
মাত্র ৩ সপ্তাহেই ‘বিগ বস বাংলা’-র সফর শেষ হল সায়ক চক্রবর্তীর। সোশাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় ব্লগার এভাবে হঠাৎই দর্শকদের ভোটে শো থেকে বাদ পড়বেন, তা অনেকেই আন্দাজ করতে পারেননি। টিআরপি বাড়ানোর জন্য মেকি ঝগড়া-ঝামেলায় তাঁকে খুব একটা জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়নি। তবে সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিগবসের ভেতরের আসল সত্য ফাঁস করলেন সায়ক।
সায়ক জানান, “সপ্তাহান্তে টাকা পাচ্ছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেই টাকার জন্য বিনা কারণে কারও সঙ্গে ঝগড়া করব বা পিঠ পিছে কারও নামে কূটকচালি করব—এমনটা আমি নই। ক্যাপ্টেন বা শো থেকে যে কাজ দেওয়া হতো, আমি সেটাই মন দিয়ে খেটে করেছি।”
“আমি হয়তো খেলাটা ঠিক ধরতেই পারিনি। ওখানে নিজের কাজ নিজেকে করতে হত। আমার কোমরে চোট ও ডাস্ট অ্যালার্জির কারণে ঘর পরিস্কারের কাজ বাদে মোটামুটি সব কাজেই সাহায্য করেছি। অনেক রান্না শিখেছি সোনামণি ও সৃজলার থেকে। আসলে বাইরে থেকে দেখে মানুষ চেনা যায় না। আমার সঙ্গে কারওর ঝামেলা হয়নি।
বিগ বসের ঘরে ফোনের অভাব বা বিনোদনের অভাব নিয়ে সায়কের কোনও আফসোস ছিল না। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ঘুমানোর সময় পেলেই তিনি বেঁচে যেতেন। তবে তাঁর আসল মনখারাপ ছিল অন্য জায়গায়। শো-তে যাওয়ার আগেই সায়কের মায়ের একটি কঠিন শারীরিক সমস্যা বা মেডিক্যাল কন্ডিশন তৈরি হয়েছিল। মায়ের শারীরিক অবস্থা কেমন আছে, তা জানার জন্য বিগ বসের কাছে বারবার অনুরোধ জানালেও কোনও সুনির্দিষ্ট খবর পাচ্ছিলেন না তিনি।
সায়ক বলেন, “আমার মাথার ভেতর সারাক্ষণ একটা চিন্তাই ঘুরত—আমার মা কেমন আছে? সারাদিন ভেতর থেকে ভীষণ কান্না পেত। কিন্তু চারিদিকে এত ক্যামেরা দেখে নিজেকে সামলে রাখতাম। রোজ যদি কাঁদতাম, লোকে ভাবত আমি বোধহয় ওয়ান-ম্যান কাঁদুনি শো করতে এসেছি! তবে ‘কম্পিত তনু দল’ গানটার দিন আর নিজেকে সামলাতে পারিনি, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম।”
সায়কের কথায়, “আমার মনে হয় সৃজলা, নন্দিনী, রাজবীর, জীতুদা খুব ভাল খেলছে। ওরা হয়তো অনেকদূর যাবে। আমার একটাই আক্ষেপ, বড্ড তাড়াতাড়িই খেলাটা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হল। সোনামণি প্ল্যান করছিল আমার জন্মদিনে সুজি দিয়ে কেক বানাবে। সেসব আর হল না, খারাপ তো অবশ্যই লাগছে। তবে মায়ের জন্য খুব মন খারাপ করত। মা-বাবার বয়স হচ্ছে, এই সময় ওঁদের পাশে থাকতে চাই আমি। যাই হোক খেলায় হার-জিৎ তো আছেই।”
