
সিরিয়াল থেকে প্রেম, ভালোবাসা, আইনি বিয়ে, ভুল বোঝাবুঝি তারপরে আবার কাছাকাছি আসা। অবশেষে ভেঙ্গে যায় দাম্পত্য জীবন। ২০২২-২৩ সাল, এই দুই বছর অভিনেত্রী ইপ্সিতা মুখোপাধ্যায়ের জীবনে কম ঝড়ঝাপটা যায়নি। অভিনেতা অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুই বছরের বিবাহিত জীবনের ইতি ঘটেছে অনেকদিন আগেই। কিন্তু জানেন কেন ভেঙেছিল ইপ্সিতা আর অর্ণবের সংসার?
একসময় শুটিং সেট থেকে প্রেম শুরু হয়েছিল তাদের। প্রেমের সম্পর্ক থেকে এক ছাদের নীচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। ২০২২ সালের গোড়ার দিকে আইনি বিয়ে সারেন । ২০২২ সালের শেষের দিকে সামাজিক বিয়েরও কথা চলছিল। কিন্তু না, সে বিয়ে হয়নি। তবে মাঝে এসেছিল তিক্ততা। সেই সময় থেকে তাদের ডিভোর্সের কথা শোনা গেলেও নিজেরাই সবকিছু মিটিয়ে নিয়েছিল। ‘জল থৈ থৈ ভালোবাসা’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তারা। সেখান থেকে শুরু হয় সমস্যা। অবশেষে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ে ভাঙা নিয়ে অর্ণব কখনই মুখ খোলেননি। তবে সিরিয়াল শেষ হতেই ইপ্সিতা বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খোলেন ইপ্সিতা।
সেই সময় টলিটাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অকপট অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, “অর্ণবের মনে হয়েছিল আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব না। আমাদের একসঙ্গে থাকা সম্ভব হবে না কোনও ভাবেই। আমি কেবল ওর মনে হওয়াটাকে সম্মান করেছি।” সেই সময় অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করা হয় তিক্ততা কি মিটেছে? ইপ্সিতা জানিয়েছিলেন, “যে খারাপ করেছে, কার কাজে অন্য কেউ কষ্ট পেয়েছে সে সেটার শাস্তি পাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”
আনন্দবাজার অনলাইনের সাক্ষাৎকারে বিয়ে ভাঙা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “বিয়ের ছ’মাসের মাথায় বুঝতে পেরেছিলাম, অনেক কিছু ঠিক নেই। সমস্যা হচ্ছিল। তখনই সিদ্ধান্ত নিই আমরা, আইনি বিয়ে ভেঙে বেরিয়ে আসব। এর পর সমস্যার সূত্রপাত যাদের কারণে, তারা এগিয়ে আসে। আশ্বাস দেয়, পরিস্থিতি বদলে যাবে। আমরাও ঠিক করি, আরও এক বার চেষ্টা করে দেখা যাক। সেই চেষ্টা আপ্রাণ করেছি আমি। কিন্তু চিড় খাওয়া দাগটা রয়েই গিয়েছে। হাজার চেষ্টা করেও মোছা সম্ভব হয়নি। তখন দুজন সিদ্ধান্ত নিই সম্পর্কের বোঝা বয়ে বেড়ানোর কোনও অর্থ নেই।”
সেই সময় অভিনেত্রীকে জিগেস করা হয় ইপ্সিতা নতুন জীবনের কথা আর ভাবছেন কিনা? অকপটে অভিনেত্রী জানান, “ভাবব। তার জন্য সময় লাগবে। আমরা মেয়েরা তো পরকেই আপন বলে আঁকড়ে ধরি। আমিও সেটাই করেছিলাম। পরের বার যাতে আর কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য ভাল করে সব দেখে বুঝে নিতে হবে।”
