সাতসকালেই মিলল দুঃসংবাদ! চিরঘুমে অভিনেতা বিপ্লব দাসগুপ্ত, বর্ষীয়ান অভিনেতার প্রয়াণে টলিপাড়ায় নেমেছে শোকের ছায়া

বিপ্লব দাশগুপ্ত

রাহুলের মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই টলিপাড়ায় ফের দুঃসংবাদ। প্রয়াত বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্ত। সম্প্রতি অভিনেতা সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জি’র ফেসবুক পোস্টের তরফে জানা যায় অভিনয় জগতকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। বাংলা সিরিয়াল থেকে শুরু করে সিনেমা জগতে তার অভিনয় মন জয় করেছিল দর্শকের। আজ সেই অভিনেতা আর নেই। কীভাবে চলে গেলেন অভিনেতা?

গত দেড় বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন অভিনেতা। স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন অভিনেতা। অটোইমিউন ডিজ়িজ়-এ ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রায় দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর শেষ করার পরে সাহিত্য, নাট্যজগৎ ও চলচ্চিত্র দুনিয়ায় পা রাখেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদক্ষ আবৃত্তিকার। তবে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, স্কুল শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু। পরবর্তীকালে ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট এবং তার পরে বিজ্ঞাপন জগতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বিপ্লব। একটা সময়ে অভিনয়কেই তাঁর পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অব টাইম’ ছবির হাত ধরে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের স্মৃতি।

তবে শুধু সিনেমা নয়, ছোট পর্দার দর্শকদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। সাম্প্রতিককালে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠিঝোরা’-তে তাঁর অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সার্থক-এর বাবা অর্থাৎ মৈনাক ঢোলের চরিত্রে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি কাহিনিতে এক আলাদা গভীরতা যোগ করেছিল।

তিনি শুধু একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, আবৃত্তি ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য তাঁকে শিল্প মহলে এক আলাদা উচ্চতায় বসিয়েছিল। বিপ্লব দাশগুপ্ত’র প্রয়াণে টলিউড এক মেধাবী অভিভাবককে হারালো। অভিনয় জগতে এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান।