“ছিঃ! পায়েল তো সহকর্মী তাহলে…এই মৌসুমী ভট্টাচার্যটা কে?…আপনাকে সুযোগ দিচ্ছি…মিডিয়ার সামনে…,” পায়েল আর মৌসুমীকে একহাত নিলেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়

মৌসুমী ভট্টাচার্য

ফের শিরোনামে জিতু কমল। বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা অভিনেতা। ৪ এপ্রিল প্রয়াত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর বিচারের পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছিলেন সকলে। জিতুও নিজের মতো প্রতীকী প্রতিবাদ জানান রাহুলের পাশাপাশি নিজের ছবিতেও মালা পড়ান। সেই প্রতিবাদ শুধু নিজের স্বার্থের জন্য ছিল না। ছিল ইন্ডাস্ট্রির সকলের জন্য যাতে আর কাউকে অবহেলা না সইতে হয়।

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আবার বিতর্ক সৃষ্টি হল অভিনেত্রী পায়েল দে’র করা মন্তব্য ঘিরে। এতদিন পর আচমকাই ফেসবুক পোস্টে জিতুর সেই ছবি পোস্ট করে তিনি নাম না করেই গাছের তলায় রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ফেলে আসায় অভিযোগ জানায়। আর তারপরেই অভিনেতাকে নিয়ে শুরু বিতর্ক। পায়েল অভিযোগ আনে জিতু নিজের ছবি নিয়ে যায় কিন্তু রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ফেলে আসে। তবে অভিনেতা জানিয়েছে তিনি নিজের ছবি রাহুলদার ছবিও রেখে এসেছিলেন যাতে আর্টিস্ট ফোরামের চোখে পড়ে।

পায়েলের পোস্টে অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য কমেন্ট বক্সে লেখেন, ‘জীতু নামের ছেলেটিকে যেদিন পাব বুঝিয়ে দেব। ভগবান করুক ওর মুখটা যেন দেখতে না হয়।’ একদিকে যখন জিতুকে নিয়ে বিপক্ষে মন্তব্য করছেন টলিপাড়ার একাধিক তখন পাশে দাঁড়ালেন সুদীপা চট্টোপাধ্যায়।

নিজের ফেরসবুকে জিতুর ছবি পোস্ট করে, একজন দর্শক হিসাবে সকলের সামনে কিছু প্রশ্ন রাখলেন। সুদীপা লেখেন, “জিতু কমল এই নামটার সাথে আমি বহুদিন পরিচিত। স্বল্পসময়ে এরকম উত্থান খুব কম মানুষের দেখেছি…আমি অতি সামান্য একজন দর্শক হিসেবে,কয়েকটা প্রশ্ন আমাদের film and television ইন্ডিস্ট্রির কয়েকজন প্রতিবাদী মুখের সামনে তুলে ধরতে চাই। উত্তর দেওয়া না দেওয়াটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। পায়েল দে এবং মৌসুমী ভট্টাচার্য্য- এই দুই অভিনেত্রীর দুটি বক্তব্য শুনে বেশি অবাক হলাম । হতাশ ও বটে।

১)প্রকাশ্যে এরকম কাদা ছোঁড়াছুড়িটা কি কাম্য ছিলো?
২) অন্য কোনও ইন্ডাস্ট্রিতে এরকম হয়? আমরা কি জানতে পারি- কোন bank কর্মীর সাথে,কোন bank কর্মীর প্রকাশ্যে এরকম জুতো ছোঁড়াছুড়ি করছে?
তাহলে এটাকে ‘indistry’ বলছি কেন?
৩) জিতু কামাল নামক অভিনেতা already একজন প্রমানিত ভালো মাপের অভিনেতা । তার কিছু ভুল হয়ে থাকতেই পারে । তার বিরুদ্ধে facebook এ বক্তব্য রাখতে হবে কেন?
পায়েল বোধহয় একই সেটে অভিনয় করেন । সামনাসামনি বলতে পারতেন সরাসরি? ফোন নাম্বার ছিলো না নিশ্চয়ই?
সহকর্মীকে তো সামনেই বলতে পারতেন?
৪) মৌসুমী ভট্টাচার্য্য কে বলুন তো?
তাঁর,মনে রাখার মতো ৫ta কাজ কেউ বলতে পারবেন?
তাঁর কথা আমরা শুনবো কেন?
তিনি বলছেন-“….এই জিতু কামালকে সামনে পেলে…”
কি করবেন? মহিলা হওয়ার সব রকমের সুবিধা নেবেন?
এরকমভাবে কাউকে বলা যায়? West Bengal Motion Picture Artists’ Forum এর কাছে অভিযোগ জমা দিতে পারি কি?
৫) মৌসুমি- আপনাকে চলুন একটা সুযোগ দিচ্ছি । কবে, কোথায় আপনি আমাদের ভাতৃসম বন্ধু জিতু কামালকে- “একা” সামনাসামনি পেতে চান,বলুন?
মিডিয়া সামনে থাকবে । আপনি কি করবেন,আমরাও দেখতে চাই । আর ইতিহাস বইটা একটু ঝালিয়ে নেবেন । সব প্রশ্ন common নাও আসতে পারে । সবশেষে একটাই অনুরোধ-আর্টিস্ট ফোরামের যারা পরিচালন কমিটি তে আছেন, তারা এগুলো সামলান । মানুষ আপনাদের টিকিট কেটে দেখতে আসেন। ভালোবাসেন । কত সন্মান করেন ।
এটা আপনাদের মানায়?? ছিঃ!”
তবে প্রশ্ন থেকেই যায় গত ৪ এপ্রিল ঘটে যাওয়া ঘটনা আজ কেন প্রকাশ্যে অভিনেত্রী পায়েল দে? এতদিন কেন আনলেন না? তাহলে পুরোটাই কি ইচ্ছাকৃত নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় প্ল্যান? এইরকম একাধিক মন্তব্য উঠে আসছে নেটপাড়ায়।