‘বাবা মারা গিয়ে আমাকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে… চিকিৎসার খরচে ধার-দেনায় জড়িয়েছি.. বাড়ি বন্ধক দিয়ে ছেলের..’, একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন শিলাজিৎ

শিলাজিৎ মজুমদার

বাংলা ব্যান্ডের জগতে ছকভাঙা গানে দর্শকদের বরাবরই পছন্দের মানুষ শিলাজিৎ মজুমদার। আজকের দিনে সফলতা পেলেও একটা সময় শূন্যে এসে দাঁড়াতে হয়েছিল তাকে। বাস্তব কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে সেই ঘটনাই সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন গায়ক।

শিলাজিৎ জানান, বাবার চিকিৎসার বিল মেটানোর জন্য ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে গিয়ে দেখি কার্ডে কোনো ব্যালেন্স নেই। যাদের কাছেই সাহায্যের জন্য গিয়েছি বা টাকা চেয়েছি, কেউ বিশ্বাস করেনি আমাকে। এমনকি নিজের পরিচিত জগত ও বন্ধুদের কাছ থেকেও সাহায্য পাইনি। বাবা মারা গিয়ে আমাকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন। কারন চিকিৎসা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তখন সামর্থ্য ছিল না।

‘এমন এক সময় গিয়েছে যখন ছেলের স্কুলের মাইনে দেওয়া বা ভালো স্কুলে ভর্তি করার মতো সামর্থ্য ছিল না আমার, সাধারণ মানুষের ধারণা থাকে তারকাদের জীবন হয়তো সবসময় সচ্ছল, কিন্তু বাস্তবে ছেলের পড়াশোনার বিপুল খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে আমাকে। এমনকি লোন পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। হাল না ছেড়েই লড়াই চালিয়ে গেছি। যাতে আমার ব্যক্তিগত সমস্যা, আর্থিক অভাব কোনটাই আমার সন্তানের ভবিষ্যতের ওপর না পড়ে।’ এই সমস্ত চাপের মধ্যে মানসিক দিক থেকে ভেঙে পরেছিলেন শিলাজিৎ।

কেরিয়ারের মধ্যগগনে এসেও চরম কষ্টে দিন কাটিয়েছেন গায়ক। সেই সময় তিনি গান ছেড়ে মুম্বইতে বিজ্ঞাপনের চাকরিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি মুম্বইয়ের একটি শো-তে গিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তাঁর গোটা দল যখন আটকে পড়ে, তখন চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে বাড়ি পর্যন্ত বন্ধক দিতে হয়েছিল তাঁকে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মর্গেজ লোন নিয়ে তাঁকে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছিল।