‘আমার বড় অসুখ… মানসিক যন্ত্রণা কাটাতে… জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে…’, মুখ খুললেন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু

বিশ্বনাথ বসু

বাংলা টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম পরিচিত মুখ বিশ্বনাথ বসু। সিনেমা থেকে সিরিয়াল অভিনেতার অভিনয়ে মুগ্ধ বাংলার দর্শক। অভিনয়ের বাইরে পরিবারকে নিয়ে সাদামাটা জীবনযাপনই পছন্দ অভিনেতার। তবে অভিনয় জীবনে এসেই এক ভয়ঙ্কর অসুখে পরেন বিশ্বনাথ। যার জন্য আফসোসও করতে হয় অভিনেতাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে এসে নিজের সেই অসুখের কথা জানালেন বিশ্বনাথ।

বিশ্বনাথের কথায়, “আমার একটা বড় অসুখ করেছিল, ‘অ্যাওয়ার্ড অসুখ’। ফর দ্য টাইমিং একটা খুব বিখ্যাত অ্যাওয়ার্ড আমাকে দেওয়া হয়েছিল। পরেরবার আমার আরেকটা সিনেমা ছিল, যেটা গ্রাম-শহর মিলিয়ে দেওয়া যেতে পারতো, কিন্তু আমাকে দেওয়া হয় না।”

জীবনে তারকা খ্যাতি পেলেই এমন বহু শিল্পী আছেন যারা পুরস্কারের মোহে জড়িয়ে পড়েন। ঠিক তেমনই একসময় তাঁরও পুরস্কার পাওয়ার এক অদ্ভুত মোহ তৈরি হয়েছিল অভিনেতার। প্রাপ্য স্বীকৃতি না পেয়ে মনে মনে যে আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল, তা তিনি লুকিয়ে রাখেননি। তবে এই মোহ বা মানসিক যন্ত্রণা কাটাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন অভিনেতা রজতাভ দত্ত।

বিশ্বনাথ বলেন, রজতাভ দত্ত বলেছিল, ‘টাকাটা পেয়েছিস? সহশিল্পীর এই বাস্তবমুখী পরামর্শ ও জীবনবোধ বিশ্বনাথকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। পরবর্তীতে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের বাস্তবচিত্র স্বচক্ষে দেখার পর অভিনেতা বুঝতে পারেন যে এই পুরস্কার প্রাপ্তির পেছনে অন্য খেলা থাকে। সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁর চিন্তাভাবনায় বিরাট পরিবর্তন আসে এবং নিজেকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি পুরস্কারের মোহ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসেন।

নিজের উদ্দেশ্যে বিশ্বনাথ নিজেই বলেন, “বিশ্বনাথ তুমি মুখে বলছো যে দর্শক আমার ভগবান, সে আমাকে রোজ ডেকে নিয়ে যায়, আর তার দেওয়া যে তোমার বাড়িতে আর রাখা যাচ্ছে না, দেশের বাড়িতে রাখা হয় যে মেমেন্টোগুলো দেওয়া…ওগুলোকে তুমি বিশ্বাস করো না! কত বড় বদমাইশ তুমি বলো বিশ্বনাথ!”

“আজ থেকে জীবনের লাস্ট দিন, পৃথিবীতে আমি যদি কোনরকম স্বীকৃত কৃত পুরস্কার নাও পাই আমার কষ্ট ১০০ ভাগের মধ্যে দু ভাগ হতে পারে, তার বেশি আর উঠবে না।” প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারের চেয়ে সাধারণ দর্শকের ভালোবাসাকেই তিনি এখন নিজের সেরা প্রাপ্তি বলে মনে করেন।