‘দাদা মেয়েটাকে অবহেলা করেছে.. জন্মদিনে ডাকলেও যেত না.. বউয়ের সঙ্গে ঝামেলা করে মেয়েটার সাথে…’, মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না প্রসেনজিৎ! ভাইঝিকে নিয়ে সত্যি ফাঁস করলেন পল্লবী

পল্লবী চট্টোপাধ্যায়

সম্প্রতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের পরিবারের নানা অজানা দিক তুলে ধরলেন বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। ভিকি লালওয়ানির পডকাস্টে বাবা ও দাদাকে নিয়ে একাধিক কথা বলেন, যা রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

পল্লবীর দাবি, দাদা প্রসেনজিতের সঙ্গে রোজ সকালে ‘গুড মর্নিং’ ম্যাসেজ বিনিময় ছাড়া সেভাবে আর কথা হয় না। এমনকী, বিভিন্ন কাজে প্রসেনজিৎ বাড়ি এলেও, পল্লবীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন শুধু রাখি আর ভাইফোঁটায়। সেভাবে ফোনেও কথা হয় না তাঁদের।

তৃষানজিৎ ছারাও প্রসেনজিৎ আগের পক্ষের কন্যা সন্তানও আছে। যদিও মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই নেই ‘ইন্ডাস্ট্রি’র। প্রসেনজিতের মেয়ে প্রেরণার সম্পর্কে বলতে গিয়ে পল্লবী বলেন, ‘অনেক লোক দু বার, তিন বার, দশ বার বিয়ে করে, তাতে কি! আপনি সেটাই করুন যেটা আপনার ভালো লাগে। আমি শুধু মনে করি, বাচ্চাকে অবহেলা করবেন না। কারণ সে আপনার মর্জিতে এই পৃথিবীতে এসেছে। আপনার বউয়ের সঙ্গে মতানৈক্য হতে পারে। বাচ্চার কী দোষ।’

প্রসেনজিতের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে পল্লবী আরও বলেন, ‘ওরা দুজনেই লন্ডনে থাকে। আমার বউদি বিয়েও করে নিয়েছে। সুখে আছে। প্রেরণা মায়ের সঙ্গেই থাকে। আমাদের নিয়মিত কথা হয়। কলকাতা এলে আমরা দেখাও করি। আমরা একসঙ্গে বেরই।’

কখনো দাদার সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে পল্লবীর থেকে জবাব আসে, ‘আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম দাদাকে, কেন আপনি মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। তাতে জবাব এসেছিল, অপর্ণা চায় না দাদা যোগাযোগ রাখুক।’

পল্লবীর কথায়, ‘আমার ভাইঝি খুব সেন্সেটিভ কিড। ভীষণ ম্যাচিওরড। ছোটবেলায় ওর জন্মদিনে ডাকত, দাদা যেত না। তারপর থেকে ওরাও এই চ্যাপ্টারটা ক্লোজড করে দিয়েছে। দেখুন আজকের দিনে ইচ্ছে থাকলেই যোগাযোগ করা যায়। আমরা অপরিচিতের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারি। ইনস্টা ফেসবুকে ম্যাসেজ করা যায়। মন থেকে চাইলেই হয়। জানি না কেন দাদা করেন না! হতে পারে ওঁর মতে এটাই আমার পৃথিবী, ছেলে-বউ।

তবে আমি আর দাদা দুজনে আলাদা মানুষ। আমাদের ভাবনা আলাদা। তবে দাদা যদি কোনোদিন মেয়ের সঙ্গে দেখা করে, তাহলে আমি খুব খুশি হব। বাচ্চাটার জন্য খুশি হব। কারণ আমাকেও তো এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাই আমি বুঝি।’

ভাইঝির সঙ্গে কথা হয় প্রসেনজিৎকে নিয়ে? প্রেরণা বাবাকে ভালোবাসে, মিস করে? তাতে পল্লবী জানান, ‘জানি না বাবাকে ভালোবাসে কি না! কারণ কখনো বাবাকে নিয়ে কথা বলে না। ছোটবেলা থেকে যে শুধু রিজেকশন পেয়ে এসেছে, সে কী করে ভালোবাসবে। রক্তের সম্পর্ক দিয়ে ভালোবাসা হয় না, ভালোবাসা তো হৃদয় থেকে আসে।’

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম অপর্ণা গুহঠাকুরতা। তাঁদের দুজনের একমাত্র মেয়ের নাম প্রেরণা চট্টোপাধ্যায়। ডিভোর্সের পর অপর্ণা মেয়ে প্রেরণাকে নিয়ে লন্ডনে চলে যান। একাধিক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা মেয়ের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যদিও পল্লবীর এই সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট দাবি, প্রেরণার সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো চেষ্টা হয়নি অভিনেতার তরফ থেকে।