‘সারেগামাপা আমাকে খ্যাতি দিয়েছে কিন্তু… ওই মানুষটার কথা বলতে গেলেই চোখে জল চলে আসে…’, মুখ খুললেন পৌষালী ব্যানার্জি

পৌষালী ব্যানার্জি

জি বাংলা সারেগামাপার জনপ্রিয় শিল্পী পৌষালী ব্যানার্জী। গানের মঞ্চে শুরু থেকেই লোকসঙ্গীতের সুরে সুরে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন গায়িকা। তার সফলতার পিছনের লড়াইটা ছিল একটু অন্যরকম। সম্প্রতি সারেগামাপার মঞ্চ নিয়ে মুখ খুললেন গায়িকা। জনপ্রিয় এই গানের মঞ্চই গায়িকার ঝুলিতে এনে দিয়েছিল ব্যপক সাফল্য।

পৌষালী জানান, “সারেগামাপার পরে বাংলার মানুষ আমাকে চিনতে শুরু করলো, ভালোবাসা দিতে শুরু করলো।” গায়িকা মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্মটি না থাকলে মাটির গান নিয়ে এত মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানো হয়তো সম্ভব হতো না। এই মঞ্চই তাঁকে সাধারণ এক শিল্পী থেকে আজকের ‘পৌষালী ব্যানার্জী’ হিসেবে এক অনন্য ব্র্যান্ডে রূপান্তর করেছে, যার ফলে তিনি আজ দেশ-বিদেশে বাংলার লোকগানকে পৌঁছে দিতে পারছেন।

শান্তিনিকেতনের উচ্চশিক্ষিত গায়িকা হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ এক প্রতিযোগীর মতো তাঁকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছিল। ৯ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সারেগামাপার অডিশন দিয়েছিলেন। সেই হাড়ভাঙা খাটুনি, শারীরিক ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ভিড় থেকেই পৌষালীর আজকের এই সাফল্য।

পৌষালী জানিয়েছেন, “সারেগামাপা আমাকে গান গাইতে শেখায়নি, গান আমি শিখেছিলাম আমার গুরুদের কাছে এবং শান্তিনিকেতন থেকে; সারেগামাপা আমাকে শিখিয়েছে পারফরম্যান্স এবং প্রফেশনালিজম।”

পৌষালী এই সময়ের নামী লোকসঙ্গীত শিল্পী হলেও তিনি ছিলেন আদতে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। শান্তিনিকেতনের পৌষালী রবি ঠাকুরকেই অবলম্বন করে গান শিখেছিলেন। কিন্তু জি বাংলা সারেগামাপা-র অডিশন দিতে এসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় কালিকাপ্রসাদের। কালিকার হাত ধরেই রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী থেকে লোকগানের শিল্পী হয়ে উঠলেন পৌষালী।

পৌষালী বললেন ‘ কালিকাদা আমার মেন্টর, গুরু। ওঁর জন্যই লোকসঙ্গীত গাইতে পারা। আজ কালিকা দা নেই। ওই মানুষটার কথা বলতে গেলেই চোখে জল চলে আসে। লোকসঙ্গীতকে বাঁচিয়ে রাখার যুদ্ধটা তখন থেকেই আরও বেশি তীব্র হয়েছে।’