অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন তার কোনদিনই ছিল না, একটা সময় কলেজের নাট্যদল থেকে যাকে একধাক্কায় বার করে দেওয়া হয়েছিল আজ সেই মানুষটি সারা দেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করেন। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। একের পর এক সুপারহিট ছবিতে অভিনয়ের পর কেরিয়ার যখন সাফল্যের শিখরে ঠিক তখনই অভিনেতার জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। মাঝপথেই চলচ্চিত্র জগৎ ছেড়ে দেন তিনি। জানেন কি কোন জনপ্রিয় অভিনেতার কথা বলা হচ্ছে?
নব্বইয়ের দশকে ‘রোজা’ ও ‘বম্বে’-র মতো ছবি দিয়ে গোটা দেশকে পাগল করে দেওয়া অভিনেতা অরবিন্দ স্বামী। ২০০৫ সালের দিকে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা তাঁর জীবনকে ওলটপালট করে দেয়। এই দুর্ঘটনায় তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান এবং তাঁর একটি পা প্যারালাইসিস হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে তার এক পা প্যারালাইসিস ছিল এবং অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করেন তিনি। তবে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং চিকিৎসার সাহায্যে তিনি এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠেন এবং পুনরায় নিজের পায়ে দাঁড়ান।
অরবিন্দ স্বামী একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাঁর বাবা, অভিনেতা দিল্লি কুমার, তাঁকে অল্প বয়সেই তাঁর পিসি বসন্ত স্বামী এবং মামা ভি. ডি. স্বামীর কাছে দত্তক দিয়ে দেন। ছোটবেলা থেকেই অরবিন্দের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল। বি.কম সম্পন্ন করার পর, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শখের বশে মডেলিং শুরু করেন। এভাবেই কিংবদন্তি পরিচালক মণি রত্নমের চোখে পড়েন তিনি এবং ১৯৯১ সালে সুপারস্টার রজনীকান্তের বিপরীতে ‘থালাপথি’ ছবিতে অরবিন্দকে সুযোগ দেন। এরপর ১৯৯২ সালের ‘রোজা’ ছবিটি ইতিহাস সৃষ্টি করে। তামিলনাড়ু থেকে শুরু করে কাশ্মীর পর্যন্ত অরবিন্দ স্বামীর নাম শোনা যাচ্ছিল সকলের মুখে মুখে। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১৩ সালে মণি রত্নমের ‘কাদাল’ ছবির মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় ফেরেন অভিনেতা।
