রসুন স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি সেটা কারোর কাছে অজানা নয়। কারণ স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য এর মধ্যে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি বিদ্যমান । যেমন – প্রোটিন, ফাইবার, ফ্যাট, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট । আমরা অনেক ম্যাগাজিন বা অনেক ওয়েবসাইটে পড়ে থাকি, শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত রসুনের খাওয়া প্রয়োজন। বক্তব্যতে কিন্তু কোনও ভুল নেই । কারণ ভালো থাকতে রসুন খাওয়া সত্যিই দরকার। রসুনে অনেক রোগ ব্যাধি নিরাময় হয় । কিন্তু কথায় আছে সব ভালোর মধ্যেও একটু খুদ থেকেই যায়। তাই এখানেও ব্যতিক্রম নয়, রসুন খাওয়ারও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে তা অনেকেরই অজানা। এই পুষ্টিগুনে সম্পন্ন উপাদানটির রয়েছে অপকারিতা । অতিরিক্ত পরিমাণে রসুন খেলে আমাদের কিছু সমস্যা দেখা যেতে পারে । তাই জেনে নিন কাঁচা রসুন খাওয়ার অপকারিতা গুলি কি কি –
কাঁচা রসুন খাওয়ার অপকারিতা
কাঁচা রসুন বেশি পরিমাণে খেলে নানা ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে । কাঁচা রসুন খাওয়ার অপকারিতা নীচে দেওয়া হল –
মাইগ্রেনের সমস্যাঃ
রসুন বিশেষ করে কাঁচামালটি গ্রহণ করার ফলে মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগতে পারেন। দিনে এক – দু কোয়ার বেশি রসুন খাওয়া উচিত নয় । যদিও এটি সরাসরি মাইগ্রেনের মাথা ব্যথা সৃষ্টি করে না। এর জন্য সক্রিয় প্রক্রিয়াটিকে দায় করা হয় ।
ত্বকে দাগের সমস্যাঃ
অতিরিক্ত পরিমাণে রসুন সেবন করলে ত্বকের জ্বালা এবং দাগ হতে পারে । রসুন অ্যালিনেজ নামক এনজাইম বহন করে যা ত্বকের দাগ সৃষ্টির মূল কারণ। এছারাও অনেকে রসুনের গাঢ় পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগায় কিন্তু এটি ত্বকের জন্য অসুরক্ষিত। গাঢ় রসুনের পেস্ট লাগালে ত্বকে জ্বলে যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ নোটস
রসুন কাটার সময় হাতে গ্লাভস পড়ার অভ্যাস করুন । কারণ এতে উপস্থিত এনজাইম তেজস্ক্রিয় পদার্থ ত্বকে চুলকানি হতে পারে।
লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেঃ
মানব দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল লিভার । অত্যাধিক পরিমাণে রসুন রান্নায় ব্যবহার করলে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হলেও একটি গবেষণা অনুযায়ী, লিভারের বিষাক্ততার কারণ হল অতিরিক্ত পরিমাণ রসুন।
অ্যালার্জির সমস্যাঃ
অ্যালার্জির অন্যতম কারণের মধ্যে কাঁচা রসুন একটি । তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের অতিরিক্ত কাঁচা রসুন না খাওয়াই সর্বোত্তম।
অত্যাধিক পরিমাণে ঘাম হয়ঃ
নিয়মিত কাঁচা রসুন খেলে অত্যাধিক পরিমাণে ঘাম হওয়ার সম্ভবনা থাকে । বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল স্টাডিজে কিছু রসুন খাওয়ার অপকারিতা দেখা গেছে, তার মধ্যে একটি ঘাম হওয়া ।
রক্তপাত ঝুঁকি বাড়াতে পারেঃ
মাত্রাতিরিক্ত রসুন সেবন করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে । যারা ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগেল এবং অ্যাসপিরিন ওষুধ খান তারা অতিরিক্ত রসুন খেলে রক্ত পাতলা হয়ে রক্তপাত বাড়তে পারে।
সুপারিশ নিবন্ধন :-
- চুল পাকার কারণ এবং চুল পাকা থেকে মুক্তির উপায় জেনে নিন
- ত্বকের যত্নে শসাঃ ত্বকের যত্নে শসা ব্যবহারের উপকারিতা
- জানলে অবাক হবেন ঘরোয়া টোটকায় খুশকি দূর করার উপায়
- সিদ্ধ রসুনের উপকারিতা জেনে নিন
- ত্বকের যত্নে কমলালেবুঃ ত্বকে যত্নে কমলালেবুর ফেস প্যাক
- ত্বকের যত্নে সরিষার তেল ব্যবহারের আশ্চর্যজনক উপকারিতা
ডায়রিয়া হতে পারেঃ
ডায়রিয়ার পেছনে একটি কারণ হল মাত্রাতিরিক্ত রসুন । রসুনে উপস্থিত সালফার পেটে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ডায়রিয়া একবার আক্রন্ত রোগীদের রসুন খাওয়া থেকে দূরে থাকাই ভালো।
দুর্গন্ধঃ
খারাপ গন্ধ বা খারাপ শ্বাস একমাত্র কারণ হতে পারে রসুনে থাকা সালফার । বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করে যে, মুখের দুর্গন্ধে পিছনে মূল কারণ। খারাপ শ্বাস অস্বস্তিকর হতে পারে। এর জন্য সতর্ক থাকাটা প্রয়োজন।
সার্জারিতে রসুন খাওয়ার অপকারিতাঃ
অনেকেরই হয়তো জানে না অতিরিক্ত রসুন সেবন করলে রক্তের প্রবাহ বেশি হয়। তাই নির্ধারিত সার্জারি আগে কমপক্ষে দুই বা তিন সপ্তাহে আগে রসুন খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
বাচ্চাদের জন্য রসুনঃ
বাচ্চাদের জন্য রসুন অল্প পরিমাণের জন্য নিরাপদ । বেশি পরিমাণ রসুন বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ নয়। কিছু উৎস থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত পরিমাণ রসুন বাচ্চাদের জনা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
রসুন খাওয়ার অপকারিতা এই নিবন্ধন থেকে জেনে গেলেন। এবার শরীর সুস্থ রাখতে রসুনের পরিমাণ খাবার থেকে স্বল্প করে দিন।
রসুন একেবারে খাওয়া বন্ধ হয়তো করা সম্ভব নয় তবে পরিমাণ অল্প করাই যায়।