‘ডাক্তারের গাফিলতিতেই বাবা আর নেই… অনুমতি ছাড়াই বাবাকে…’, বাবার মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যকর সত্যি সামনে আনলেন অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী

ঊষসী চক্রবর্তী

টেলিভিশনের পর্দায় পরিচিত মুখ ঊষসী চক্রবর্তী। আজও যাকে সকলে ‘শ্রীময়ী’র জিন আন্টি হিসেবেই বেশি চেনে। সম্প্রতি বাবার মৃত্যু ঘিরে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সামনে আনলেন ঊষসী। যা শুনে রীতিমত অবাক নেটিজেন। অভিনেত্রীর বাবার পরিচয়ের থেকেও তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন সিপিআইএম এর প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তী হিসেবেই।

করোনাকালে বাবা হারানোর এই যন্ত্রণাদায়ক দিনে বুকে জমে থাকা কষ্ট, ক্ষোভ আর তীব্র অপরাধবোধ উগরে দিলেন ঊষসী চক্রবর্তী। এতদিন যা মনের গভীরে চেপে রেখেছিলেন, এদিন সোশাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে সেই গোপন সত্য ও হাসপাতালের গাফিলতির বিস্ফোরক বিবরণ তুলে ধরলেন অভিনেত্রী।

অসুস্থ থাকাকালীন কলকাতা বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে শ্যামল চক্রবর্তীকে ভর্তি করানো হয়েছিল। শ্যামলবাবু ‘অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস’- এর রোগী ছিলেন। ঊষসীর পরিবার জানতেন ফুল অ্যানেস্থেসিয়া দিলে তাঁকে আর ফেরানো সম্ভব নয়, উপরন্তু তিনি নিজেও কখনো ভেন্টিলেশনে যেতে চাননি।

শারীরিক জটিলতা জানা সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা অনুমতি ছাড়াই অভিনেত্রীর বাবাকে ভেন্টিলেশনে দেন। ঊষসী লেখেন, বাবাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো অনুমতি (Consent) নেয়নি। অনুমতি চাইলে তাঁরা কখনোই দিতেন না। সিনিয়র ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে কয়েকজন জুনিয়র আরএমও (RMO) কারও অনুমতি না নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেন।

ঊষসীর আক্ষেপ, ‘মামলা করতে পারতাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আর কোনো এনার্জি অবশিষ্ট ছিল না। কোনোদিনও এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে না— অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে গেলে কি পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত?’

সম্প্রতি ৬ই অগস্ট ছিল অভিনেত্রীর বাবার প্রয়াণের পঞ্চম বর্ষপূর্তি। বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে ঊষসীর এই সততা ও বিষাদমাখা পোস্ট দেখে সোশাল মিডিয়ায় অনুরাগী থেকে শুরু করে বহু মানুষ অভিনেত্রীর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।