ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী কাহিনী জেনে নিন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী
Biography
নামঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
সামাজিক কর্মবিধবা বিবাহ
জন্মতারিখ১৮২০ সালে,২৬ সেপ্টেম্বর
জন্মস্থানপশ্চিমবাংলায় মেদিনীপুর জেলায় বীরসিংহ গ্রাম
ধর্ম হিন্দু
পরিবার ও আত্মীয়স্বজন
পিতাঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
মাভগবতী দেবী
স্ত্রীদিনময়ী দেবী
শিক্ষা ও স্কুল, কলেজ
কলেজসংস্কৃত কলেজে
মৃত্যুর তারিখ১৮৯১ সালে,২৯ জুলাই

মহান মহান জ্ঞানী মানুষরা সমাজের উপর প্রভাব রেখে গেছেন। এইরকমই এক ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। যিনি খুব বিনয়ী ছিলন এবং নিজের জীবন দৃঢ়সংকল্প এবং উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষে কাটিয়ে দিলেন। তিনি মহান সমাজ সংস্কারক, লেখক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা ছিলেন এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করে গেছেন অবিরাম। ভারতে শিক্ষার প্রতি তার অবদান এবং নারীর অবস্থার পরিবর্তন জন্য তিনি চিরস্বরণীয়।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ভারতে বহুবিবাহ, শিশু বিবাহের বিরোধিতা ও বিধবা পুনর্বিবাহ এবং নারী শিক্ষা প্রতি লড়াই করতে মানুষকে সাহস জাগিয়েছিলেন। এই ধরনের বিষয়গুলির প্রতি তার যোগদানের কারণ, বিধবা পুনর্বিবাহ আইন ১৮৫৬ সালে পাস করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে বিধবা বিবাহ আইন বৈধ হয়েছিল। আজকের আর্টিকেলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী নিয়ে আলোচনা করব এবং জেনে নেব তার জীবন যুদ্ধের ইতিহাস।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জীবনী ( BIOGRAPHY )

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম পরিচয়

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম পরিচয় (Ishwar Chandra Vidyasagar Birth identity) 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম পশ্চিমবাংলায় মেদিনীপুর জেলায় বীরসিংহ নামক গ্রামে। ১৮২০ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর একটি দরিদ্র বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা ভগবতী দেবী। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তারা নিজেদের শিক্ষা, সংস্কার, আন্তরিকতা, কঠোরতা, দয়ালুতা ও নিষ্ঠার জন্য প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, যার কারণে তিনি অমর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছাত্র জীবন (Student life of Ishwar Chandra Vidyasagar) 

ছোটবেলা থেকে তিনি পড়াশুনোয় খুব মেধাবী ছিলেন। তার শিক্ষা জীবনে তিনি ভালো নম্বর প্রাপ্ত করেছিলেন। শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য স্কলারশিপ অর্জন করেছিলেন। ১৮৪১ সালে তিনি সংস্কৃত নিয়ে পাস করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কর্মজীবন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কর্মজীবন (Ishwar Chandra Vidyasagar’s career) 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের তার দরিদ্র পরিবারকে সাহায্য করার জন্য সংস্কৃত কলেজে একটি পার্ট টাইম চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি বেদান্ত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশিষ্ট জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি আইন পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং অবশেষে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে সংস্কৃত ভাষা শেখানোর জন্য অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি পাঁচ বছর কাজ করেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে চেষ্টা করেছিলেন।

পরে ১৮৫৬ সালে তিনি বরিশায় উচ্চ বিদ্যালয় নামে কলকাতার একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি শিক্ষা বিষয়ে নিজস্ব মতামত অনুযায়ী স্কুল চালাতেন।

আরও বিশেষ ব্যক্তিদের কথা জানতে এখানে ক্লিক করুনঃ 

শিক্ষা প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী (Biography of Ishwar Chandra Vidyasagar in spreading education)

তাই শিশুদের জন্য আধুনিক জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রচনা করলেন বর্ণপরিচয়, কথামালা, চরিতাবলী, আখ্যানমঞ্জরী, বোধোদয় ইত্যাদি গ্রন্থ। পরে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সীতার বনবাস, শকুন্তলা প্রভৃতি। সংস্কৃত ব্যাকরণ উপক্রমণিকা ও ব্যাকরণ কৌমুদী লিখে সংস্কৃত শিক্ষার্থীদের এবং সংস্কৃত পণ্ডিতদের রক্ষণশীল শিক্ষাপদ্ধতি থেকে মুক্তি দিলেন, সরল করলেন সংস্কৃত পাঠ।

শিক্ষা বিভাগের পরিদর্শক হিসাবে চাকরি করার সময় বিদ্যাসাগর বাংলার দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষার দুরবস্থা সরকারের নজরে আনেন। কখনও বা সরকারের সহযোগিতায় অথবা কখনও বা একক প্রচেষ্টায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই সময়কালে সংস্কৃত কলেজ ছিল সংস্কৃত শিক্ষার রক্ষণশীল কেন্দ্র। বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের শিক্ষা পদ্ধতি সংস্কার সাধন করে তাকে মানবতা নার্সারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রূপে গড়তে চেয়েছিলেন।

শিক্ষা-প্রসারে-ঈশ্বরচন্দ্র-বিদ্যাসাগরের-জীবনী

বিধবা বিবাহ এবং সমাজ সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী (Biography of Ishwar Chandra Vidyasagar on Widows in marriage and social reform)

বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন শিক্ষাব্রতী ও সমাজসংস্কারক ব্যক্তি। বিধবা বিবাহ প্রচলন এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ছিল তার বিশেষ কীর্তি। এছাড়া কৌলীন্য প্রথা এবং বহু বিবাহে তিনি ছিলেন ঘোরতর বিরোধী। বিধবা বিবাহের জন্য আন্দোলনের জন্য তার প্রচুর অর্থ ব্যয় হয় এবং তিনি নিঃস্ব হয়ে যান। ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন চালু করে সাফল্যে লাভ করেছিলেন।

অন্যদিকে তিনি একজন নরম হৃদয় এবং দয়ালু মানুষ ছিলেন। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ব্যয় বহন করার জন্য তিনি তার বেশিরভাগ বেতন ব্যয় করেন। তিনি তার চারপাশে শিশু ও কিশোর বিধবাদের ব্যথা অনুভব করেছিলেন এবং তাদের সকলকে তাদের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে উৎসর্গ করেছিলেন। বরাবর মানুষের দুর্দশায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

মহাপ্রয়াণ 

১৮৯১ সালে এই মহাপুরুষের মহাপ্রয়াণ ঘটে। শিক্ষা সংস্কার, আধুনিক শিক্ষার প্রচলন, নারী ও শিশুশিক্ষার বিস্তার ও ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের সক্রিয় ভূমিকা আজও মানুষের মনের অন্তরে বাঁধা রয়েছে। তার মহাপ্রয়াণ ঘটেছে ঠিকই কিন্তু মানুষের মনে আজও তিনি অমর।

Key Point: সংস্কৃত শব্দে ‘বিদ্যা’ কথার অর্থ হল জ্ঞান এবং ‘সাগর’ বা ‘মহাসাগর’। সুতরাং ‘বিদ্যা সাগর’ অর্থ ‘জ্ঞানের মহাসাগর’।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্ন উত্তরঃ

Q. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

A. পশ্চিমবাংলায় মেদিনীপুর জেলায় বীরসিংহ নামক গ্রামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

Q. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবে জন্মগ্রহণ করেন?

A. ১৮২০ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেন।

Q. বিদ্যাসাগরের ডাক নাম কী?

A. বিদ্যাসাগরের ডাক নাম ঈশ্বর।

Q. বিদ্যাসাগর কেন বিখ্যাত?

A. বিধবা বিবাহ আইন চালু এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের জন্য বিখ্যাত।

Q. মহিলা শিক্ষার প্রসারে বিদ্যাসাগরের অবদান কী ছিল?

A. মহিলা শিক্ষার প্রসারে জন্য তিনি স্ত্রী-শিক্ষা সম্মিলনী গড়ে তোলেন। প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংস্কৃত কলেজের শিক্ষা পদ্ধতি সংস্কার করে।

Q. বিদ্যাসাগরের স্ত্রী কে?

A. বিদ্যাসাগরের স্ত্রী দিনময়ী দেবী।

Q. বিদ্যাসাগরের মায়ের নাম কী?

A. বিদ্যাসাগরের মায়ের নাম ভগবতী দেবী।

Q. বিদ্যাসাগরের পিতার নাম কী?

A. বিদ্যাসাগরের পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

Q. বিদ্যাসাগর কবে সংস্কৃত পাস করেন?

A. ১৮৪১ সালে সংস্কৃত পাস করেন।

Q. বিধবা বিবাহ আইন চালু করে কবে চালু হয়?

A. ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন চালু হয়।

Q. বিদ্যাসাগর কোথায় মারা গেলেন?

A. কলকাতায় বিদ্যাসাগর মারা যান।

Q. বিদ্যাসাগর কবে মারা যান?

A. ১৮৯১ সালে বিদ্যাসাগর মারা যান।

4 COMMENTS

  1. আমাদের মহান বিদ্যাসাগরের জীবণ ও কাজের জেনে খুব আনন্দ পেয়েছি।

    • আমাদের নিবন্ধনটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here