‘হাত জোড় করে বলছি একটু হাঁটার ব্যবস্থা করে দাও…’, চিকিৎসার অভাবে শারীরিক কষ্ট, কাতর আর্জি প্রবীণ অভিনেতা শঙ্কর ঘোষালের

অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল

একসময় তিনি তাঁর অভিনয় প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র ও মঞ্চে নিজের ছাপ রেখেছিলেন। কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন তিনি এবং দীর্ঘ বছর ধরে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন। অথচ আজ, জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে প্রবীণ টলিউড অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল গভীর অসহায়ত্বের মুখে পড়েছেন। নানা জটিল শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি কার্যত গৃহবন্দি। পারকিনসন্স রোগ, কার্ডিয়াক অ্যাজমা এবং প্রোস্টেট সংক্রান্ত সমস্যায় জর্জরিত তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তিনি এক ঘর থেকে অন্য ঘরেও যেতে পারেন না। তাঁর শরীর অনবরত কাঁপতে থাকে; সামান্য নড়াচড়া করাও তাঁর কাছে এক কঠিন লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই প্রবীণ শিল্পী নিজের সততা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে আপস করতে রাজি নন। অসৎ পথে উপার্জনের কথা তিনি কখনো ভাবেননি, বরং নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখেই বেঁচে থাকতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নিজের আর্থিক সংকট ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, যারা সততার পথে জীবন কাটিয়েছেন, কেবল তারাই বুঝতে পারবেন. এমন সততার সঙ্গে অনেক সময় কতটা ‘যন্ত্রণা’ জড়িয়ে থাকে। যে মানুষটি একসময় নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করতেন, আজ তিনি নিজেই এক চরম দুঃসময়ের মুখোমুখি।

আর্থিক সংকটের পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসার অভাব তাঁর শারীরিক কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়েছিল যে, চিকিৎসার খরচ জোগাতে তাঁকে মানুষের কাছে সাহায্যের আশায় রাস্তায় নামতে হয়েছিল। হাত জোড় করে শঙ্কর ঘোষাল নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন এবং তীব্র যন্ত্রণা বুকে চেপে অভিনেতা বলেন, “সবার কাছে হাত জোড় করে বলি আমার একটু হাঁটার ব্যবস্থা করে দাও গো এইটুকু ব্যাস। চিকিৎসা ঠিক মতো হয় না দাদা একদমই না…সঠিক চিকিৎসা দরকার আছে সেই কারণেই হয়তো কষ্ট বাড়ছে।” একসময়ের আত্মমর্যাদাশীল এই মানুষটির এমন করুণ আর্তি টলিউড তথা সমাজের রূঢ় বাস্তবকে যেন আরও একবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

 

এত গুরুতর অসুস্থতা সত্ত্বেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি। তাঁর মন আজও পড়ে থাকে শুটিং ফ্লোরে, ক্যামেরার সামনে। পরিচালকদের কাছ থেকে এখনো কাজের প্রস্তাব আসে, কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন না। কাজ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও, শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে প্রতি পদক্ষেপে আটকে দিচ্ছে। অভিনেতা তাঁর স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়া মাত্রই কাজে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অভিনয়ই তাঁর আনন্দের উৎস এবং সেই অনুপ্রেরণা, যা তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি জোগায়। তাই জীবনের এই কঠিন পর্যায়ে শঙ্কর ঘোষালের আবেদন কেবল আর্থিক সহায়তার জন্য নয়; এটি তাঁর প্রিয় শিল্পজগতে পুনরায় ফিরে আসার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার এক লড়াই। যাঁর প্রতিভা একসময় বাংলা বিনোদন জগতকে সমৃদ্ধ করেছিল, আজ তিনি যে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন—তা শিল্পীদের জীবন এবং তাঁদের প্রতি সমাজের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেয়।