
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন সংঘশ্রী সিনহা রায়। সিরিয়াল থেকে শুরু করে বড়পর্দা, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে চুটিয়ে কাজ করছেন অভিনেত্রী। বিশেষ বাংলা সিরিয়ালের দর্শকেরা কম-বেশি সকলেই অভিনেত্রীকে চেনেন। নিজের অভিনয় দিয়েই দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।
তবে সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তার জীবন এক তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে। এমনকি অভিনেত্রী কেঁদেও ফেলেন। ঠিক কি ঘটেছে? কলকাতার এক নামী বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে সবাইকে সতর্ক করেন অভিনেত্রী।
ঘটনাটি অভিনেত্রী ৯০ বছরের বৃদ্ধ শ্বশুরমশাইকে ঘিরে। অভিনেত্রীর ফেসবুকে এসে জানান, তার শ্বশুরমশাই একজন প্রাক্তন নেভি কর্মচারী। তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে যাদবপুরের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আটদিন ধরে তিনি সেখানে ভর্তি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসায় রয়েছে গাফিলতি।
সংঘশ্রী বলেন, চিকিৎসার নামে হাসপাতাল থেকে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হচ্ছে। শ্বশুরমশাইয়ের আসলে কি রোগ হয়েছে সেটাই তারা ঠিক ভাবে বলতে পারছে না। কখনো বলছে ক্যান্সার আবার কখনো বলা হচ্ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। সঠিক রোগ না জেনেই একগাদা টেস্ট করানো হয়েছে আর গাদাগাদা টাকা চাওয়া হচ্ছে তাদের কাছে।
অভিনেত্রী আরও বলেন, বেডের বিল আর আসল খরচের বাইরেও অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। সাধারণ তুলো, স্যানিটাইজার এবং ওষুধের নাম করেই আলাদা করে ৪৪ হাজার টাকারও বেশি খরচ নেয় হাসাপাতল কর্তৃপক্ষ। রোগের সুরাহা না করিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালে কর্মকাণ্ডে নাজেহাল গোটা পরিবার।
অভিনেত্রী আরও জানান, নার্সদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা বলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে। ডাক্তারের সাথে সরাসরি কথা বলা অসম্ভব হয়ে উঠছে। আরও বেশ কয়েকজন রোগীর থেকে একই ধরণের অভিযোগ মিলছে। প্রথমে তাদের জানানো হয় শ্বশুরমশাইয়ের কার্সিনামো হয়েছে। যা শুনে গোটা পরিবার ভেঙে পড়ে। পড়ে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে তখন জানানো হয় নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। নিউমোনিয়া বা টিভি হতে পারে। একদিন রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলা হল রোগীর অবস্থা ভালো নয়। আইসিউতে রাখতে হবে। স্বামীকে নিতে দ্রুত হাসপাতালে গেলে তারা জানেন চিকিৎসায় নাকি সাড়া দিচ্ছেন না বাবা। তারা ধরেই নেয় খারাপ খবর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তারপর তাদের আবার দাবি শ্বশুরমশাই ভালো আছেন। কেন এত ইনজেকশন, ওষুধ দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারেনি কেউ। এরপর তারা ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলে হাসপাতাল থেকে চার লক্ষ টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এক নামী হাসপাতালের এরকম দায়িত্ব জ্ঞানহীনতায় রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। এমনকি তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন ভিডিওটি শেয়ার করে বাকিদের সচেতন হতে।
