
দীর্ঘ ১৫ বছরের যাত্রাকে বিদায় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তার হাত ধরেই জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’। তবে মাত্র দুদিনের মধ্যে চ্যানেল সিদ্ধান্ত নিয়ে এই শো থেকে তাকে বাদ দিয়ে দিলেন। তার পরিবর্তে সঞ্চালক হয়ে আসছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের। যা একেবারেই মেনে নেওয়া যায়না।
চ্যানেল তার সাথে ভদ্রতার পরিচয় দেয়নি তাই এবার ‘দিদি নং ১’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন রচনা। ‘এই সময় অনলাইন’-এর সাক্ষাৎকারে চোখে জল নিয়ে অভিনেত্রী জানালেন, ‘অবশেষে আমি মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছি। সব কিছুরই তো একটা শেষ আছে। এ বারের নির্বাচনের ফল বুঝিয়ে দিয়ে গেল, কোনও কিছুই স্থিতিশীল নয়। সবকিছুর ওঠাপড়া থাকে। এক জন যায়, অন্য মানুষ আসে, সেটাই জীবনের নিয়ম। কখনও ভাবা উচিতও নয়, সারা জীবন সব ধরে রাখতে পারব। আমি কি আমার বাবাকে আটকে রাখতে পেরেছি? সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার মানুষকেও তো হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমার পয়েন্ট হলো, কী ভাবে তুমি জার্নিটা শেষ করলে। আমি তো দু’দিন কাজ করিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরের একটা জার্নি। এই সম্পর্কটাকে সম্মান জানানো উচিত ছিল। যেটা ওটা পারেনি।’
অভিনেত্রী আরও জানান, “দিদি নং ১’ আমার কাছে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। সন্তানের মতো ছিল। ছেলের যখন তিন বছর বয়স, তখন থেকে এই শোয়ের সঙ্গে যুক্ত। ছেলেটাকে বড় করলাম, দিদি নং ১ করতে করতে। জীবনের অনেকটা সময় দিয়ে দিলাম ‘দিদি নং ১’-কে। ‘ওই মানুষগুলোর কী হবে বলুন তো? যাঁরা প্রতিদিন আমার সঙ্গে কাজ করত ওই সেটে। মেকআপ ম্যান, হেয়ার ড্রেয়ার তাঁদেরও তো কাজ নেই এখন। পুরো টিমটাকে ধরে দু’দিনের মধ্যে চেঞ্জ করে দিল এ ভাবে?’
কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী সাত দিনের নোটিসে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, , ‘এই নিয়ম আছে আমিও জানি। কিন্তু সেই নিয়ম মেনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রিট করা হবে? যে এত দিন এই শোয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমি শুধু সব আর্টিস্টকে বলতে চাই, কোনও কন্ট্রাক্টে সই করার সময়ে খুব সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, দু’দিনের মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। আমি তো কোনও দিন পড়েও দেখিনি ওই কাগজগুলো। কারণ, ‘দিদি নং ১’ আমার কাছে কন্ট্রাক্টের ঊর্ধ্বে। সন্তানের মতো ছিল। আগামিদিনে আর্টিস্টদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমার সঙ্গে যারা এটা করতে পারে, সবার সঙ্গে পারবে।’
এর আগে মাঝে সঞ্চালিকা অনেক সময় বদলে গেলেও আবার রচনাকে ফেরানো হয়েছে। তবে এবার তিনি আর ফিরবেন না বলেই দাবি করেছেন। চোখে জল নিয়ে জানান, ‘এটা অত্যন্ত ছোট মানসিকতার পরিচয়। ওরা ভাবছে বোধহয় সাংঘাতিক কেউ। যা চাইবে করতে পারবে। ওরা আমার সঙ্গে খারাপ করেছে মানে এই নয় যে আমি শোয়ের খারাপ চাইব। অনেক শুভেচ্ছা রইল দিদি নং ১-এর জন্য। আমি খুব পজ়িটিভ মানুষ। ভবিষ্যতেও অনেক কাজ আসবে। কিন্তু ‘দিদি নং ১’ ইজ় ওভার ফর মি। আর কোনও দিন ওই মঞ্চে দেখা যাবে না আমায়। কোনও দিন ফিরে যাব না। কারণ, যা ওরা করেছে আমার সঙ্গে, সেটা বলার মতো কোনও শব্দ আমার নেই।’
সুত্রঃ https://eisamay . com/
