‘আমার মায়ের মুখ চোখ বিকৃত করে… মায়ের মৃত্যুর দু’মিনিট আগে… এসব নোংরামি সহ্য করব না… দোষীরা শাস্তি পাবেই…’, সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রেরণা ভট্টাচার্য

প্রেরণা ভট্টাচার্য

অভিনেত্রী এশা ভট্টাচার্য বর্তমানে ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন। দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি। আর এই মুহুর্তে তার শারীরিক অবস্থার আপডেট নিয়মিত সমাজমাধ্যমে তুলে ধরছেন মেয়ে প্রেরণা ভট্টাচার্য। তবে সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে সাইবার ক্রাইম এর অভিযোগ আনলেন অভিনেত্রী প্রেরণা ভট্টাচার্য! যা রীতিমত হইচই ফেলেছে নেটপাড়ায়।

মায়ের গুরুতর শারীরিক অবস্থার এই কঠিন সময়েও কিছু অসাধু সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়ো ও বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিনেত্রী জানান, তার এবং তার পরিবারের ছবি বিকৃত করে কিছু মানুষ নিজেদের ভিউজ বাড়াচ্ছে। প্রেরণার দাবি, তাঁর মাকে মৃত বলে প্রচার করা হচ্ছে, এমনকি পরিবারের সদস্যদের কান্নার এআই-তৈরি বিকৃত ছবি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

প্রেরণার অভিযগ, ‘আমার বাবা-মায়ের ছবি বিকৃত করা হচ্ছে সেখানে নোংরা ক্যাপশন অ্যাড করে মানুষ আমার ভিডিওই পোস্ট করছে। আমার অনুমতি ছাড়া এই সমস্ত করা এক ধরনের সাইবার ক্রাইম। এমনভাবে আমার মুখ চোখ আমার মায়ের মুখ চোখ বিকৃত করেছে যেটা দেখতে অত্যন্ত ঘৃণ্য। সেখানে তারা ক্যাপশন দিচ্ছে, মায়ের মৃ’ত্যুর দুমিনিট আগে, মায়ের মৃ’ত্যুর সময়ের মুহূর্ত ইত্যাদি।

প্রেরণা আরও বলেন, ‘এরা হয়তো আদতেও জানে না যে আমার মায়ের কি হয়েছে। আমার মা অনেক কষ্ট করে সুস্থ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ কয়েক বছর আমার মা অনেক কষ্ট পেয়েছে। এখন একটু একটু করে আবার নিজের জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। আর সেখানে কিছু মানুষ এই সমস্ত নোংরামি করে বেড়াচ্ছে। অন্য মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। এগুলো আমি কোনভাবেই সহ্য করব না।’

প্রেরণা জানান, ফেসবুকে তার একমাত্র অ্যাক্টিভ প্রোফাইল এটাই যেটা দিয়ে তিনি তার লাইভ ভিডিও শেয়ার করছেন। এছাড়া যদি তার নামে কোন প্রোফাইল দেখা যায় এবং সেখানে যদি কোন বিকৃত ছবি থাকে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে জানো সেটিকে রিপোর্ট করা হয়।

প্রেরণা আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দায়ীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শেষে সকলের উদ্দেশে অভিনেত্রীর অনুরোধ, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও বা তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস বা শেয়ার করবেন না। কারণ, একজন চিকিৎসাধীন মানুষ এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে এভাবে ভুয়ো প্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।