বাড়ি এসে দেখি সব শেষ! ‘টানা ১৫ দিন হাসপাতালে… দৃষ্টিশক্তি হারান… শেষবারের মত দেখার সুযোগটাও… ১৯ বছর বয়সেই সংসার…’, জীবনের শেষ সময়ে এসে স্বামীকে নিয়ে মুখ খুললেন লিলি চক্রবর্তী

লিলি চক্রবর্তী

টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী৷ অভিনেত্রীর অভিনয়ে মুগ্ধ আট থেকে অষ্টাদশী৷ রূপালী পর্দার সেই আলো ঝলমলে জীবনের নেপথ্যে অভিনেত্রীর বাস্তব জীবনে নিঃশব্দ ত্যাগ ও কঠিন লড়াইয়ের কথা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি নিজের বৈবাহিক জীবন ও মাতৃত্ব নিয়ে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ব্যবসায়ী অজিত কুমার ঘোষের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পরেছিলেন লিলি দেবী। পেশায় ব্যবসায়ী অজিতবাবু স্ত্রীর অভিনয় জীবনের জন্য নিজের সঞ্চিত অর্থ, এমনকি ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছিলেন নিশ্চিন্তে। কাজের ক্ষেত্রে নানা ওঠাপড়ায়ও লিলিদেবী কে সঙ্গ দিয়েছেন তার স্বামী। তাদের কোন সন্তান নেই।

নিঃসন্তান এই দম্পতির সুখের দিন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। চোখের রেটিনা সংক্রান্ত অপারেশনের ভুলের কারণে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করেন অজিতবাবু। জীবনসঙ্গীর এই কঠিন সময়ে অভিনয়ের রঙিন জগত থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন লিলি চক্রবর্তী। একের পর এক কাজের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে স্বামীর সেবাতেই নিজের দিনরাত সঁপে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিণতি তখনও বাকি ছিল।

টানা ১৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছিলেন অজিতবাবু। সেদিন আগেই চুক্তিবদ্ধ হওয়া একটি শুটিংয়ে যাওয়ার আগে লিলি দেবী স্বামীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তিনি কাজ বাতিল করবেন কিনা। কিন্তু স্ত্রীর অভিনয়ের প্রতি টান বুঝে অজিতবাবু নিজেই হেসে বলেছিলেন, “আমি এখন একদম সুস্থ, তুমি শুটিংয়ে যাও”।

কে জানত, সেটাই হবে তাঁদের জীবনের শেষ কথোপকথন! শুটিং ফ্লোরে পৌঁছে একটি শট শেষ হতে না হতেই আসে খারাপ খবর। বাড়ি এসেই দেখেন সব শেষ। বাড়ি ফিরে দরজার সামনে মানুষের ভিড় দেখেই অভিনেত্রী বুঝেছিলেন তাঁর জীবনের একমাত্র সম্বল কে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রক্ষা করতে গিয়ে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটির চোখের দিকে তাকানোর সুযোগটুকুও পাননি তিনি।

২০১০ সালে প্রয়াত হন অভিনেত্রীর স্বামী। আজ ১৬ বছর হয়ে গেছে স্বামীকে হারিয়ে আজ বার্ধক্যের দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে একাকী দিন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী। একাকী জীবনকে একপাশে সরিয়ে রেখে আজও তিনি শুটিং সেটে যান ঠাকুমা বা দিদিমার চরিত্রে অভিনয় করতে। অভিনয়জীবনের খ্যাতির পাশাপাশি স্বামীর প্রতি তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরনার।