টাকার অভাবে ঠাঁই হয়নি হাসপাতালে, ফুটপাত থেকে অসহায় অবস্থায় উদ্ধার প্রবীণ অভিনেত্রী

পাভালা শ্যামালা

সম্প্রতি এক প্রবীণ অভিনেত্রীর করুন অবস্থা শোরগোল ফেলেছে নেটপাড়ায়। বার্ধক্যের শেষলগ্নে এসে একসময়ের নামী অভিনেত্রীর এই চরম পরিণতিই দেখিয়ে দিল, স্পটলাইটের আলো নিভে যাওয়ার পর জীবন কতটা কঠিন হতে পারে। ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। বেশ কিছুদিন ধরেই হৃদ্‌রোগের সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কুকাতপল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু বর্তমান কর্পোরেট দুনিয়ায় চিকিৎসার চেয়ে টাকার দাম যে অনেক বেশি, তা হারে হারে টের পেলেন তিনি।

অর্থের অভাব এবং বিমা সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভরতি নিতে স্পষ্ট মানা করে দেয়। এরপর হাসপাতাল থেকেই একটি ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল অভিনেত্রীর জন্য। এখানেই শেষ নয়। মাঝরাস্তায় এসে সেই ট্যাক্সিচালকও অসহায়, অসুস্থ অভিনেত্রীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। ফুটপাতে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা সেই মানুষকে দেখে চট করে চেনার উপায় ছিল না যে, ইনিই এককালে রুপোলি পর্দার জনপ্রিয় বর্ষীয়ান তেলুগু অভিনেত্রী পাভালা শ্যামালা।

পথচারীরা তাঁকে এই অবস্থায় দেখে তড়িঘড়ি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে ‘একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে তুলে দেয়। খবর ছড়াতেই অভিনেত্রীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন প্রযোজক দিল রাজু। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেন তেলুগু ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই।

অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরেই চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ২০২১ সালে নিজের ও মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে জীবনের সমস্ত সম্মান ও ট্রফি পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। তাঁর একমাত্র মেয়েও দীর্ঘদিন ধরে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল যে, মা-মেয়ে যেখানে থাকতেন সেখান থেকে তাঁদের বার করে দেওয়া হয় এবং তাঁরা রাস্তায় এসে বসেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন পাবলা শ্যামলা। বিশেষ করে কমেডি ও মধ্যবিত্ত গৃহিণীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

পাভালা শ্যামালা