‘তুমি আর নেই মানতে পারছি না…’, কাছের মানুষকে হারালেন রুপম ইসলাম! সাতসকালেই শোকের ছায়া গায়কের পরিবারে

রূপম ইসলাম

সাতসকালেই খারাপ খবর। কাছের মানুষকে হারালেন রুপম ইসলাম। পিতৃহারা হলেন রুপম। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সঙ্গীত পরিচালক ও স্বনামধন্য শিল্পী রবীন মুখোপাধ্যায়। প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে গভীরভাবে শোকাহত গায়কের পরিবার।

পিতৃসম কে হারিয়ে কিছু পুরনো স্মৃতি তুলে ধরলেন গায়ক। রুপম জানান, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আমার গ্রহণযোগ্যতা আদৌ যে তৈরি হয়েছে, তা আমার বাবা বা মা, কেউই দেখে যেতে পারেননি। সে দিক থেকে বরাবরই আমার জীবনে একটা বিরাট অপূর্ণতা আছে।

রবীনস্যার যখনই আমায় জানিয়েছেন যে, আমার প্রকাশিত কোনও গান তাঁর ভাল লেগেছে বা অনুষ্ঠান ভাল হয়েছে— আমার মনে হয়েছে— এই মানুষটি শুধু আমার শিক্ষক নন, তিনি আমার পিতাও বটে। এক বছর আগে আমার একক অনুষ্ঠানে এসে আবেগরুদ্ধ হয়ে তাঁর আমায় জড়িয়ে ধরার ঘটনাটি আজ বড় বেশি করে মনে পড়ছে।

শক্তসমর্থই তো ছিলেন, কী এমন যে হল! কর্কট রোগ শেষ পর্বে ধরা পড়ে চিকিৎসার প্রায় কোনও সুযোগই দিল না। চট করেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমার পরম শ্রদ্ধার গানের মাস্টারমশাই।

একটু আগে তাঁর নশ্বর দেহের সামনে চুপ করে দাঁড়িয়েছিলাম। রোগপ্রাবল্যে রুগ্ন হয়েছেন, উদার গলার মানুষটা শারীরিক ভাবে সঙ্কুচিত হয়েছেন। কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হল। ভিতর থেকে মনে হল, আমি আজ আবার পিতৃহারা হলাম।

রবীনস্যারের অন্য আর একটি পরিচয় আছে, যেটি হয়তো কেবলমাত্র আমিই জানি, আর সব সময়ে মনে রাখি। তাঁর অবদান আমার জীবনে, যাকে বলা যেতে পারে, ‘লাইফ চেঞ্জিং’। গানের স্কুলে প্রথম হওয়ার ধাক্কায় আমি পঠনপাঠনেও অচিরেই স্কুলের সেরা ছাত্রদের একজন হয়ে উঠেছিলাম। এ সব জিনিস জীবনদর্শন বদলে দেয় বইকি! সেই জন্যই বলছি, রবীনস্যারের অবদান আমার জীবনে, জীবন বদলে দেওয়া ব্যাপার!

রূপম ইসলাম