‘পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে… হাঁটার আশা প্রায় শেষ… ডাক্তার বলেছেন অবস্থা সংকটজনক…’, ভয়ানক দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী রীতা দত্ত চক্রবর্তী

রীতা দত্ত চক্রবর্তী

বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ রীতা দত্ত চক্রবর্তী। সিনেমা থেকে শুরু করে একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে মা কিংবা শ্বাশুরি মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি অভিনেত্রীর জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়ানক দু-র্ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রূপালী পর্দার পেছনে অভিনেত্রীর এই অদম্য লড়াইয়ের কথা এতদিন খুব কম মানুষই জানতেন। ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল ‘গৌরিদান’ -এ কাজ করার সময় দু-র্ঘটনায় তাঁর বাম পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, জ-টিল অ-স্ত্রোপচার ছাড়া কোনো উপায় নেই। অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থা এতটাই সংক-টজনক ছিল যে, পায়ে ১০টি স্ক্রু এবং ৩টি মেটাল প্লেট বসাতে হয়েছিল।

ডাক্তারদের কড়া নির্দেশ ছিল, কোনো নড়াচড়া না করে পা সবসময় সোজা রেখে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। এমনকি পা আদৌ কখনো ঠিক হবে কিনা, তারও কোনো গ্যারান্টি ছিল না। কিন্তু প্রযোজনা সংস্থা তাঁর বিকল্প কাউকে ভাবতে রাজি ছিল না। তাঁরা রীতাকেই কাজটা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। হুইলচেয়ারে বসেই অভিনয় করার জন্য অ-স্ত্রোপচারের মাত্র ৬ দিনের মাথায় ফ্লোরে ফেরার অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রতিদিন সকালে অ্যাম্বুলেন্স এসে বাড়ির নিচে দাঁড়াত, স্ট্রেচারে করে দোতলা থেকে নামিয়ে তাঁকে সেটে নিয়ে যাওয়া হতো। পা সোজা রেখে অভিনয় করার জন্য সেটে হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয় এবং চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি নিজেই হুইলচেয়ার চালানো শিখে নেন।

এই প্রসঙ্গে রীতা জানান, ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সেই মানসিক সহযোগিতা ও সাহস না থাকলে এই অসম্ভবকে সম্ভব করা তাঁর পক্ষে হয়তো সম্ভব হতো না। আজ পেছন ফিরে তাকালে তিনি মনে করেন, সেই সময় যদি শুধু বিছানায় পড়ে থাকতেন, তবে জীবন কীভাবে লড়াই করে বাঁচতে শেখায় তা হয়তো জানাই হতো না।