
বেশকিছু দিন আগেই বছর তেইশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়নী চক্রবর্তীর আত্মহত্যা নিয়ে হইচই পরে গেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যে ঘটনা এখনও বিশ্বাস হয় না অনেকেরই। সম্প্রতি মেয়ে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই প্রথমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এলেন মা মলি চক্রবর্তী। সকলের সামনেই মেয়ে হত্যাকারীকে অভিশাপ দিলেন সায়নীর মা।
মায়ের ভ্লগে নিয়মিত দেখা যেত সায়নীকে। মা এবং মেয়ের সম্পর্ক যে বন্ধুত্বপূর্ণ, ভিডিয়ো সিরিজ়ে সেটা স্পষ্ট। তবে আজ মেয়েকে ছাড়া প্রথমবার ক্যামেরার সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সায়নীর মা।
মলি বললেন, ‘ভেবেছিলাম আর কখনও ক্যামেরার সামনে আসব না। কারণ, আমার সবটা জুড়ে সায়নী ছিল। ওকে ছাড়া কী করে আমরা আগামিদিনে চলব। বার বার মনে হচ্ছে একবার যদি আমরা ওর সঙ্গে কথা বলতে পারতাম। তা হলে ওকে জিজ্ঞেস করতাম, কেন এত বড় ভুল পদক্ষেপ নিল।’
সায়নীর মৃত্যুর পরে তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল সায়নীর পরিবার। মলিদেবী বলেন, ‘অনেকদিন আগেই ধরা পড়েছে ছেলেটি। জানি না ও কতদিন জেলে থাকবে বা কতটা শাস্তি পাবে। তবে এক অভাগা মা হয়ে মন থেকে অভিশাপ দিচ্ছি, তুই কোনওদিন সুখী হবি না। বেঁচে থেকেও তিলে তিলে মরবি।’
মলির এই লাইভে আসার অন্যতম কারণ তার পোষ্যগুলো। প্রিয় পোষ্যকেও হারিয়েছেন এই কঠিন সময়ে। মলি জানান, ‘ওরা একদম ভালো নেই। সব বুঝতে পারছে। বাড়ির পরিস্থিতি আর দিদি চলে যাওয়ার শোকে চার পাঁচদিন হলো আমার বুজ়োও চলে গিয়েছে। পরী কিছু খায় না। আগের মতো হাসেও না। পরিবারের কারও উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই। কারণ, সায়নী-ই তো আমাদের সব ছিল। অবলা প্রাণীগুলোর জন্য আমি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।’
সবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ার অনুরাগীদের কাছে মলিদেবী একটু সময় চেয়েছেন। প্রিয় পোষ্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে আবারও নতুন ভাবে কনটেন্ট নিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করবেন বলেও কথা দিয়েছেন।
