
একসময় অতিরিক্ত ওজন বেরে যাওয়ায় হাতছাড়া হয়েছিল কাজ। এমনকি শুনতে হয়েছিল নানা কটাক্ষ। এখানে আকাশ নীলের নায়িকা হিয়া হিসাবে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও আচমকাই যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন অনামিকা চক্রবর্তী। এরপর কিছু পার্শ্ব চরিত্রে দেখা মিললেও নায়িকা হিসাবে অনুরাগীরা তাঁকে দেখতে না পেয়ে হতাশ। এই মুহুর্তে গঙ্গা সিরিয়ালের হাত ধরে ছোটপর্দায় ফিরছেন অনামিকা। এখানেও সাইড রোলেই দেখা মিলবে উদয় ঘরণীর।
অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ওজন বৃদ্ধি নিয়েও চলেছে কানাঘুষো। এতদিন চুপ থাকলেও কামব্যাকের খবর জানানোর পর নিজের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে সব সত্যিটা জানালেন অনামিকা।
অনামিকা জানান, গত দুই-আড়াই বছর ধরে তিনি খুবই অসুস্থ ছিলেন। শুরুতে অনেক ডাক্তার দেখিয়ে ও পরীক্ষা করিয়েও আসল সমস্যা বোঝা যাচ্ছিল না। অবশেষে তিনি থাইরয়েড, হাই কর্টিসল লেভেল, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বাইল্যাটারাল পিসিওডি এবং অ্যান্ডোমেট্রিওসিস রোগে আক্রান্ত বলে ধরা পড়ে।
অনামিকা বলেন, ‘আমার লেফট ওভারি অ্যাটাচড রয়েছে আমার ইউটেরাসের সাথে, সেখান থেকে একটা টিস্য়ু গ্রো করছে। সেটা এই মুহূর্তে সিরিয়াস নয় ওতোটা, তবে কে জানে ভবিষ্যতে কী হবে’। নায়িকা বলেন, ‘আমার কোনও লজ্জা নেই। আমি জানিয়ে দিচ্ছি কেন আমি মোটা হচ্ছি, কেন আমার চোখের তলায় কেন কালি পড়ছে, কেন আমার এইটা (ডবল চিন দেখিয়ে) আছে’।
অনামিকা আরও বলেন, ‘ট্রিটমেন্টই ৬ মাসের। তাহলে রোগা হতে কত সময় লাগবে ভাবো? কারোর বডি তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করে, কারোর বডি তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করে না। আমি ওই ক্যাটাগরিতে পড়ি যেখানে আমার বডি তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করছে না। বাট আই অ্যাম ফাইটিং, আমি মেডিকেশনে আছি, আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওজন বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে ক্রমাগত ট্রলিং ও মানসিক হেনস্তা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনামিকা বলেন, ‘যারা যারা আমাকে হাতি বলো, যারা বলো যে খেয়ে খেয়ে মোটা হচ্ছি… আসলে খেয়ে খেয়ে মানুষ মোটা হয় না। মানুষের ভেতরে নেগেটিভিটি থাকলে, মানুষকে মেন্টালি ট্রমাটাইজ করলে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কথা বললে… তোমরা একচুয়ালি উইক। তোমরা নিজেদের খুব স্ট্রং মনে করো, বাট ইউ গাইজ় আর ফুলস।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে একজন শিল্পীর পরিচয় তাঁর রূপ বা চেহারা নয়, বরং তাঁর অভিনয় দক্ষতা। ‘তোমার অভিনয় তোমার শেষ কথা, তোমার ক্রাফট তোমার শেষ কথা। তোমাকে কেমন দেখতে সেটা শেষ কথা নয়।’
কটাক্ষের বিরুদ্ধে জবাব দিতে অনামিকা বলেন, ‘কতদিন আমি চুপ করে থাকব বা সহ্য করব? তাই আমি ক্লিয়ার করে দিলাম, এডুকেট করে দিলাম। যারা ট্রুল ওয়েলউইশার, তাদের জানা উচিত যে একচুয়ালি আমার কী সমস্যা হয়েছে। আমার মতো এরকম অনেক মেয়েরা আছে যারা সাফার করছে… বাট উই আর ফাইটিং।’
