর প্রতিভা জানতেন এবং তাকে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক পদে নিযুক্ত করেন। ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে নিযুক্ত ছিলেন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পাঠক হিসাবে যোগদান করেন। এরপরে তিনি পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন। সেইসময়টি ছিল তার পদার্থবিদ্যায় নতুন আবিষ্কারের সময়। কোয়ান্টাম তত্ত্বটি জার্মান পদার্থবিদ ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক উপস্থাপন করেছিলেন। জার্মানিতেই আলবার্ট আইনস্টাইন “আপেক্ষিকতা তত্ত্ব” প্রস্তাব করেছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ বোস এই সমস্ত আবিষ্কার অধ্যয়ন ও গবেষণা করছিলেন।

অন্যান্য কিংবদন্তিদের সম্পর্কে জানতে নীচে ক্লিক করুনঃ

সত্যেন্দ্রনাথ  কোয়ান্টাম পরিসংখ্যানের ভিত্তি একটি রচনা  লিখে ব্রিটিশ জার্নালে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তবে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। এরপরে তিনি সরাসরি আলবার্ট আইনস্টাইনের নিকটে প্রেরণ করেন। আইনস্টাইন এর গুরুত্ব বোঝে এবং গণিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেন এবং Zeitschrift für Physik নামে জার্নালে প্রকাশ করেন। এরপরে এই দুই মহান বিজ্ঞানী একসাথে অনেক গবেষণা নিয়ে কাজ করেন।

SATYENDRANATH

সূত্রঃ- i . pinimg . com

এদিকে, বোস ফিজিক্স জার্নালে প্রকাশের জন্য আরও একটি কাগজ প্রেরণ করেছিলেন। জার্নাল এই কাগজটি প্রকাশ করেনি, এবং বোস আবার এই কাগজটি আলবার্ট আইনস্টাইন  আইনস্টাইনের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। আইনস্টাইন এ সম্পর্কে আরও কিছু গবেষণা করার সময় যৌথভাবে Zeitschrift für Physik পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। এই কাগজটি ‘বোস-আইনস্টাইন সংখ্যাতত্ত্ব’ নামে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যায় একটি নতুন শাখার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এটির মাধ্যমে সমস্ত ধরণের বোসন কণার বৈশিষ্ট্যগুলি সনাক্ত করা যায়।

এরপরে বোস ১৯২৪ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত ইউরোপ ভ্রমণ করেছিলেন যেখানে তিনি মেরি কুরি, পাওলি, হাইজেনবার্গ এবং প্ল্যাঙ্কের মতো বিজ্ঞানীদের সাথে কাজ করেছিলেন। বার্লিনে আইনস্টাইনের সাথেও তার দেখা হয়েছিল। ইউরোপে প্রায় দু’বছর  কাটিয়ে পরে ১৯২৬ সালে ঢাকা ফিরে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে আবেদন করেছিলেন। তবে পিএইচডি না করার কারণে এই পদের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন নি। সত্যেন্দ্রনাথ বসু আইনস্টাইনের কাছ থেকে একটি প্রশংসা গ্রহণ করেছিলেন যার ভিত্তিতে তিনি এই কাজটি পেয়েছেন। ১৯২৬ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকেন এবং সেই সময় তিনি তত্ত্বীয় পদার্থ বিজ্ঞান ও এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফির ওপর কাজ করেন।

১৯৪৫ সালে কলকাতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন এবং পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কলকাতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবসর গ্রহণ করে শান্তিনিকেতন চলে আসেন। তবে সেখানে বেশিদিন থাকতে পারে নি ১৯৫৮ সালে তাকে আবার কলকাতায় ফিরে আসতে হয়েছিল। একই বছর তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো  হিসাবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। ভারত সরকার তার প্রতিভা বিবেচনা করে তাকে পদ্মভূষণ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ব্যক্তিগত জীবন (Satyendra Nath Boses Personal Life):

STYENDRANATH

সূত্রঃ- www . assignmentpoint . com

তিনি ২০ বছর বয়সে তিনি ঊষাবতী সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং এই দম্পতির নয়টি সন্তান জন্ম দেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত দুটি সন্তান মারা যান।

পুরস্কার ও সম্মান (Awards and honors):

bose_einstein_composite (1)

সূত্রঃ- www . assignmentpoint . com

  • ভারত সরকার এই বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানীকে ১৯৫৪ সালে বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে তার পদের জন্য পদ্ম বিভূষণ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
  • ১৯৮6 সালে কলকাতায় সরকার এস.এন. বোস ন্যাশনাল সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্সে প্রতিষ্ঠা করেছিল।

মহাপ্রয়াণঃ

SATYENDRA

সূত্রঃ- pbs . twimg . com

১৯৭৪ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তখন সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ৮০ বছর বয়স ছিল।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

প্রঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসু কবে জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসু  ১৮৯৪ সালে ১ লা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

প্রঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর পিতার নাম কি?

উঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর পিতার নাম সুরেন্দ্র নাথ বোস।

প্রঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছিলেন?

উঃ কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে।

প্রঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসু কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ কলকাতার ঈশ্বর মিত্র লেনে।

প্রঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসু কবে মারা যান?

উঃ  ১৯৭৪ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here