
টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি বহু জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং তাঁর সাবলীল অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গেও একাধিক ছবিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। তবে শুধু সহ-অভিনেতা হিসেবেই নয়, উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অনেকটাই কাছের।
১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেয়া নেয়া’ ছবির সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল সুন্দর একটি সম্পর্ক। উত্তম কুমারের কাছ থেকে অভিনয়ের অনেক কিছু শিখেছিলেন লিলি চক্রবর্তী। মহানায়কের একটি বিষয় তাঁকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করত। সেটি হল প্রতিটি শট দেওয়ার পর তিনি সহ-অভিনেতাদের কাছে মতামত জানতে চাইতেন।
লিলি চক্রবর্তীর কাছেও একই প্রশ্ন রাখতেন উত্তম, কুমার। ‘দেয়া নেয়া’ ছবির পর থেকেই মহানায়ক তাঁকে স্নেহ করে ‘বৌঠান’ বলে ডাকতেন। উত্তম কুমারের স্ত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গেও লিলি চক্রবর্তীর সম্পর্ক ছিল বেশ ভালো। তবে উত্তম কুমারের নায়িকা সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল ভালো ছিল না। মহানায়িকা-কে নায়িকাকে নাকি এড়িয়ে চলতেন তিনি।
বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর কথায়, ‘সুচিত্রা সেনকে একটু এড়িয়েই চলতাম, কারণ একটা সময় তিনি চিনেও চিনতেন না। একবার আমি আর আমার স্বামী ও পরিচালক অজয় বিশ্বাসের সঙ্গে, দক্ষিণেশ্বরে গিয়েছি, সুচিত্রা সেনও গিয়েছিলেন, দূর থেকে এমন আবভাব করলেন যেন আমাকে দেখতেই পাননি।‘ একসঙ্গে ছবিতে অভিনয় করলেও তাঁদের মধ্যে সেভাবে ব্যক্তিগত আড্ডা জমত না।
অন্যদিকে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া দেবী ও লিলি চক্রবর্তী শুটিং শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে গল্প করতেন। সুচিত্রা সেন রিহার্সাল ছাড়া মেকআপ রুম থেকে বেরোতেন না। এমনকি মহানায়িকার জন্য এক ছবি থেকে বাদও পড়েছিলেন লিলি চক্রবর্তী।
