
টানা ২১ দিন ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে কাটিয়েছেন অভিনেতা তথা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। এই কয়েক দিনে ক্যামেরার সামনে অভিনয় নয়, বরং একেবারে অন্যরকম জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। রান্না করা, বাসন মাজা থেকে শুরু করে ঘরের নানা দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে তাঁকে। শো শুরু হওয়ার পর থেকেই সায়কের আচরণ ও পারফর্ম্যান্স নিয়ে দর্শকমহলে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। তবে প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার পর অনুরাগীদের মনে এখন একটাই কৌতূহল, বিগ বসের ঘরে ২১ দিন থাকার জন্য কত টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন অভিনেতা?
শো চলাকালীন একাধিকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে সায়ককে। কখনও বাড়ির কথা মনে করে চোখে জল এসেছে, কখনও আবার সহ-প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত হয়ে উঠেছে আনন্দের কারণ। তবে এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় বলেই মনে করছেন তিনি। ‘এই সময় অনলাইন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিগ বসের বাড়ির অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, ‘সকলের সঙ্গে অনবদ্য একটা অভিজ্ঞতা। যে দিন লাক্সারি বাজেট আসত, সকলেই মুখিয়ে থাকত একটু কফি পাওয়ার আশায়। আসলে সারাদিন কোনও কাজ ছাড়া চোখ খুলে থাকা যে কতটা চাপ, সেটা বুঝেছিলাম। তখন কফিটা খুব দরকার ছিল। সেটা এক চুমুক পেলে মনে হতো কী পেলাম। ছোট ছোট জিনিসেও ভালো থাকতে শিখে এসেছি ওখানে গিয়ে।’
তবে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে উপার্জনের অঙ্ক নিয়ে খুব একটা ভাবতে রাজি নন অভিনেতা। বরং অর্থের থেকেও অনেক মূল্যবান কিছু অর্জন করেছেন বলেই মনে করছেন তিনি। সায়কের কথায়, এই শো তাঁকে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা দিয়েছে। পাশাপাশি সহ-প্রতিযোগী সোনামণি, সৃজলা ও তনুশ্রীর কাছ থেকে শিখেছেন নানা রকমের রান্নাও। তাঁর মতে, টাকা আজ আছে, কাল থাকবে না, কিন্তু এই অভিজ্ঞতা, সুন্দর সম্পর্ক এবং মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, বিগ বসের বাড়িতে সব অভিজ্ঞতা যে সমান মধুর ছিল, এমনটাও নয়। আনন্দের পাশাপাশি কিছু মুহূর্তে মন খারাপও হয়েছে তাঁর। বিশেষ করে রাজবীর ঘরে প্রবেশ করার পর তাঁর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস দেখে প্রথমে কিছুটা খারাপ লেগেছিল সায়কের। যদিও পরে রাজবীরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর তাঁর সম্পর্কে ধারণা বদলে যায়। বরং শো থেকে বেরিয়ে আসার পর আরও ভালোভাবে বুঝেছেন, মানুষটি কতটা ভালো। সব মিলিয়ে কিছু মনখারাপ, অনেক হাসি, নতুন সম্পর্ক আর জীবনের নানা শিক্ষা নিয়েই ‘বিগ বস বাংলা’র ঘর থেকে ফিরেছেন সায়ক চক্রবর্তী।
