
বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর সহজ-সরল স্বভাব এবং মাটির মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার মানসিকতাও বরাবরই দর্শকদের নজর কেড়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে কিছু নীতি মেনে চলেন অভিনেতা যা তনি ভাঙতে একেবারেই নারাজ। যার কারনেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন অভিনেতা।
কলকাতার ব্যস্ত জীবনের মাঝেও নিজের গ্রামের টান কখনও ভুলে যাননি অভিনেতা। উত্তর ২৪ পরগনার আরবেলিয়ায় তাঁর পৈতৃক বাড়ি এখনও তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা। বিশ্বনাথের কাছে গ্রামের দুর্গাপুজো শুধুই উৎসব নয়, এটি তাঁদের পরিবারের কয়েক শতকের ঐতিহ্য। তাঁদের বাড়ির দুর্গাপুজোর বয়স প্রায় ৩৫৫ বছর। তাই পুজোর প্রস্তুতির প্রতিটি খুঁটিনাটির সঙ্গেই আজও জড়িয়ে রয়েছেন তিনি। পুজোর এই কয়েকটা দিন তিনি নিজের কাজের জগত থেকে একেবারেই সরে থাকেন। এবার এই দুর্গাপুজো প্রসঙ্গেই কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন অমিতাভ বচ্চনের কথা।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে পুজো প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বনাথ বলেন, ‘আমি ৩৬০ দিন কাজে থাকতে পারি কিন্তু ষষ্ঠীর সকাল থেকে একাদশী সকাল পর্যন্ত আমাকে পাওয়া যাবে না। ওই পাঁচটা দিন আমি একেবারেই থাকি না। আমাকে যদি অমিতাভ বচ্চনের ছেলের চরিত্রেও নেওয়া হয় তাও আমি যাব না, আমাকে যদি কোটি কোটি টাকা অফার দেওয়া হয় তাও আমি যাব না। এই কথাটা সকলেই জানে। অনেকে আমার হয়েও বলে দেয় যে বিশ্বনাথ পুজোর সময় কাজ করে না
আর এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনও আপস করতে নারাজ বিশ্বনাথ। পুজোর সময় বড় কোনও কাজের সুযোগ এলেও গ্রামের পুজো ছেড়ে যেতে চান না তিনি। কারণ তাঁর কাছে অর্থের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পৈতৃক বাড়ি, পরিবারের ঐতিহ্য এবং নিজের গ্রামের সঙ্গে সেই গভীর সম্পর্ক। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও নিজের গ্রামের মানুষ হয়ে থাকার যে টান, সেটাই যেন বিশ্বনাথের কথায় বারবার ফুটে ওঠে।
পুরনো দিনের নানা স্মৃতিও এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। একসময় গঙ্গার জল আনতে প্রায় ৫০-৫৫ কিলোমিটার দূরে ব্যারাকপুর পর্যন্ত গরুর গাড়িতে যাওয়া হত। সেই সময় ব্যবহৃত বড় ‘জ্বালা’ এখনও তাঁদের বাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে। শুধু দুর্গাপুজো নয়, গ্রামের মনসা পুজো, কালীপুজো, সরস্বতী পুজো, শিবরাত্রি কিংবা দোল—বছরের একাধিক ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গেই বিশ্বনাথের গভীর যোগাযোগ। তাই পেশাগত ব্যস্ততা যতই থাকুক, পুজোর কয়েকটি দিন তিনি গ্রামের জন্যই রাখতে চান।
