
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক অনবদ্য শিল্পী ছিলেন উস্তাদ রাশিদ খান। তার সুরের জাদুতে আজও অসংখ্য মানুষের মন জয় করে। গত বছর জানুয়ারিতেই স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক পুত্রকে রেখে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। সম্প্রতি তার ছেলে আরমান খান বাবার স্মৃতিচারণায় এমনকি কিছু কথা শেয়ার করেন যা হয়ত অনেকেই জানতেন না।
গায়কের ছেলে আরমান জানান,বাবা মুসলিম ধর্মের হয়েও কোনদিন নিজের ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ করেননি। নিয়মিত কোরান পড়তে দেখা যেত না তাকে। বছরে সুধু ইদের সময় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেন। অন্যদিকে মা (গায়কের স্ত্রী) হিন্দু হওয়ায় বাড়িতে একটি ঠাকুরঘরও বাবা নিজেই তৈরি করে দিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিদিন নিয়ম করে পূজা হত। বাড়িতে ফিরেই বাবা আগে হাত-পা ধুয়ে সেই ঠাকুর ঘরের সামনে জোড় হাতে প্রনাম করতেন, তারপর বাড়ির অন্য কাজে যেতেন। মা আর বাবার একে অপরের ধর্মকে সন্মান করার মানসিকতাই তাদের সংসারের অন্যতম শক্তি ছিল বলে মনে করেন আরমান।
সবশেষে আবেগপ্রবণ হয়ে আরমান বাবার উদ্দেশ্যে জানান, “বাবা, তুমি আরও একবার আমার বাবা হয়ে ফিরো। আমি আবারও তোমার ছেলে হতে চাই। তোমার বকুনি ছাড়া আমি মানুষ হতে পারব না।”
আরমানের কথায়, তাদের পরিবারের কাছে আজও হারিয়ে যাননি তাদের বাবা। তাই বাড়িতে প্রতি বছরের মত বাবার জন্মদিন পালন করা হয়। সেইদিন বাবার প্রিয় বিরিয়ানি এবং শাম্মি কাবাব রান্না হয় বাবার বিশেষ রেসিপি মেনে।
