
অবশেষে ‘আর্য সিংহ রায়’-কে বিদায় জানালেন জিতু কমল। চিরদিনই তুমি যে আমারে জিতুর স্মরণীয় মুহূর্তে ভরা এই যাত্রার শেষ অধ্যায় ঘিরে আবেগে ভাসছেন অনুরাগীরাও। আর্য চরিত্রে অভিনয় করেই যেন অভিনেতার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ ছাপিয়ে গেছে। এই মেগার আসল ম্যাজিক হল ‘আর্য’ চরিত্রটি। যা জিতু ছাড়া একেবারেই সম্ভব ছিল। তার চোখের চাহনি যেন অর্ধেক সংলাপ বলে দেয়।
তবে জিতু ভক্তদের জন্য রয়েছে এবার বড় সুখবর। সম্প্রতি সেই সুখবর নিজেই সকলের সাথে ভাগ করে নিলেন অভিনেতা। সত্যজিৎ রায়ের আদলে তৈরি চরিত্রে অভিনয় করে যিনি রাতারাতি আপামর বাঙালির মন জয় করে নিয়েছিলেন, সেই জীতুর ছবি ফিরছে নন্দনে।
টলিপাড়ার অন্যতম মাইলস্টোন ছবি, অনীক দত্তের ‘অপরাজিত’। অথচ এই ছবি মুক্তির আলো দেখেনি সরকার পরিচালিত সিনেমাহল নন্দনে। বামপন্থী পরিচালক অনীক দত্তর সঙ্গে মমতা সরকারের ঝামেলার খেসারত দিতে হয়েছিল অপরাজিত-র টিমকে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর, দর্শকদের দাবি মেনে নন্দন প্রেক্ষাগৃহে আবারও রি-রিলিজ হতে চলেছে এই ছবি।
২০২২ সালে যখন এই ছবি মুক্তি পায়, তখন নন্দনে ঠাঁই পায়নি। পরবর্তীতে একবার একটি ফিল্ম ফেস্টিভ্য়ালের সুবাদে নন্দনে দু-দিনের জন্য প্রদর্শিত হয়েছিল অপরাজিত। ব্যাস, ওই টুকুই। তবে ২০২৬ সালের জুনে এসে টলিপাড়ার সমীকরণ এক্কেবারে বদলে গিয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৭ই জুন নন্দনে দেখানো হবে অপরাজিত। এই খবর সামনে আসতেই আবেগঘন হয়ে পড়লেন পর্দার ‘সত্যজিৎ রায়’ ওরফে অভিনেতা জীতু কামাল।
এই প্রসঙ্গে জিতু জানান, ‘আমি নিজে শুভেন্দুবাবুকে মেসেজ করেছিলাম। মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই উত্তর পেয়েছি। এই ফেরাটা আমার কাছে অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! প্রযোজনা সংস্থার পাশাপাশি আমি নিজেও মেইল করেছিলাম। অনীকদা যেদিন চলে গেলেন, তার পরের দিনই বৃহস্পতিবার আমি মেসেজ করি মুখ্যমন্ত্রীকে। উনি তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে জানান যে, প্রযোজক এবং পরিচালকের পরিবার যদি রাজি থাকেন, তাহলে অবশ্যই ‘অপরাজিত’কে ফেরানো যেতে পারে। সেই প্রেক্ষিতে সোমবার আমি ফের একবার খোঁজ নিই। আর চব্বিশ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই আজ জানানো হল ‘অপরাজিত’ ফিরছে।’
