প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ শৈশব, শিক্ষা ও কর্মজীবন

36494208_211192319704822_8315880382473961472_n

36494208_211192319704822_8315880382473961472_n

সূত্রঃ www . instagram . com/p/BkmuZAPFsVQ/

পুরো নাম

প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ
জন্ম

২৯ শে জুন, ১৮৯৩ সালে

জন্মস্থান

কলকাতা

পেশা

বিজ্ঞানী

শিক্ষাগত যোগ্যতা

স্নাতক ডিগ্রি

স্কুল

ব্রাক্ষ্ম বয়েজ স্কুল

কলেজ

প্রেসিডেন্সি কলেজ

জাতীয়তা

ভারতীয়

বাবার নাম

প্রবোদচন্দ্র মহলানবিশ

মায়ের নাম

নিরদবাসিনী

শহর

কলকাতায়

মৃত্যু

২৮ শে জুন,১৯৭২ সাল

মৃতুস্থান

কলকাতায়

 

প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী এবং পরিসংখ্যানবিদ ছিলেন যিনি মহলানবিশ ডিস্ট্যান্স’ নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি ভারতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শিল্পায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি ভারতে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে অগ্রণী পড়াশুনার জন্য খুব সুপরিচিত ছিলেন ।

আজকের নিবন্ধে আমরা  এই বিজ্ঞানীর জীবনের কাহিনী জানাব। এখান আপনারা জানতে পারবেন প্রশান্ত চন্দ্রের শৈশব জীবন, শিক্ষাজীবন এবং কর্মজীবনের কাহিনী ।

আরও পড়ুনঃ আলী আকবর খান শৈশব, শিক্ষা এবং কর্মজীবন

প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের শৈশব জীবন

36086068_231381184135875_6306554901694513152_n

সূত্রঃ- www . instagram . com/p/Bkl1hPzAqa0/

প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ ১৮৯৩ সালে ২৯ শে জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রবোদচন্দ্র মহলানবিশ এবং মা নিরদবাসিনী। তার বাবা মায়ের মোট ছয় সন্তান। তার মধ্যে তিনি  সবচেয়ে বড়। তাঁর পরিবার ছিলেন ধনী ও প্রভাবশালী পরিবার ।

প্রশান্ত চন্দ্রের ঠাকুরদা গুরুচরণ ব্রাহ্মসমাজের মতো সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং একজন বিধবাকে বিবাহ করে সমাজের রীতিনীতিগুলির বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করেছিলেন ।

আরও পড়ুনঃ  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী কাহিনী জেনে নিন

প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের শিক্ষা জীবন  

prasanta

সূত্রঃ- lh3 . googleusercontent . com

তিনি ব্রাক্ষ্ম বয়েজ স্কুলে করেছেন এবং পড়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়েন। এ প্রেসিডেন্সি কলেজে তার শিক্ষকরা জগদীশ চন্দ্র বোস এবং প্রফুল্ল চন্দ্র রায়কে অন্তর্ভুক্ত করেন। মেঘনাদ সাহা এবং সুভাষ চন্দ্র বসু তার কলেজের জুনিয়র ছিলেন। ১৯১২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স সহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ।

বিদেশে পড়াশোনা করার ইচ্ছা নিয়ে তিনি ১৯১৩ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে কিংস কলেজ চ্যাপেল যোগদান করেন। ইংল্যান্ডে গিয়ে তার জীবন অসাধারণ কাটে। পড়াশুনোর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা লাভ করেন। শীঘ্রই তিনি পদার্থবিজ্ঞানে তার ট্রাইপোস  পেয়েছিলেন ।

আরও পড়ুনঃ  কাজী নজরুল ইসলাম শৈশব, শিক্ষা, কর্ম, বৈবাহিক জীবন

প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশের ক্যারিয়ার জীবন

prasanta ray

সূত্রঃ- todayinsci . com

পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি সি.টি.আর উইলসনের সাথে ক্যাভেনডিশ ল্যাবরেটরিতে কিছুকাল কাজ করেছিলেন। তারপর তিনি কাজে বিরত নিয়ে ভারতে ফিরে আসেন। এবং এখানে আসার পর প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল তাকে পদার্থবিদ্যায় ক্লাস নিতে বলেন ।

ভারতে কিছুকাল কাটিয়ে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন এবং এইসময় তিনি এই সময়ে তিনি বায়োমেট্রিকা ট্রাষ্টের জন্য অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস দ্বারা প্রকাশিত একটি জার্নাল ‘বায়োমেট্রিকা’ আবিষ্কার করেন যা মূলত তাত্ত্বিক পরিসংখ্যানগুলিতে ফোকাস করে।তিনি এই বিষয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং আবহাওয়া ও নৃবিজ্ঞানের সমস্যাগুলি বোঝার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের উপযোগের দ্বারা আগ্রহী হয়েছিলেন ।

প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ পুনরায় ভারতে ফিরে আসে এবং ১৯২২ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিযুক্ত হন; তিনি পরের তিন দশক ধরে কলেজে পদার্থবিজ্ঞান পড়ান। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক হওয়ার কারণে তিনি পরিসংখ্যানগুলিতে তার নতুন আগ্রহ অনুসরণ করতে নিজেকে বাধা দেন নি ।

তিনি আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল মতো একজন পরামর্শদাতা পেয়েছিলেন, যিনি পরিসংখ্যান অনুসারে তাঁর অনুপ্রেরণাকে উত্সাহিত করেছিলেন। প্রথমদিকে,প্রশান্ত চন্দ্র  বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার ফলাফল, কলকাতার অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের উপর নৃতাত্ত্বিক পরিমাপ এবং কিছু আবহাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছিলেন ।

prasanta roy'

সূত্রঃ- www . thefamouspeople . com

তার অনেক সহকর্মী ছিলেন যারা পরিসংখ্যানগত পড়াশুনোর জন্য আগ্রহী ছিলেন। তিনি তাদের সঙ্গে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে নিজের ঘরে একটি পরিসংখ্যান পরীক্ষাগার স্থাপন করেছিলেন। অবশেষে তার এই দল গঠনের জন্য ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত করা হয় যা ১৯৩২ সালে রেজিস্টার করা হয়েছিল। তিনি বড় আকারের নমুনা জরিপ সম্পর্কিত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও খুব প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি পাইলট জরিপের ধারণা প্রবর্তনের সাথে কৃতিত্ব পেয়েছিলেন এবং ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তার প্রাথমিক সমীক্ষায়  চা-পান করার অভ্যাস, জনমত, ফসল এবং উদ্ভিদ রোগের মতো বিষয়গুলি ছিল ।

ভারত সরকারের কাছ থেকে ১৯৪৮ সালে আইএসআই একটি বড় অনুদান পেয়েছিল পৃথক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ স্কুল যা প্রশান্ত চন্দ্রের নেতৃত্বে বিকাশ পেয়েছিল। তার পরিসংখ্যান কৃতিত্বের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি  বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। এর মধ্যে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের সাব-কমিশন চেয়ারম্যান পদও রয়েছে ।

১৯৫০ সালে প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ জাতীয় নমুনা সমীক্ষা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ভারতে পরিসংখ্যানমূলক কাজকর্মের জন্য কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা গথন করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি ভারতের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হন।  দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে তিনি ভারতে ভারী শিল্পের বিকাশের জন্য কৌশলগুলি তৈরি করতে সহায়তা করেছিলেন।

তিনি ১৯৩০ এর দশকের গোড়ার দিকে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা পরবর্তী সময়ে একাডেমিক ইনস্টিটিউট হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। পরিসংখ্যানগুলিতে তার অন্যতম প্রধান অবদান ছিল ‘মহলানবিশ ডিস্ট্যান্স’ নামে নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করে। তার জীবনের আসল উদ্দেশ্যে ছিল পরিসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র দূর করে জীবনকে সুন্দর করে তোলা। এছাড়া আবহাওয়া, নদী পরিকল্পনা, উত্তরবঙ্গ ও উড়িষ্যার বন্যা ইত্যাদি তার গবেষণায় স্থান পায়।

আরও পড়ুনঃ  আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় শৈশব, শিক্ষা, কর্মজীবন

পুরস্কার  ও সম্মান (Awards and honors):

prosanto

সূত্রঃ- m . economictimes . com

  • ১৯৪৪ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওয়েলডন মেমোরিয়াল পুরস্কার লাভ করেন।
  • ১৯৪৫ সালে রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিকাল সোসাইটি, যুক্তরাজ্যের সম্মানসূচক ফেলো এবং ১৯৫৯ সালে কেমব্রিজের কিং’স কলেজের অনার্স ফেলো হন।
  • পরিসংখ্যান স্বীকৃতি হিসাবে স্বর্ণপদক এবং ১৯৬৮ সালে পদ্মবিভূষণ উপাধি লাভ করেন।

আরও পড়ুনঃ  রাজা রামমোহন রায় শৈশব, পারিবার, কর্মজীবন

মহাপ্রয়াণঃ

66648822_1100198080368801_8606030855359590660_n

সূত্রঃ- www.instagram.com/p/B0ABPRVnTCg/

তিনি তার শেষ জীবন অব্দধি গবেষণার কাজ নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭২ সালে ২৮ শে জুন এই কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুনঃ  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শৈশব, কর্মজীবন, সাহিত্যে জীবন

সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নঃ

 প্রঃ প্রশান্ত চন্দ্র কবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

উঃ প্রশান্ত চন্দ্র ১৮৯৩ সালে ২৯ শে জুন জন্মগ্রহণ করেন।

প্রঃ প্রশান্ত চন্দ্র কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

উঃ তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

প্রঃ প্রশান্ত চন্দ্রের বাবার নাম কি?

উঃ প্রশান্ত চন্দ্রের বাবার নাম প্রবোদচন্দ্র মহলানবিশ।

প্রঃ প্রশান্ত চন্দ্রের মায়ের নাম কি?

উঃ প্রশান্ত চন্দ্রের মায়ের নাম নিরদবাসিনী।

প্রঃ প্রশান্ত চন্দ্র কোন বিষয়ের উপর গবেষণা করতেন?

উঃ তিনি পরিসংখ্যানমূলক গবেষণা করতেন।

প্রঃ প্রশান্ত চন্দ্র কবে পদ্মভূষণ উপাধি পান?

উঃ ১৯৬৮ সালে পদ্মবিভূষণ উপাধি পান।

প্রঃ প্রশান্ত চন্দ্রের মৃত্যু দিবস কবে?

উঃ ১৯৭২ সালে ২৮ শে জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here