অরবিন্দ ঘোষ শৈশব, শিক্ষা, পরিবার এবং কর্মজীবন

sree arabinda

sree arabinda

সূত্রঃ- www . studyiq . com

পুরো নামঃ  শ্রী অরবিন্দ ঘোষ

জন্মঃ ১৫ ই আগস্ট, ১৮৭২

জন্মস্থানঃ কলকাতা

জাতীয়তাঃ ভারতীয়

বাবার নামঃ কৃষ্ণ ধন ঘোষ

মায়ের নামঃ স্বর্ণলতা দেবী

শিক্ষাঃ লোরেটো কনভেন্ট স্কুল,  লন্ডনের সেইন্ট পলস

মৃত্যুঃ  ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫০

মৃত্যুস্থানঃ পন্ডিচেরি

arabinda ghoshসূত্রঃ- www . anandabazar . com

অরবিন্দ ঘোষ বহুমুখী মানুষ ছিলেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, কবি, পণ্ডিত, যোগী এবং মহান দার্শনিক ছিলেন। তিনি তার জীবনে ভারতের স্বাধীনতা এবং পৃথিবীতে জীবনের উন্নয়নের দিকে উৎসর্গ করেছিলেন।

অরবিন্দ ঘোষের জীবনীঃ 

অরবিন্দ ঘোষের শৈশব এবং পারিবার (Aurobindo Ghose’s Early Life & Family):

Sri aurobindoসূত্রঃ- upload . wikimedia . org

অরবিন্দ ঘোষ কলকাতায় ১৮৭২ সালে ১৫ ই আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন কৃষ্ণ ধন ঘোষ এবং মা স্বর্ণলতা দেবী। তার বাবা একজন সার্জন। অরবিন্দ ঘোষ প্রভাবশালী রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত নেতা  রাজ নারায়ণ বোস ছিলেন শ্রী অরবিন্দ ঘোষের মাতামহ।

অরবিন্দ ঘোষের শিক্ষাজীবন (Aurobindo Ghose’s Education Life):

arabinda

সূত্রঃ- thecuratedlifeblog . files.wordpress . com

অরবিন্দ ঘোষের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন তাকে দার্জিলিংয়ের লোরেটো কনভেন্ট স্কুলে পাঠানো হয়েছিল। দু’বছর পরে, ১৮৭৯ সালে, অরবিন্দ ঘোষকে তার ভাইয়ের সাথে উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। অবশেষে তিনি লন্ডনের সেইন্ট পলস থেকে পড়াশোনা শেষ করেন এবং ১৮৯০ সালে ১৮ বছর বয়সে অরবিন্দ ঘোষ কেমব্রিজে ভর্তি হন। বাবার ইচ্ছাকে অনুসরণ করতে তিনি কেমব্রিজে থাকাকালীন আইসিএসের জন্যও আবেদন করেছিলেন। ১৮৯০ সালে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে তিনি অশ্বারোহীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হন এবং তাই তাকে ভারত সরকারের সিভিল সার্ভিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

অরবিন্দ ঘোষের কর্মজীবন (Aurobindo Ghose’s Career):

arabindo

সূত্রঃ- nextfuture . aurosociety . org

১৮৯৩ সালে অরবিন্দ ঘোষ ভারতে ফিরে আসেন এবং বরোদার একটি সরকারী বিদ্যালয়ের উপ-অধ্যক্ষ হন। তাকে ৭৫০ টাকা বেতন দেওয়া হয়েছিল। বরোদার মহারাজা তাঁকে অত্যন্ত সম্মানিত করেছিলেন। অরবিন্দ গ্রীক এবং লাতিন  ভাষায় দক্ষ ছিলেন। ১৮৯৩ সাল থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্কৃত, বাংলা সাহিত্য, দর্শন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন।

১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গের পরে তিনি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং দেড়শ টাকা বেতনে বেঙ্গল ন্যাশনাল কলেজে যোগদান করেন। এরপরে তিনি ক্রমবর্ধমান বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯০৮ সাল থেকে অরবিন্দ ঘোষ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন ভারতের রাজনীতি জাগ্রত করার অন্যতম গাইড।

অন্যান্য কিংবদন্তিদের সম্পর্কে জানতে নীচে ক্লিক করুনঃ

ইংরেজি দৈনিক ‘বন্দে মাতরম’ পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন এবং তীব্র সম্পাদকীয় নিবন্ধ লিখেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ব্রিটিশ পণ্য, ব্রিটিশ আদালত এবং সমস্ত ব্রিটিশ জিনিস বর্জনকে সমর্থন করেছিলেন। এবং দেশবাসীকে সত্যাগ্রহের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন।

বিখ্যাত আলিপুর বোমা মামলাটি অরবিন্দ ঘোষের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। অরবিন্দ এক বছর জন্য আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি ছিলেন। তিনি আলিপুর কারাগারে একটি নোংরা কক্ষে ছিলেন  এবং সেখানে বসে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে ঈশ্বর তাকে মিশনে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারাগারে থাকার সময়টি তিনি গীতার শিক্ষার নিবিড় অধ্যয়ন ও অনুশীলনের করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন দাস শ্রী অরবিন্দকে রক্ষা করেছিলেন এবং  শুনানির পরে খালাস পেয়েছিলেন। কারাগারে থাকাকালীন অরবিন্দ ঘোষ যোগ ও ধ্যানের প্রতি তার আগ্রহ গড়ে তোলেন। মুক্তির পরে তিনি প্রাণায়াম ও ধ্যানের অনুশীলন শুরু করেন।

১৯১০ সালে  শ্রী অরবিন্দ কলকাতা ছেড়ে পন্ডিচেরিতে স্থায়ী হন। তিনি পন্ডিচেরিতে এক বন্ধুর বাড়িতে ছিলেন। প্রথমে তিন থেকে চারজন বন্ধুদের সাথে ছিলেন। এবং ধীরে ধীরে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯২৬ সালে  শ্রী অরবিন্দ আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়। আশ্রম প্রতিষ্ঠার পরে তিনি তার নামের আগে শ্রী সংস্কৃত ভাষায় পবিত্র অর্থ ব্যবহার শুরু করেছিলেন। ১৯১৪ সালে পন্ডিচেরিতে  এসে মীরা রিচার্ডের সহায়তায় আশ্রমের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল।

পন্ডিচেরিতে চার বছর যোগে মনোনিবেশ করার পরে, ১৯৪৪ সালে শ্রী অরবিন্দ আর্য নামে একটি দার্শনিক মাসিক পত্রিকা শুরু করেছিলেন।  পরবর্তী সাড়ে ছয় বছর এটি তার বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ কাজের একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে। এর মধ্যে গীতার বিবরণ, বেদের রহস্য, উপনিষদ, ভারতে নবজাগরণ, যুদ্ধ ও আত্ম-নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৯২৬ সালে শ্রী অরবিন্দ ঘোষ সার্বজনিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন।

অরবিন্দ ঘোষের  ব্যক্তিগত জীবন (Aurobindo Ghose’s Personla life):

sri arabinda ghosh

সূত্রঃ- www . thefamouspeople . com

১৯০১ সালে, ২৮ বছর বয়সে অরবিন্দ ঘোষ ভূপাল চন্দ্র বসুর কন্যা মৃণালিনীকে বিয়ে করেন। মৃণালিনী ১৯১৮ সালে ডিসেম্বর ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী চলাকালীন মারা যান।

মহাপ্রয়াণঃ

sree arabinda ghosh

সূত্রঃ- shubhpuja . files . wordpress . com

শ্রী অরবিন্দ ১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর পন্ডিচেরিতে ৭৮ বছর বয়সে মারা যান।

অরবিন্দ ঘোষ তার দার্শনিক ও রাজনৈতিক রচনার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং তত্কালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছিলেন।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ 

প্রঃ অরবিন্দ ঘোষ কবে জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ অরবিন্দ ঘোষ ১৮৭২ সালে ১৫ ই আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।

প্রঃ অরবিন্দ ঘোষ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ অরবিন্দ ঘোষ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

প্রঃ অরবিন্দ ঘোষের বাবার নাম কি?

উঃ বাবা কৃষ্ণ ধন ঘোষ।

প্রঃ অরবিন্দ ঘোষের মায়ের নাম কি?

উঃ  মায়ের নাম স্বর্ণলতা দেবী।

প্রঃ শ্রী অরবিন্দ আশ্রম কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উঃ ১৯২৬ সালে  শ্রী অরবিন্দ আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রঃ শ্রী অরবিন্দ ঘোষ কবে মারা যান?

উঃ শ্রী অরবিন্দ ১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর পন্ডিচেরিতে মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here