
মাঠের বাইশ গজ হোক কিংবা টেলিভিশনের পর্দা, সৌরভ গাঙ্গুলী মানেই এক অন্য ম্যাজিক, ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আইকন। তবে জানেন কি ক্রিকেট বা দাদাগিরির মঞ্চে ছক্কা হাঁকানো এই মানুষটি জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা অর্থাৎ মাধ্যমিকে কেমন ফল করেছিলেন? কত নম্বর পেয়েছিলেন আমাদের সবার প্রিয় ‘দাদা’ সৌরভ?
ছোট থেকেই খেলার কারণে পড়াশুনোয় তেমন সময় দিতে পারতেন না, গৃহশিক্ষক তাকে নিয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন, এমনকী কাছের বন্ধুরাও মাধ্যমিকে তার পাস হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা যাক। বেশ কিছুদিন আগে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে স্বয়ং সৌরভ নিজেই তাঁর মাধ্যমিকের রেজাল্ট এবং সেই সময়ের এক অজানা লড়াইয়ের গল্প খোলসা করেছিলেন।
দাদাগিরির মঞ্চে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সৌরভ জানান, তাঁরা বেশ কয়েকজন সহপাঠী মিলে প্রধান বাবু নামের এক শিক্ষকের কাছে জীবন বিঞ্জান পড়তেন। সেই ব্যাচে বাকি সবাই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। শিক্ষক প্রশ্ন শুরু করার আগেই তাঁরা উত্তর দিয়ে দিতেন। কিন্তু খেলাধুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রশ্নের মুখোমুখি হলেই কিছুই বলতে পারতেন না সৌরভ। একদিন বিরক্ত হয়ে শিক্ষক সৌরভকে বলেই বসেন, “হবে না এরকম করে। তুমি যাও। তুমি পাস করবে না। মাধ্যমিকে কোনও চান্সই নেই।”
অন্যদিকে মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক আগেই এক কঠিন পারিবারিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল সৌরভকে। তার বাবার হার্টের অপারেশনের জন্য মা-বাবা দুজনেই তখন লন্ডনে । বাড়িতে তখন কেবল সৌরভের দিদিমা । সৌরভের নার্সারি জীবনের একেবারে ছোটবেলার বন্ধু সমুদ্র গুপ্ত, সেই সময়ে সৌরভের পাশে ছিলেন। সমুদ্র বাবুর কথায়, “মহারাজের তিনতলার ঘরের পড়াশোনা হতো। আমি মাঝে মাঝে ভাবতাম এই ছেলেটা পাস করবে কীভাবে? এ তো কিছুই করেনি, কিছুই পারে না!”
সারা বছর ক্রিকেট খেলার পর পরীক্ষার আগে বন্ধু সমুদ্রের বাড়ি গিয়ে পড়াশোনা করতেন সৌরভ। আর পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন আসে সেই পরম মুহূর্ত, যা ছিল সবার কল্পনার অতীত। বন্ধু সমুদ্রের ভাষায়, অবিশ্বাস্য! আমরা কেউ ভাবিনি মাধ্যমিকে সৌরভে স্টার পাবে। এটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল।” শিক্ষক ও বন্ধুদের সমস্ত সংশয়কে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে মাধ্যমিকে ‘স্টার’ পেয়েছিলেন সৌরভ। স্যারের স্পেশাল ক্লাসের ওপর ভর করেই শুধু পাস করা নয়, বায়োলজিতে রীতিমতো ‘লেটার মার্কস’ তুলে নিয়েছিলেন সৌরভ।
মাথা ঠান্ডা রেখে কীভাবে শেষ মুহূর্তে বাজি মারতে হয় তা আরও একবার প্রমাণ করলেন মহারাজ।
