
এক মাস হয়ে গেল ভাই নেই, কিছুতেই যেন মেনে নিতে পারছেন না দাদা অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুলের চলে যাওয়ার হারানোর যন্ত্রণা আজও দ্গদ্গে। আনন্দ বাজার অনলাইনের কাছে মুখ খুললেন অভিনেতার দাদা।
অনির্বাণ বলেন, “হয়তো আমি পুলিশে এফআইআর করিনি। কিন্তু আমি চাই সঠিক তদন্ত হোক। আমার ভাইকে কী করে হারালাম? সেই উত্তর চাই আমি।” তিনি এক সংবাদমাধ্যমের কাছে আরও জানান, “গত ১৪ বছর ধরে আমি বাড়ির বাইরে। মা আর ভাই-ই তো একসঙ্গে থাকত। সারা ক্ষণ মায়ের সুবিধা-অসুবিধা, খুঁটিনাটি সবটাই তো ভাই দেখত। আমিও তাই বাইরে কিছুটা নিশ্চিন্তেই থাকতাম। আমার থেকে ছ’বছরের ছোট ছিল ও। আমাদের সম্পর্কটা ছিল স্নেহ আর সম্ভ্রমের। এটা কি ওর চলে যাওয়ার বয়স হল? মাকে তো সামলাতেই পারছিলাম না। এখনও মাঝরাতে ঘুমের মধ্যে মাঝেমাঝে ডুকরে উঠছেন। মা সেদিন ঘুমের মধ্যে বলল, এত আগলে রাখতাম ওকে, তাও ধরে রাখতে পারলাম না!”
তিনি আরও বলেন, “আমি সায়েন্স-টেকনোলজির মানুষ। কিন্তু ভাইয়ের জ্ঞান ছিল বিভিন্ন জিনিস নিয়ে। ‘সহজকথা’ ছাড়াও পরিকল্পনা করেছিল আরও চ্যানেল খোলার। একটার নাম ভেবেছিল ‘অবাক পৃথিবী’। সারা সপ্তাহে অবাক হওয়ার মতো কিছু ঘটনাকে এক জায়গায় করে বলবে বলে ঠিক করেছিল। কত তথ্যচিত্র শুট করার পরিকল্পনা করেছিল। সব কিছু অপূর্ণ রয়ে গেল। আমাদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সে ভাবে কোনও দিন ঝগড়া, মারামারি হয়নি। ভাই আসায় আমি না একটা সঙ্গী পেয়েছিলাম। বিজয়া দশমীর দিন ওর জন্ম হয়, ভোর ৫টার সময়ে। ঠাকুরদা নাম দিয়েছিলেন তাই অরুণোদয়। আর ‘শুকতারা’ থেকে বেছে ডাকনাম দিয়েছিলেন বাবা। তাই এই বছরের পুজোয় কিছুতেই কলকাতায় থাকবেন না মা। আমাকে বলেছেন, পুজোর সময়ে কলকাতায় থাকা মায়ের পক্ষে সম্ভব নয়। ভেবেছি, এমন ভাবে ভিসার আবেদন করব, যাতে ১৬ অক্টোবর ভাইয়ের জন্মদিনে যেন মা আমার ওখানেই থাকেন।”
সহজের প্রসঙ্গে রাহুলের দাদা জানান, “সহজ আমার ভাইপো ও খুব পরিণত, শক্ত। ভাইয়ের কাজের দিন তো আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। দু’জনে মিলে শেষকাজ করেছি। দেখছিলাম ওকে, কী মনের জোর। না, ভাইকে নিয়ে ওর সঙ্গে কোনও কথা বলতে পারিনি। আমরা গান নিয়ে গল্প করেছি। লেখা নিয়ে গল্প করেছি। সহজের মধ্যে ভাইয়ের অনেক ছাপ রয়েছে। বাবিনও তো খুব বই পড়তে ভালবাসত। রবিবার ও চলে গেল। শুক্রবার চারটে বই কিনেছিল। একটা বই কোনও এক জনকে উপহার দেয়। আর তিনটে বই নিজের জন্য রেখেছিল। সেগুলো তো আর পড়া হয়নি ওর। ভাইয়ের ছবির সামনে ওই তিনটে বই রেখে দিয়েছি। খুব আফসোস হচ্ছে। আমরা তো হারিয়েছি কাছের মানুষকে। কিন্তু ভাইয়ের তো কত কী করা বাকি ছিল। কত কী দেখার বাকি ছিল। সহজের বড় হওয়াটা আর দেখা হল না।”
