
শাহরুখ খানের ব্লকবাস্টার ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর ‘ছোট্ট অঞ্জলি’র চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন অভিনেত্রী সানা সঈদ। সেই সময় মাত্র ৮ বছর বয়সে শিশু শিল্পী হিসেবে বলিউডে সাড়া ফেলেছিলেন সানা। সেই ছোট্ট অঞ্জলি আর নেই ছোট্টটি। এখন তার ৩৬ বছর। পর্দার সেই হাসিখুশি মেয়েটি যে বাস্তব জীবনে দীর্ঘদিন ধরে এক ভয়ঙ্কর লড়াই লড়ছিলেন, তা হয়তো কেউই আন্দাজ করতে পারেনি।
মারাত্মক জটিল রোগে আক্রান্ত সানা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘ লড়াই সম্পর্কে মুখ খুললেন সানা। জানালেন, শৈশব থেকেই তিনি এক মারাত্মক ইটিং ডিসঅর্ডার বা খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত মানসিক ব্যাধি—‘বুলিমিয়া’-র সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন তিনি। ছোটবেলায় এই রোগ সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না। ফলে বহু বছর ধরে তিনি বুঝতেই পারেননি ঠিক কী সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, বুলিমিয়া নার্ভোসা (Bulimia Nervosa) হল একটি গুরুতর মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথমে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন এবং পরবর্তীতে ওজন বাড়ার ভয়ে নিজেই জোর করে বমি করে বা অন্য কোনও উপায়ে সেই খাবার শরীর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
জটিল অসুখ সম্পর্কে সানা বলেন, “আমি সবসময় একটা ভয়ে ভুগতাম। সারাক্ষণ মনে হতো কেউ বুঝি আমার ঘরে ঢুকে পড়বে এবং ভাববে যে আমি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলছি। তাই আমি সবসময় লুকিয়ে লুকিয়ে খেতে চাইতাম। বছরের পর বছর আমি এই যন্ত্রণার সঙ্গে বেঁচেছি, আর ভেবেছি আমার ভেতরেই হয়তো বড় কোনও সমস্যা রয়েছে। আমি নিজেকে বোঝাতাম যে এটা হয়তো সাধারণ কোনও সমস্যা, কিন্তু বুলিমিয়া নয়। কারণ নিজের কাছে এটা স্বীকার করা অসম্ভব কঠিন ছিল। ছোটবেলায় আমি এই রোগের নামই শুনিনি। যদি শুনতাম, তবে হয়তো অনেক আগেই এর চিকিৎসা করাতে পারতাম।”
তবে এখন এই মরণব্যাধি থেকে পুরোপুরি মুক্ত সানা। অভিনেত্রীর কথায়, ‘দীর্ঘ সময় একা একা নীরবে আমি এই ট্রমা বয়ে বেড়িয়েছি। আজ আমি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিজের শরীর ও জীবন নিয়ে আমি অত্যন্ত সুখী। যারা এই ধরণের লড়াই লড়ছেন, তাঁদের বলব— লজ্জা না পেয়ে নিজের বিশ্বস্ত মানুষের সাথে কথা বলুন এবং চিকিৎসকের সাহায্য নিন। আপনারা সুস্থ জীবন পাওয়ার যোগ্য।’

View this post on Instagram
