
বড় দুঃসংবাদ সঙ্গীতজগতে। চিরকালের মতো সুরের জগৎ থেকে বিদায় নিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী। শতবর্ষ পেরিয়েও যিনি নিয়মিত রেওয়াজ, গবেষণা এবং সঙ্গীতচর্চায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন, তাঁর বিদায়ে এক ঐতিহ্যের অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
দিন কয়েক আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ধরা পড়লে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। গত ৮ জুলাই থেকে কোমরের হাড়ে সমস্যার কারণে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় শিল্পী।
টিভি নাইন বাংলাকে শিল্পীর ছেলে শান্তনু জানান, ‘প্রথমে হিপ বোন ভেঙেছিল। অপারেশন হয়। বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তারপর আবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বেশ কয়েক দিন এসএসকেএম-এ ছিলেন। আজ দুপুর আড়াইটের সময়ে হার্ট অ্যাটাক হয়।’ গুরুপূর্ণিমার পূণ্যতিথি, শিষ্যাদের ঢল নামার কথা ছিল গুরুর চরণে। কিন্তু দিনটাই বদলে গেল গভীর এক বিষাদে। জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন, প্রয়াত পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়।
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে ১০০ বছরে পা দিয়েছিলেন তিনি। শতবর্ষ ছোঁয়ার পরও, গলায় বা রেওয়াজে এতটুকু মরচে পড়তে দেননি তিনি। গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে নিজের শতবর্ষ উদযাপনের দিনটিতেও টানা ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে বেহাগ রাগ গেয়ে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে।
ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে সঙ্গীতের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কিছুদিন সরকারি চাকরি করলেও শেষ পর্যন্ত সঙ্গীতকেই জীবনের একমাত্র ব্রত হিসেবে বেছে নেন। পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু হল না, বাংলা তথা ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত হারাল এক চলমান প্রতিষ্ঠানকে। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গবেষণা, তাঁর শিক্ষাদান এবং তাঁর সঙ্গীতভাবনা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে যাবে।

